ব্লগার নিলয় হত্যায় প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজা গ্রেফতার

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর ভাতিজা।

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর ভাতিজা।ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর ভাতিজা।

বৃহস্পতিবার উত্তরা থেকে প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজা সাদ আল নাহিনকে এবং মিরপুরের কালশী থেকে মাসুদ রানা নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম দুজনকে গ্রেফতারের খবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মুনতাসিরুল জানান, গ্রেফতার হওয়া দুজনই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য।

গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাহবুবুল আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই দুজন নিলয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, এখনো নিশ্চিত নয়। তবে হত্যাকারীদের সম্পর্কে এদের কাছে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছেও কিছু তথ্য রয়েছে, আমরা এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তা যাচাই-বাছাই করব।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র নাহিনকে কয়েক দিন আগে পুলিশ তুলে নিয়েছিল বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছিল। তবে পুলিশ তা স্বীকার করেনি।

নাহিন ব্লগার আসিফ মহীউদ্দীন হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার হয়ে বছর খানেক কারাগারে থেকে জামিনে ছাড়া পান।

২০১৩ সালে উত্তরায় আসিফের ওপর হামলা হয়েছিল। তার মাস খানেক পর গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মধ্যে মিরপুরের কালশীতে খুন হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার।

এরপর এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও অনন্ত বিজয় দাশ। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট নিজের বাড়িতে খুন হন ব্লগার নিলয়।

এসব হত্যাকাণ্ডে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করে আসছিলেন। সংগঠনটির প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত।

প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িয়ে থাকে, আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক, এটা আমার প্রত্যাশা।”

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, কাফরুলের ওই বাসায় থাকাকালীন মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর মসজিদে নামাজ পড়ার সময় পরিচয় হয় কাওসার হোসেন, কামাল হোসেন, কামাল সর্দার, কাওসারের ভাই নবীর হোসেনের সঙ্গে। পরে তাদের সঙ্গে সাদ আল নাহিনের খুব ঘনিষ্ঠশুরু হয়। একপর্যায় তারা সবাই ধর্মীয় নানা বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্বীকার করা তথ্যে নাহিন বলেছে, ধর্মীয় আলোচনা দিনের পর দিনে করার পর নবীর হোসেনের হাত ধরে আবদ করিম ওরফে জাবেরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এই জাবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। তার মাধ্যমেই সে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায় সে খুন করার মতো অপরাধেও নিজেকে জড়ায়।

সাদ আল নাহিন তার দেয়া তথ্যে জানিয়েছে, ২০১২ সালের জুলাই মাসের প্রথম শুক্রবার সে আবদুল করিম ওরফে জাবেরের সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বছিলা রোডের একটি মাদ্রাসায় যায়। সেখান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর (নিষিদ্ধ এবিটির প্রধান) সঙ্গে দেখা করে তার বয়ান শুনে নিজেকে সে পথেই পরিচালিত করে। জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবদুল করিম ওরফে জাবেরের মাধ্যমে সে ক্বীতাবুল আকাইদ, ক্বীতাবুল তাওহিদ, দ্বীন কায়েমের সঠিকপথ ও ক্বীতাবুদ দু’আসহ বিভিন্ন বই বিক্রির মাধ্যমে ‘প্রকৃত ইসলাম’ প্রচারে উদ্বুদ্ধ হয়।

নাহিনের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মুফতি জসিম ও তার শিষ্য আবদুল করিম ওরফে জাবেরের মাধ্যমে আরেক শিষ্য রেজওয়ানুল আজাদ রানার সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের মাধ্যমে সে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয়। আবদুল করিমের মাধ্যমে রানা এবং নকির সঙ্গে পরিচয়ের পর সে জানতে পারে, রানা হচ্ছে মুফতি জসিমের গোড়ার দিকের শিষ্য। একপর্যায় সে রানা ও করিমের সব কথা শোনা শুরু করে। এভাবেই সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য ও পরে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিলয় হত্যার পর পরই তারা সাদ আল নাহিনের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করে। একপর্যায় তার সন্ধ্যান পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে গোয়েন্দারা। নিলয় হত্যার বিষয়ে তার কাছে নানা তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *