রাজন হত্যায় পলাতক আসামি কামরুল জেদ্দায় আটক

চোর সন্দেহে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে (১৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার মূল আসামি কামরুল ইসলামকে সৌদি আরবের জেদ্দায় আটক করা হয়েছে।

চোর সন্দেহে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে (১৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার মূল আসামি কামরুল ইসলামকে সৌদি আরবের জেদ্দায় আটক করা হয়েছে।চোর সন্দেহে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে (১৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার মূল আসামি কামরুল হাসানকে সৌদি আরবের জেদ্দায় আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় কামরুলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মিশন।

আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকালে জেদ্দায় হাইআররোওবি এলাকার এক বাংলাদেশির কাছে খবর পেয়ে এনটিভির জেদ্দা প্রতিনিধি মাসুদ সেলিম কামরুলকে সনাক্ত করার জন্যে ঘটনাস্থলে যান। এক পর্যায়ে তাঁরা নিশ্চিত হন, গত কয়েকদিনে গণমাধ্যমে ঘাতক কামরুলের যে ছবি প্রচারিত হয়েছে, এ ব্যক্তি সে-ই। তখনই বাংলাদেশ কনসুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মাসুদ সেলিম।

কনসুলেট বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যে প্রথম সচিব আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠান। কামরুল যে বাড়িতে থাকতেন, সেই বাড়ির সৌদি মালিকের সাথে কথা বলেন তাঁরা। পুরো ঘটনা শুনে তিনি সহযোগিতা করতে রাজী হন। পরে বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় কামরুলকে অনুসরণ করে আটক করেন কনসুলেট কর্মকর্তারা। কামরুলের হাত বেঁধে নিয়ে আসা হয় কনসুলেট কার্যালয়ে। সেখান থেকে কামরুলকে সোপর্দ করা হয় হাই আল জামা থানায়।

সকালে ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক খায়রুল ফজল জানান, গত ১০ জুলাই দুপুর দুইটায় কামরুল হাসান নামের ওই ব্যক্তি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে যান।

রাজন হত্যা মামলার এজাহারের তিন নম্বর আসামি কামরুল ইসলাম।

গত ৮ জুলাই সকালে সিলেট শহরতলির কুমারগাঁওয়ে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শিশু রাজনকে।

মুহিত রিমান্ডে, আরেক আসামি গ্রেফতার

শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যার ঘটনায় আটক মুহিত আলমের (৩২) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

লাশ গুমের সময় জনগণের হাতে ধরা পড়েন মুহিত।

এদিকে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আরেক আসামি ইসমাঈল হোসেন আবলুকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জালালাবাদ থানা এলাকার লামাকাজি মিরেরগাঁও থেকে সোমবার ভোরে ইসমাঈলকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ইসমাইল শিশু রাজন হত্যার প্রধান আসামি মুহিত আলমের তালতো ভাই।

পলাতক আসামিদের ধরতে ও মামলার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পুলিশের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, রাজন হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে তারা প্রশাসনকে সময়ও বেঁধে দিয়েছেন। না হলে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এলাকাবাসী।

রোববার রাতে রাজনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে এলাকাবাসী বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ১৫-২০টি গ্রামের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নির্যাতনকারী ঘাতকদের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন স্থানীয় এলাকাবাসী। রোববার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলা বৈঠক শেষে স্থানীয় এলাকাবাসী এ আল্টিমেটাম দেন।

সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে রাজনের বাড়ির আঙিনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের খবর পেয়ে এসএমপির জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি রাজন হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত বুধবার সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে রাজনকে চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে রাজন মারা গেলে লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয় মুহিত আলম।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মহানগরের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় আটক মুহিত আলম (৩২) ও তার ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *