সড়ক দুর্ঘটনা: বিয়ে হলো না তাসফিয়ার

এই বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্যসহ সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্যেশে রওয়ানা দেন তাসফিয়া। কে জানতো এটাই হবে তার শেষ রওয়ানা?
এই বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্যসহ সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্যেশে রওয়ানা দেন তাসফিয়া। কে জানতো এটাই হবে তার শেষ রওয়ানা?আগামী ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে একটি ক্লাবে তাসফিয়া ইসমাইল তাম্মি’র (২২) গায়ে হলুদ। ২৪ জানুয়ারি বিয়ে। বর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চট্টগ্রামের বাসিন্দা ফাহমিদ হাসান রিতুল।

তাসফিয়া ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়তেন। মেয়েটি তার বাবা জীবন বীমা কর্মকর্তা ইসমাইল চৌধুরীকে হারিয়েছেন পাঁচ বছর আগে। এবার মা জিএন্ড মডেল হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তাহেরা বেগমসহ (৪৫) তিনিও চলে গেলেন।

এই বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্যসহ সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্যেশে রওয়ানা দেন তাসফিয়া। কে জানতো এটাই হবে তার শেষ রওয়ানা?

ঢাকা থেকে গরিবুল্লাহ শাহ পরিবহনের একটি পিকনিকের বাসের সাথে ধাক্কা খেয়ে সবকিছু উল্টাপাল্টা হয়ে যায়। নিমেষেই শেষ হয়ে যায় পরিবারটির স্বপ্ন। ঘটনাস্থলে মারা যায় তার মা স্কুল শিক্ষিকা তাহেরা বেগমসহ ৩ জন। পরে চমেক হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাসফিয়া।

শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।

এখনো অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছেন তার একমাত্র ভাই আদনান (২৮)। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তাসফিয়া সবার ছোট।

চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে গরীবউল্লাহ শাহ ‘চয়েস’ পরিবহনের একটি পিকনিক যাত্রীবাহী চেয়ারকোচ (নং চট্টমেট্টো-ব-১১-০৮৩৮) নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী রাস্তার মাথা নামক এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতদিক থেকে আসা চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেট নোহা গাড়ি (নং চট্টমেট্টো-চ-১১-১৯৩২) এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বাস-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ এ পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *