৭ বিভাগে গঠিত হচ্ছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’

২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সহিংসতা ও নাশকতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৭ বিভাগে ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হচ্ছে।

২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের  করা সহিংসতা ও নাশকতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৭ বিভাগে ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সহিংসতা ও নাশকতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৭ বিভাগে একটি করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হচ্ছে।

আগামী তিন মাসের মধ্যে এগুলো গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে ৭ বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন বিভাগ। প্রস্তাবটি সংস্থাপন ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুই কোটি ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৭৪০ টাকার বাজেট ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন (সংশোধিত-২০১৩) ২০০৯-এর ২৮ ধারা মোতাবেক এক বা একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার বিধান রয়েছে। ওই আইনের (সংযুক্তি-১) বিভিন্ন ধারায় রুজুকৃত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে দেশে কার্যকরভাবে সন্ত্রাস দমন সম্ভব হবে।

বর্তমানে মামলাগুলো জেলা ও দায়রা জজরা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালনা করেন বলে নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়। এ কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনের সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালে ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলা হয়েছে ৩,৮০০টি। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফের টানা আন্দোলন শুরু হলে থেকে মার্চ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ১,৭১৭টি।

সব মিলিয়ে গত দুই বছরে সারা দেশে সহিংসতা-নাশকতার মামলা হয়েছে ৫,৫১৭টি। বেশির ভাগ মামলার বাদী পুলিশ নিজেই।

এসবের মধ্যে ১,১৫৬টির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোর তদন্ত চলছে।

মামলা বেশি হয়েছে রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা রেঞ্জে। বেশির ভাগ মামলায় আসামি করা হয়েছে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের।

এসব মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের ফাঁসানোই সরকারের লক্ষ্য।

বর্তমান সরকারের মেয়াদ পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *