সৈয়দ আশরাফ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- বাংলাদেশ সরকারের রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ এর রুল ৩ (৪)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমান মেয়াদে এ মন্ত্রণালয়ে এর আগে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী না থাকলেও ইসমাত আরা সাদেক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিয়ে ‘দপ্তরবিহীন’ মন্ত্রী করেন।

বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই হতবাক হয়ে যান। সভানেত্রীর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের আবার কী ঝামেলা হলো তা নিয়ে সবার মাঝে এক ধরনের উদ্বেগ দেখা যায়।

ওইদিন দুপুরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ এর রুল ৩ (৪)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালায়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলমাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গতকাল বুধবার লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল সৈয়দ আশরাফের। কিন্তু দপ্তর হারানোর পর সৈয়দ আশরাফের লন্ডন সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে একটি আলোচনার সূত্রপাত হয়। তিনি অভিমানে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন কি না এমন প্রশ্নও সামনে চলে আসে।

দপ্তর হারানোর পর আওয়ামী লীগ ও শুভানুধ্যায়ীদের অনেকেই সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে রাজনীতি থেকে সরে না যাওয়ার অনুরোধ করেন। তারপর থেকেই দলীয় কর্মসূচিতে সৈয়দ আশরাফ সক্রিয় হন। গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যোগ দেন যুবলীগের এক অনুষ্ঠানে।

পরের দিন রাজধানীতে হোসেনপুর সমিতির এক ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে বলেন, ‘আমি লাভের জন্য রাজনীতি করি না। আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করেননি। আমার শরীরে সেই রক্ত। আমি রাজনীতি করি বা না করি, মন্ত্রী হই বা না হই সব সময় হোসেনপুরবাসীর সঙ্গে থাকবো।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, আশরাফের এই কথায় ক্ষোভ ও অভিমানের ছোঁয়া রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও টের পেয়েছেন আশরাফের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ায় দলে কিছুটা এলোমেলো অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে। তাই গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফকে গণভবনে ডেকে নেন। এজন্য দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিয়মিত আশরাফের সঙ্গে যোগাযোগও রাখা হয়। ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিতে সৈয়দ আশরাফকে লন্ডন সফর স্থগিত করতে বলেন।

এর আগে গত রোববারও প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সেই বৈঠকেও তাকে লন্ডন না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে যোগ দেয়ার জন্যও সৈয়দ আশারফকে বলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়ার পর মাত্র সাতদিনের মাথায় নতুন দপ্তর পেলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সাতদিন দপ্তরবিহীন থাকার পর আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি করে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন পাঁচজন।

পরে তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়। এতে গম কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান নুরুজ্জামান আহমেদ। তোপের মুখে আছেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

মহানবী (সা.), হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে কটূক্তি করে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর হারানো ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট তারানা হালিম।

নুরুল ইসলাম বিএসসি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রীতে পদন্নোতি পেয়েছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রতিমন্ত্রী থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় ২৯ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী ছিলেন। নতুন তিনজনকে নিয়ে মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ দূত ও পাঁচজন উপদেষ্টা রয়েছেন।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফ ছাত্রজীবনে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জেলখানায় তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর লন্ডনে চলে যান। সেখানেও তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন সৈয়দ আশরাফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *