ভারতকে হটিয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

প্রত্যাশার চিত্রনাট্যেই শেষ হয়েছে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পায়নি ভারত, অসহায় আত্মসমর্পণ।

প্রত্যাশার চিত্রনাট্যেই শেষ হয়েছে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পায়নি ভারত, অসহায় আত্মসমর্পণ।প্রত্যাশার চিত্রনাট্যেই শেষ হয়েছে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পায়নি ভারত, অসহায় আত্মসমর্পণ। সিডনিতে বৃহস্পতিবার ভারতকে ৯৫ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া। আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুবিধায় কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিতে উঠেছিল ভারত। এক ম্যাচ পরই সেমি থেকে বাদ পড়ল গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই আয়োজক অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ২৯ মার্চ মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

৩২৯ রান তাড়া করে ম্যাচ জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে ভারতকে। সেই ইতিহাস গড়ার পথে এসে বারবার হোঁচট খাচ্ছে ভারত। ১৭৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে দলটি। পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছে রাহানে। মিচেল স্টার্কের বলে হ্যাডিনের হাতে ক্যাচ দেন ৪৪ রান করা রাহানে।

দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান ভালোই শুরু এনে দিয়েছেন দলকে।অস্ট্রেলিয়াকে ব্রেক থ্রু এনে দেন হ্যাজেলউড। দলীয় ৭৬ রানে শেখর ধাওয়ান ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ দেন। ধাওয়ান ৪৫ রান করেন। ২ রান পর কোহলিও (১) ফেরত যান। জনসনের বলে উইকেটের পেছনে হ্যাডিনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। সেট হয়েও উইকেটে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি রোহিত শর্মা। জনসনের বলে বোল্ড হন তিনি ৩৪ রান করে। দলীয় ১০৮ রানে রায়না (৭) ফকনারের শিকার হলে চতুর্থ উইকেট হারায় ভারত।
পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ধোনি ও রাহানে।৭০ রানের জুটি গড়েন তারা। সেই জুটি ভাঙেন স্টার্ক রাহানেকে আউট করে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৫ রানেই এক উইকেট খুঁইয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার (১২) যাদবের শিকার হন। দ্বিতীয় উইকেটে স্মিথ ও অ্যারন ফিঞ্চের জুটিতে ধীরে ধীরে ভারতীয় বোলারদের শাসনের পথে উঠে আসে স্বাগতিকরা। তারা দুজন ১৮২ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন। তিন নম্বরে ব্যাট হাতে আবারও দলের বিশ্বস্ততার প্রতীক হয়েছেন স্মিথ। তিনি তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। যা বিশ্বকাপে তার প্রথম সেঞ্চুরি।

৫৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি ও ৮৯ বলে ১০০ রান করেন স্মিথ। দ্বিতীয় উইকেটে ফিঞ্চের সঙ্গে ১৮২ রানের জুটি গড়েন তিনি। ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন যাদব। রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে স্মিথ ৯৩ বলে ১০৫ রানের (১১ চার, ২ ছয়) ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। সপ্তম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন অ্যারন ফিঞ্চও। শুরু থেকে একটু ধীরলয়ে খেলা ফিঞ্চের হাফ সেঞ্চুরি এসেছে ৮২ বলে।

ম্যাক্সওয়েলর ব্যাটিং ঝড় লম্বা হয়নি। দলীয় ২৩২ রানে ম্যাক্সওয়েল অশ্বিনের শিকার হন। তিনি ১৪ বলে ২৩ রান করেন। ১ রান পরই ফিঞ্চ ফিরেন যাদবের বলে। তিনি ১১৬ বলে ৮১ রান (৭ চার, ১ ছয়) করেন। ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও দ্রুত ফিরলে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সাড়ে তিনশো রানের সম্ভাবনা সেখানেই নষ্ট হয়। ক্লার্ক ১০ রান করেন। ওয়াটসন-ফকনারের ৩৬ রানের জুটিতে চাপ কাটায় স্বাগতিকরা।

ফকনার ১২ বলে ২১, ওয়াটসন ২৮ রান করেন। শেষ দিকে মিচেল জনসনের ঝড়ো ব্যাটিং ৯ বলে ২৭ রানের ক্যামিও হতাশ করে ভারতকে। যাদব ৪টি, মোহিত শর্মা ২টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া : ৩২৮/৭, ওভার ৫০ (স্মিথ ১০৫, ফিঞ্চ ৮১; যাদব ৪/৭২, শর্মা ২/৭৫)

ভারত : ২৩৩/১০, ওভার ৪৬.৫ (ধোনি ৬৫, ধাওয়ান ৪৫, রাহানে ৪৪; ফকনার ৩/৫৯, স্টার্ক ২/২৮, জনসন ২/৫০)

ফল : ৯৫ রানের জয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

ম্যাচসেরা : স্টিভেন স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *