সালাহ উদ্দিনকে অক্ষত ফেরত চেয়েছেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সালাহ উদ্দিন আহমেদকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সালাহ উদ্দিন আহমেদকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সালাহ উদ্দিন আহমেদকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নিখোঁজ যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ  সন্তানদের নিয়ে রাতে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছেই হাসিনা আহমেদ তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। ছেলে-মেয়েরাও কাঁদতে থাকে। এ সময়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

রাত পৌনে ৮টার দিকে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ তার ছোট ছেলে সৈয়দ ইউসুফ আহমেদ ও ছোট মেয়ে ফারিবা আহমেদ রাইদা ও নিজের ভাইয়ের স্ত্রী শামীম আরাকে নিয়ে একটি কালো পাজেরো জিপে গুলশান কার্যালয়ের সামনে আসেন। তারা গেইটের সামনে পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘‘ম্যাডাম বাচ্চাদের আদর করেছেন, কথা-বার্তা বলেছেন। যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে, ম্যাডাম সরকারের কাছে আহবান জানিয়েছেন, সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন অবিলম্বে তাকে আদালতের হাজির করে অথবা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়।’’

সাদা পোশাকে পুলিশের একজন সদস্য হাসিনা আহমেদসহ ছেলে-মেয়েদের নাম ঠিকানা রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়।

কার্যালয়ে ভেতরে গিয়ে দোতলায় দলের চেয়ারপারন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন হাসিনা আহমেদসহ পরিবারের সদস্যরা। দোতলায় চেম্বারে প্রবেশের পর বেগম জিয়া রাইদা ও ইউসুফকে বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা জানায়। তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

বেগম জিয়া রাইদা ও ইউসুফের পড়ালেখার খোঁজ-খবর নেন।

ওই সময়ে চেম্বারে শামীম এস্কান্দারের শ্বাশুড়ি উপস্থিত ছিলেন।

পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা কক্ষে প্রবেশ করেন।

বেগম জিয়া সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাকে সান্ত্বনা জানান।

সাক্ষাৎ শেষে রাত ৯টার দিকে হাসিনা আহমেদ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

গত ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ।

স্বামীর খোঁজ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনও করেছেন হাসিনা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়েছে, পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেনি। তার কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আগামী ৮ এপ্রিল হাই কোর্টে আবার শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ কানাডা ও বড় মেয়ে পারমিজ আহমেদ ইকরা মালয়েশিয়াতে অধ্যায়ন করছেন। ছোট ছেলে সৈয়দ ইউসুফ আহমেদ ও ছোট মেয়ে ফারিবা আহমেদ রাইদা।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য হন এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার স্ত্রী হাসিনাও সংসদ সদস্য ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *