প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী

নিখোঁজ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

নিখোঁজ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।নিখোঁজ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

শুক্রবার সকালে গুলশানের বাসায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান সহমর্মিতা জানাতে আসলে হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‘গোটা জাতি ও বিশ্বের কাছে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে। সেদিন বেডমিনটন খেলছিলো বাচ্চারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে- তা আশ-পাশের লোকেরা দেখেছে। এখন তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) অস্বীকার করবে- এটা হতে পারে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমি বিনীতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানিয়েছি। এখন তার নির্দেশের অপেক্ষায় আছি- তিনি যেন আমার স্বামীকে জনসমক্ষে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ নির্দেশনা দেন।’’

বৃহস্পতিবার সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তার কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন হাসিনা আহমেদ।

গত ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য শ্যামা ওবায়েদ ও কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাট গুলশানের ৭২ নং সড়কের প্লাটিনাম রেসিডেন্স এর বাসায় গিয়ে হাসিনা আহমেদকে সহসর্মিতা প্রকাশ করেন। তারা পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

পরে সাংবাদিকদের কাছে মাহবুবুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘অতীতেও গুম হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বিচারবর্হিভুত হত্যাকাণ্ড চলছে। ১০ দিন যাবত একজন তর-তাজা মানুষ হারিয়ে গেলেন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা আতঙ্কের কথা। এভাবে সালাহ উদ্দিন আহমেদের মতো একজন রাজনৈতিক নেতা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবণতিশীল অবস্থা প্রকাশ পায়।’’

সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিষয়ে সরকারের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে, তা আমরা জানতে চাই না। তাকে অক্ষত অবস্থায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব সরকারেরই। কারণ দেশের মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব যারা সরকারে থাকেন তাদেরই।’’

সালাহ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে ক্ষমতাসীনরা ‘বিভ্রান্তি’ ছড়াচ্ছে অভিযোগ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘সরকারের লোকজন বলছে, সালাহউদ্দিনকে নাকী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি। তিনি নাকি নিজেই লুকিয়ে আছেন। আবার গতকাল রাতে শুননাল কোখায় নাকি তার লাশ পড়ে আছে- পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।এভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রসিকতা করা হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে বলব, আর কাল বিলম্ব না করে অতি শিগগিরই সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তার পরিবারের কাছে অক্ষতভাবে ফিরিয়ে দিন।’’

একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুজে বের করতে দেশের এজেন্সিগুলো ব্যর্থ হলে এফবিআই আনা হউক। এভাবে মানুষ হারিয়ে যাবে, পাওয়া যাবে না- কেউ কিছু বলতে পারবে না। এটা হতে পারে না। ’’

স্বামীর খোঁজ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনও করেছেন তার স্ত্রী হাসিনা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়েছে, পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেনি। তার কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আগামী ৮ এপ্রিল হাই কোর্টে আবার শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে।

২০১২ সালে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তার হস্তাক্ষেপ চেয়েছিলেন। ইলিয়াস রহস্যের মীমাংসা গত তিন বছরেও হয়নি।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য হন এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার স্ত্রী হাসিনাও সংসদ সদস্য ছিলেন।

তাদের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ কানাডায় ও বড় মেয়ে পারমিজ আহমেদ ইকরা মালয়েশিয়াতে লেখাপড়া করেন। ছোট ছেলে সৈয়দ ইউসুফ আহমেদ ও ছোট মেয়ে ফারিবা আহমেদ রাইদা দেশেই থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *