হাসিনাকে স্থায়ীভাবে দেশরত্ন উপাধি ব্যবহারের আহ্বান

সৈয়দ শামসুল হক দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশরত্ন উপাধি দেন।

সৈয়দ শামসুল হক দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশরত্ন উপাধি দেন।রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে নাগরিক সংবর্ধনার স্মারক তুলে দেন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনার কারণ তুলে ধরে বলেন, দেশে এখন সুবাতাস বইছে। দেশে শান্তি বিরাজ করছে। দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি শেখ হাসিনাকে দেশরত্ন উপাধি দেন। এখন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নামের আগে স্থায়ীভাবে দেশরত্ন উপাধি ব্যবহার করার জন্য আহ্বান তিনি।

বাঙালি জাতির জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগপন্থি জাতীয় নাগরিক কমিটির সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সংবর্ধনা দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।

বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহৎ কাজের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। ভোগে নয়, ত্যাগেই রয়েছে সবচেয়ে বড় অর্জন। সবাইকে ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি একদম ভয় পাই না। একদিন যখন জন্মেছি, মরতে তো হবেই। স্বজনদের হারিয়েই তো এতোদিন বেঁচে আছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জাতির জন্য আত্মত্যাগে আমি প্রস্তুত। বাঙালি জাতির জন্য আমি সব কিছু করবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব সভায় মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যা যা করার দরকার করবো, দেশে ফিরে এই প্রতিজ্ঞা নিয়েছি। এ দেশের জন্যই আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন জীবন দিয়েছেন।’

স্থল সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব ধরনের দ্বি-পাক্ষিক সমস্যার সমাধান করেছি।’

বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিল পাস হয়ে যাওয়াসহ জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য এই মঞ্চেই প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেবে জাতীয় নাগরিক কমিটি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই মঞ্চ পরিদর্শনে এসে গতকাল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। জঙ্গি দমন করেছেন। তারই নেতৃত্বে সমুদ্র বিজয় হয়েছে। তার দুরদর্শিতার কারণে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার এইসব অর্জনে দেশ-বিদেশে প্রসংশিত হয়েছে। তাই আগামী ২৯ মে ৩৪ বছরের অর্জনের জন্য কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেবে।’

এরআগে মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দীতেক এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৪ বছর ধরে শুধু এই দেশকে দিয়েই গেছেন। এবার আমাদের দেবার পালা। আমরা তার এই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবো না। তবু আমরা কিছুটা হলেও ঋণ শোধ করতে চাই।’

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অভিজ্ঞানপত্র পাঠ করবেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বিকালে জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুপুরের আগে থেকেই রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উদ্যানে আসতে শুরু করেন।

সীমান্ত চুক্তিসহ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ঘরানার বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া ২০২ সদস্যের জাতীয় নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *