মাহমুদুর রহমান মান্না আটক

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী মেহের নিগার।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী মেহের নিগার।নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী  মেহের নিগার।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে বনানীর এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। সেখান থেকে তাকে ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে  জানিয়েছেন তার স্ত্রী মেহের নিগার।

গতরাত সাড়ে ৩টার দিকে ভাতিজি শাহনামা শারমিনের বনানীর বাসা থেকে মান্নাকে আটক করা হয়। তিনি ভোর সাড়ে ৫টায় তার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, রাত ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তাদের বাসায় কড়া নাড়েন। এ সময় তার চাচা (মান্না) ঘুমিয়েছিলেন। ডিবি পুলিশ তাকে জানায়, তারা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে যেতে এসেছে।

তিনি জানান, এ সময় তার চাচাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে এ খবর জানানো হয়। তিনি ঘুম থেকে উঠে ডিবি পুলিশের কাছে পোশাক পরার সময় চান। পোশাক পরা শেষ হলে পুলিশ তাকে নিয়ে চলে যায় বলে জানান শাহনামা শারমিন।

তবে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে ডিবি পুলিশ তাদের কিছু জানায়নি। এর আগে মান্না রাত ১১টার দিকে তাদের বাসায় আসেন বলে জানান তিনি।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মাহমুদুর রহমান মান্নার আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম জানান, মান্নাকে আটক বা গ্রেফতার করার কোনো তথ্য তার জানা নেই। তিনি বলেন, আমরা খোজ খবর নিচ্ছি তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে।

মান্নার স্ত্রী মেহের নিগার মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে গুলশান-২ এর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী রাতে বনানীর ১৭ নম্বর সড়কের ই-ব্লকের ১২ নম্বর বাসায় ছিলেন। বাসাটি মান্নার ভাতিজি শাহনামা শারমিনের।
তিনি জানান, ওই বাসা থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। শাহনামা শারমিন রাতেই ফোন করে তাকে এ কথা জানান।

মেহের নিগার আরো জানান, আটক হওয়ার আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে স্বামী মান্নার সঙ্গে তার কথা হয়।

বনানী থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর জানান, ডিবি পরিচয়ে মাহমুদুর রহমানকে ধরে নিয়ে গেছে বলে তার স্ত্রী মেহের নিগার বনানী থানাকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, তবে ডিবি থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কিছু জানানো হয়নি।

গত প্রায় দু মাস ধরে চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংলাপের দাবিতে নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন মান্না।

এদিকে তার সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির টেলিফোন আলাপের অডিও ক্লিপ রোববার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেখানে দেশের চলমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সহযোগিতা করতে চান বলেও উল্লেখ্য করা হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। এ সংবাদ প্রকাশের পর মান্না আটক হবেন এমন একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

তবে নিজের ফেসবুক পেজে মান্না এসব বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘সামগ্রিক ঘটনায় আমি বিস্মিত, দুঃখিত, মর্মাহত। এ পর্যন্ত আমার রাজনীতি জীবনে কখনও সহিংসতা, ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দেই নি। আমার অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে। যে দুটো সাক্ষাৎকার ছেপেছে পাঠকদের অনুরোধ করবো যেন ভালো করে সেটা শোনা এবং পড়ে দেখার। কোথাও কোনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ নেই, উস্কানি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই বক্তব্যকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেন আমি লাশ চাই। একইভাবে সেনাবাহিনীর কোনো কোনো কর্মকর্তা আমার সাথে কথা বলতে আগ্রহী হলে বলব কি না সে কথা জানতে চাইলে, আমি বলেছি রাজি আছি। আমি রাজনীতি করি সবার সঙ্গে কথা বলতে হয়। এটা থেকে এক এগারো বা সামরিক কু’য়ের ষড়যন্ত্রের আবিষ্কার হয় কিভাবে? যেখানে এরকম কোনো বৈঠকই হয়নি।’

এ অবস্থায় গতকাল সোমবারই মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা।

আবার সোমবারই শান্তি ও সংলাপের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিলের কর্মসূচি ছিল নাগরিক ঐক্যের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে কর্মসূচি বাতিল করা হয়। এ পরিস্থিতিতে মাহমুদুর রহমান মান্না আজ মঙ্গলবারই এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না একসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *