প্রস্তুত ৬ জল্লাদ, কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ছয় জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ছয় জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ছয় জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন জল্লাদ রাজু। অন্যরা হলেন- পল্টু, সাত্তার, রিপন, রনি ও মাসুদ।

কারা সূত্র জানায়, জল্লাদদের এই ছয় জনের মধ্যে ফাঁসির মঞ্চে রাজু, পল্টু ও সাত্তারকে রাখা হতে পারে। তাদের মধ্যে যেকোনো একজন কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করবেন।

এ দিকে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকাল থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার এলকাসহ রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে সন্ধ্যায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে বেশকিছু সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগার সংলগ্ন ভবনগুলোর ছাদে যেন কেউ অবস্থান করতে না পারে সেজন্য প্রত্যেকটি ছাদে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছেন কারা ডাক্তার আহসান হাবিব। শনিবার সন্ধ্যা সোয়ো ৭টার একটু পরে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তিনি কারাগারে গেছেন।

এর পর রাত সোয়া ৮টার দিকে লাশ বহনের জন্য একটি গাড়িকে কারাগারে ঢুকতে দেখা গেছে।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল বজলুল কবির কারাগারে প্রবেশ করেন। তিনি ফাঁসি কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকবেন বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

কারা মহাপরিদর্শ (আইজি প্রিজন) ইফতেখার আহমেদ সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটের দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন। কারাগারের ভেতরেই আছেন সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী এবং ডিআইজি গোলাম হায়দার।

দুপুর ২টা ৪১ মিনিটে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছলে তা তাকে পড়ে শোনানো হয়। ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে চারজন জল্লাদ প্রস্তুত রয়েছে। এদের মধ্যে রানা নামের একজন জল্লাদ রয়েছে, যে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে সহকারী জল্লাদের দায়িত্বে ছিল।

এদিকে ফাঁসি কার্যকরের সময় ঘনিয়ে আসতে কারাগারের আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তার বিধান করা হয়েছে।

গত সোমবার কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম এই নেতা।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কামারুজ্জামানকে ২০১৩ সালের ৯ মে ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর গত বছরের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বহাল রেখে রায় দিয়েছিল আপিল বিভাগ।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল মামলার চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। গত ৬ এপ্রিল রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *