মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৮৮

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তার সেঞ্চুরিতে হ্যামিল্টনে কিউইদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৮৮ রান করেছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তার সেঞ্চুরিতে হ্যামিল্টনে কিউইদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৮৮ রান করেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তার সেঞ্চুরিতে হ্যামিল্টনে স্বাগতিক কিউইদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৮৮ রান করেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ২৮৯ রান।

ওয়ানডেতে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা দুই সেঞ্চুরি করলেন মাহমুদউল্লাহ। এর আগে বাংলাদেশের পক্ষে টানা দুই ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন শাহরিয়ার নাফিস।  তাও ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। মাহমুদউল্লাহ ৬৩ বলে করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। ১১১ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। ম্যাকক্লেনাগেনের বল থার্ড ম্যানে ঠেলে দিয়ে তিন অংকের ঘর স্পর্শ করেন তিনি। বিশ্বকাপে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা দুই সেঞ্চুরি করলেন মাহমুদউল্লাহ। তার অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংসই টাইগারদের ব্যাটিংয়ের বড় রসদ।

এর আগে টস জিতে মাশরাফিহীন বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। দুদিন কভার দিয়ে ঢেকে থাকা উইকেটের ময়শ্চার কাজে লাগিয়ে আগুণ ঝরা বোলিং করেন বোল্ট-সাউদিরা। লম্বা লম্বা সুইং, গতির মিশেলে বাংলাদেশের টপঅর্ডার কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন কিউই পেসাররা। ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দলীয় ৪ রানে বোল্টের বলে বোল্ড হন ইমরুল কায়েস (২)। নড়বড়ে সময়টা প্রায় কাটিয়ে উঠেছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু বোল্টের শিকার হয়েছেন তিনিও। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি ২৭ বলে ১৩ রান করে।

তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য সরকার। দুজনেই তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে হাফ সেঞ্চুরির পর উইকেট বিলিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন সৌম্য। তারা ৯০ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১১৭ রানে সৌম্য আউট হন। তিনি ৫১ রান করেন। অন্যপ্রান্তে বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিন ম্যাচে পঞ্চাশ’র বেশি রান করলেন মাহমুদউল্লাহ।

এরপর সাকিব-মুশফিকরা পারেননি উইকেটে থিতু হতে। তারা দুজন দ্রুত ফেরায় তাই বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগিয়েও সফল হয়নি বাংলাদেশ। সাকিব ২৩, মুশফিক ১৫ রান করে কোরি অ্যান্ডারসনের শিকার হন। ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ-সাব্বিরের ব্যাটে আড়াইশো রান পার হয় টাইগাররা। তারা ৭৮ রানের জুটি গড়েন। ৪৮তম ওভারে ম্যাককালামের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে সাব্বির ২৩ বলে ৪০ রানের (৫ চার, ২ ছয়) ঝড়ো ইনিংস খেলেন।

শেষ দিকে নাসির ৭ বলে ১১ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ১২৩ বলে ১২৮ বলের অসাধারণ ইনিংস খেলে। যেখানে ছিল ১২টি চার ও ৩টি ছয়ের মার। কিউইদের পক্ষে বোল্ট, অ্যান্ডারসন, এলিয়ট ২টি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এসেছে ২টি। মাশরাফিকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি স্পিনার হিসেবে কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য আরাফাত সানিকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে তাইজুল ইসলামকে। আর মাশরাফির পরিবর্তে নেওয়া হলো অলরাউন্ডার নাসির হোসেনকে।
মাহমুদউল্লাহর টানা সেঞ্চুরির রেকর্ড
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির কৃতিত্ব গড়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ মাত্র ৪ দিন আগেই। ৩ দিন পরই বাংলাদেশের হয়ে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এটা বিশ্বকাপে বাংলাদেশী কোনো ব্যাটসম্যানের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। যদিও মাহমুদউল্লাহ ছাড়া বিশ্বকাপে অন্য কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ঠিক তার পরের ম্যাচে আবারও ময়মনসিংহের ছেলে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। মিচেল ম্যাকক্লেনাগেনের বলে ২ রান নিয়ে তিনি সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ১১১ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে এই সেঞ্চুরি আসে তার ব্যাট থেকে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখনো তাদের মাটিতে জয় পায়নি বাংলাদেশ। আরও শঙ্কা বাড়ে ট্রেন্ট বোল্ট দ্রুত ২ উইকেট তুলে নেওয়ার পর। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন তারা। ৯০ রানের মূল্যবান একটি জুটি গড়ে তোলেন তারা।

শুক্রবার আরও একটি রেকর্ড গড়েছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৩ ম্যাচে ৫০ এর বেশী রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চাশের বেশী রান করার হ্যাটট্রিক করলেন মাহমুদুল্লাহ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬২, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৩ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৮ রান করেছেন এই অলরাউন্ডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *