বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন একঝাঁক তরুণ নেতা

বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন একঝাঁক তরুণ নেতা

বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন একঝাঁক তরুণ নেতাআগামী ১৯ মার্চ রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে একঝাঁক তরুণ নেতা দলের দায়িত্বে আসছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির একটি সূত্র।

বর্তমান দলের সিনিয়র নেতারা চলে যাবেন উপদেষ্টা কমিটিতে আর তাদের জায়গায় আসবেন এসব তরুণ নেতা। সংস্কারপন্থী হয়ে দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা নেতাদের কেউ কেউ এবার দলে ফিরবেন।

বিএনপিতে তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্ব আনতে চান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বচ্ছ ইমেজ, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই এবার দলের পুনর্গঠন হবে।

গত সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ছাত্রদল ও যুবদলের ছেলেরা এখন আর ছোট নয়। এখন কিন্তু তাদের দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসে গেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, আমি বলব-বয়স্ক নেতা যারা আছেন, তারা দলকে অনেক দিয়েছেন। তাদের বয়স হয়েছে, এখন তাদের আমরা উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে তরুণদের সামনে আনব, যাতে তারা দেশ ও দলের জন্য কাজ করতে পারে-এটা আমার ইচ্ছা। আমি সবার সহযোগিতা চাই।

চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ভারতের শিলংয়ে অবস্থানরত দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ, দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. শাহজাহান ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের মতো পরীক্ষিত নেতারা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন। সর্বশেষ আন্দোলনে তারা সক্রিয় ছিলেন। তারাই জানেন, দলের কোন নেতা কোথায় কীভাবে দলের কর্মসূচি সফল করতে কাজ করেছেন। তারাই প্রকৃত তালিকা চেয়ারপারসনকে দিতে পারবেন। দলের অন্য যেকোনো নেতার চেয়ে তাদের তালিকাই হবে প্রকৃত তালিকা। এদের পরই রয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

সম্প্রতি ছাত্রদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। ফলে সংগঠনের সিনিয়র কয়েকজন নেতা বাদ পড়েছেন। তারা এখন কোনো সংগঠনে নেই। এদের একটি অংশকে যুবদলে দেওয়া হবে। আবার যুবদল থেকে যারা বাদ পড়বেন তাদের মূল দলে নেওয়া হবে।

গত কাউন্সিলে দলের কয়েকজন নেতাকে পদ দিতে পারেননি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াজউদ্দিন খান নসু, মহিউদ্দিন খান মোহন ও শামসুজ্জামান মেহেদী। এদের দফতর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে বসানো হতে পারে।

এছাড়া বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও আমীরুল ইসলাম আলীমের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের কমিটির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে পদবিহীন। এর মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবুল, হায়দার আলী লেনিন, হাসান মামুন, আমিরুজ্জামান শিমুল, আবদুল মতিন, ওমর ফারুক সাফিন, দুলাল হোসেন, আবু বকর সিদ্দিক, সাইফুল ইসলাম ও কামাল আনোয়ার আহমেদ।

দীর্ঘদিন দলে নেই এমন নেতাদের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা সানাউল হক নীরু ও মনির হোসেন দলে জায়গা করে নেবেন এবার।

ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ জানান, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের মতো নেতা দলের মহাসচিব হলে তিনি সে কমিটির কর্মী হতে প্রস্তুত। কিন্তু তরিকুল ইসলাম বাদে অন্য কেউ দলের মহাসচিব হলে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদ চান।

ছাত্রদলের আরেক সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তিনি বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হতে চান। তবে চাইলেই তো আর বিএনপিতে পদ পাওয়া যাবে না। তাই চেয়ারপারসন যে পদ দেবেন, সে পদেই তিনি তার দায়িত্ব পালন করতে চান।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শরিফুল আলম জানান, আগামী দিনে দলে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন নেতারা আসুক এ প্রত্যাশা তার। পাশাপাশি বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এমন নেতাদের দলের নেতৃত্বে আনা দরকার।

বিএনপির অন্যতম উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, কমিটি দলকে গতিশীল করে। আবার কমিটি দলকে মুখ থুবড়ে ফেলে। এজন্য একটি কার্যকর কমিটি জরুরি। বর্তমান কমিটি দলকে গতিশীল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি জানান, তার কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন দলের যেসব দুর্নীতিবাজ নেতাকে পদ দেওয়া হয়েছে তারা পদকে তাদের সম্পদ রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পদ রক্ষার জন্য যেটুকু রাজনীতি করা দরকার তারা শুধু সেটুকু করেছেন।

ফিরছেন সংস্কারপন্থীরা

আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দল শক্তিশালী করার জন্যই সংস্কারপন্থীদের দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সংস্কারপন্থী নেতাদের নানা প্রলোভন দেখানো হয়। সংস্কারপন্থী নেতারা দলে না থাকলেও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রলোভনে পড়ে আদর্শ জলাঞ্জলি দেননি।

সংস্কারপন্থীদের দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা সংস্কারপন্থী হয়েছিলেন তাদের অনেকে এখন দলে রয়েছেন। বাকি যারা আছেন তাদেরকেও দলে আনা হতে পারে। তাছাড়া তখন তো আর সবাইকে বহিষ্কার করা হয়নি।

সংস্কারপন্থী বলে খ্যাত যেসব নেতা দলে ফিরতে পারেন তারা হলেন-সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপন, সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি নজির হোসেন ও সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *