‘২২ চুক্তির একটিতেও বাংলাদেশের স্বার্থ নেই’

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকার ২২টি চুক্তি সই করেছে এসব চুক্তির অধিকাংশই ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকার ২২টি চুক্তি সই করেছে এসব চুক্তির অধিকাংশই ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকার ২২টি চুক্তি সই করেছে এসব চুক্তির অধিকাংশই ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ দেখা হয়নি।’

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এমাজউদ্দীন আহমেদ এসব কথা বলেন।

‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রিপন।

উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন- কৃষক দলের নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমতউল্লাহ প্রমুখ।

এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ভারতের কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নাড়ির সম্পর্ক। মোদির সফরে সে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তখনকার কংগ্রেস সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজাতা সিং এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি এরশাদকে হুমকি দিয়ে নির্বাচন অংশ নিতে বাধ্য করেন তিনি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতকে সকল সুবিধা পাইয়ে দিতে বর্তমান সরকার দানবীর হাতেম তা-ই হয়ে বসে আছে। মোদির সফরে ২২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। অথচ এসব চুক্তির একটিতেও আমাদের কোনো স্বার্থ নেই।’

বাংলাদেশের জমিনকে ভারতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজনকে সন্তুষ্ট করতে নিজের উঠান আমি খুলে দিলাম। কিন্তু খোলা উঠানে পা দেয়ার ক্ষমতা আমার আদৌ আছে কিনা তা সরকারের ভেবে দেখা উচিত।’

এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন করেছি। কোনো চুক্তির মাধ্যমে দেশের এক ইঞ্চি মাটিও আমরা কারো কাছে ছেড়ে দেব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার কখনোই চায়নি মোদির সঙ্গে খালেদা জিযার বৈঠক হোক। না চাওয়ার একমাত্র কারণ তাদের জনসমর্থন নেই।’

মোদির সফরে দুদেশের সীমান্ত চুক্তিসহ বিরাজমান সকল সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও সে সম্পর্কে কোনো আলোচনাই হয়নি বলে মন্তব্য করেন এমাজউদ্দীন আহমেদ।

তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত ও তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে যারা কথা বলবেন, তাদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে কিভাবে তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হবে।’

গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে আমরা কিছুই পাইনি এমন বলব না।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদির ১৫ মিনিটের একান্ত বৈঠক হয়েছে। এটি একটি বিরাট প্রাপ্তি। বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে, তা জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি খালেদা জিয়া সময় নষ্ট করেননি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *