প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী

নিখোঁজ স্বামীকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

নিখোঁজ স্বামীকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।নিখোঁজ স্বামীকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

মঙ্গলবার বিকালে ইউনিভার্সিটি টিচারর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর সভাপতি আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গুলশানের বাসায় হাসিনা আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই আবেদনের কথা জানান।

হাসিনা আহমেদ বলেন, “আট দিন ধরে নিখোঁজ আছেন আমার স্বামী। আমরা এক অস্বস্তিকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। আমার স্বামীকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আবেদন জানাব শিগগিরই।”

নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে দেশবাসীসহ সকলের সহযোগিতাও চেয়েছেন সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ।

সালাহ উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ গত ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সালাহ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা জানাতে ইউসুফ হায়দারের সঙ্গে আরো ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও সহযোগী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন।

বিকেল চারটার দিকে তারা গুলশান ২ নম্বরের ৭২ নং সড়কের প্লাটিনাম রেসিডেন্সের বাড়িতে যান। সেখানে তারা সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যর খোঁজ-খবর নেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো সভ্য দেশে এভাবে আট দিন যাবত একজন মানুষের খোঁজ পাওয়া যাবে না, তা হতে পারে। আমরা সরকারকে বলব, তাকে দ্রুত খুঁজে বের করে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা নিন।”

সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ফিরে পেতে সুশীল সমাজসহ মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কাছে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তার পরিবারের অবস্থা জানিয়ে হাসিনা আহমেদ বলেন, “স্বামীর নিখোঁজের পর থেকে আমার ঘরে কোনো রান্না-বান্না হয় না। পাশের বাসার ভাবিরা রান্না করে খাবার পাঠায়। বাচ্চারা কিভাবে আছে, কি খায় কিছুই বলতে পারি না।”

তিনি বলেন, “আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে আদালতে হাজির করে বিচার করুন।”

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা পাচ্ছি না। এই আট দিনের মধ্যে সোমবার সিটি এসবি’র একজন সাব ইন্সপেক্টর আমার সঙ্গে দেখা করেছে মাত্র।”

স্বামীর সন্ধানে সুশীল সমাজসহ দেশবাসীকে তার পাশে দাঁড়ানোর আহবানও জানান সাবেক এই সাংসদ।

সালাহউদ্দিন আহমেদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ কানাডা ও বড় মেয়ে পারমিজ আহমেদ ইকরা মালয়েশিয়াতে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে সৈয়দ ইউসুফ আহমেদ ও ছোট মেয়ে ফারিবা আহমেদ রাইদা।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের চলমান আন্দোলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আটক হওয়ার পর দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য হন এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার স্ত্রী হাসিনাও সংসদ সদস্য ছিলেন।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের জীবন নিয়ে শঙ্কা

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

তিনি গতকাল সোমবার ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি-কে তার এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘যদি তার (সালাহ উদ্দিন আহমেদ) বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে মামলা করা হোক। কিন্তু দয়া করে তাকে বাঁচিয়ে রাখুন।’

তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সালাহ উদ্দিনকে রাজধানীর একটি বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ নিখোঁজের ঘটনায় কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডি আদালতের নির্দেশে দাখিল করা প্রতিবেদনে গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে সরকারের নির্দেশে সালাহ উদ্দিনকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মানবাধিকারকর্মী আইনজীবীরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাকে বিচার ছাড়াই হত্যা করা হতে পারে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সালাহ উদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে এবং তিনি এখন তাদের কাছেই রয়েছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ বশিরুল্লাহ এএফপি- কে বলেছেন, ‘হাইকোর্টে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, তারা সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেননি এবং তিনি তাদের হেফাজতেও নেই।’

বিগত মাসগুলোতে বিএনপির নিখোঁজ হওয়া বেশ কয়েক নেতার মধ্যে সালাহ উদ্দিনও একজন বলে বার্তাসংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *