অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম, নাকি নিউজিল্যান্ডের প্রথম

রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যখন মাঠে নামবে তখনই টের পাওয়া যাবে।

রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যখন মাঠে নামবে তখনই টের পাওয়া যাবে।প্রতিবেশী বলতে সবাই এটাই জানে যে, একে-অপরে গলাগলি করবে, একসাথে বসে চা খাবে, কখনো পরচর্চা করবে এবং এক প্রতিবেশী কখনো বাইরে গেলে অন্যজন তার কুকুর বা অন্য গৃহপালিত পশুকে খাবার দেবে।

কিন্তু সময় এবং পরিস্থিতির খাতিরে অনেক সত্যই যে পাল্টে যায় রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যখন মাঠে নামবে তখনই টের পাওয়া যাবে। যেমটা ঘটে ছিল ২০১১ বিশ্বকাপে ভারত-শ্রীলংকার ক্ষেত্রে। এবারের মতো তারা দুদলও ছিল কো-হোস্ট।

তবে ওই ফাইনাল ছাড়া ভারত শ্রীলংকার প্রতিবেশীর সম্পর্কটা খুব একটা খারাপ না। গত পাঁচ বছরে দুদল ৩৯টি একদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে।

ক্রিকেটী বন্ধুত্বের বিচারে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সর্বশেষ পাঁচ বছরের সম্পর্কটা একে অপরের বাড়িতে গিয়ে আধুনিক প্রতিবেশীসুলভ বা রাস্তায় একে-অপরের মধ্যে দেখা হলে ভদ্রভাবে অল্প সময়ের হ্যায় হ্যালোর। গত পাঁচ বছরে আইসিসির নির্ধারিত টুর্নামেন্টে বাইরে এ দুটি দল কোনো দ্বিপাক্ষিক একদিনের ম্যাচ খেলেনি। এর আগের পাঁ বছরে ২৩টি ম্যাচ খেলেছিল তারা।

অস্ট্রেলিয়া প্রতিবেশীর তুলনায় ভারত, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। ২০০৬-০৭ সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরেও নিয়মিত অধিনায়ক,সহঅধিনায়ক বাদে দল পাঠিয়ে ছিল অজিরা।

একে-অপরের মুখোমুখি বেশি একটা না হলেও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা কম না। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দুরন্ত খেলে আসা নিউজিল্যান্ড ফাইনালেও যে প্রতিবেশীকে হয়তো কমে ছাড়বে না। সেটা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কষ্টে হলেও বুঝিয়ে দিয়েছে।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপও যৌথভাবে আয়োজন করেছিল অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড। তবে সেবার ফাইনাল খেলা হয়নি কারোই। এই মার্চেই ফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড-পাকিস্তান। ২৩ বছর পর সেই মার্চেই এবার ফাইনালে মাঠে নামছে দুই আয়োজক অজি-কিউইরা।

এমসিজিতে নিউজিল্যান্ড যখন খেলতে নামবে তখন হয়তো খুব একটা সুবিধে পাবে না নিউজিল্যান্ড। এই বছর শেষে দুদলের মধ্যে হতে যাওয়া বক্সিং ডে টেস্টের মতো গ্যালারি ভরা থাকবে হলুদ শার্টেই। তবে এমসিজির ভরা গ্যালারি থামিয়ে দেয়ার সমর্থ আছে কিউইদের।

নিউজিল্যান্ডের এটি প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। আর অস্ট্রেলিয়া এরআগে সাতবার ফাইনাল খেলেছে। অভিজ্ঞায় অবশ্যই অজিরা এগিয়ে।

১৯৭৪ সালে দুইদলের প্রথম লড়াইতে জেতার মতো মোট হিসেবেও এগিয়ে আছে অজিরাই। ১২৭ বারের মোকাবেলায় অস্ট্রেলিয়ার ৮৫ জয়ের বিপরিতে নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৩৫টিতে। ফল হয়নি সাতটিতে। তবে চলতি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ হারেনি নিউজিল্যান্ড। আর এই নিউজিল্যান্ডের কাছেই একটি ম্যাচ হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। আর ২০০৯ সালে মেলবোর্নে সর্বশেষ মোকাবেলায় জিতেছিল নিউজিল্যান্ডই।

গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল পর্যন্ত জেতা প্রত্যেকটা ম্যাচেই ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচ উইনার পেয়েছে। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, কোরি অ্যান্ডারসন, কেন উইলিয়ামসন, টিম সাউদি, টেন্ট বোল্ট, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, মার্টিন গাপটিল ও সর্বশেষ গ্রান্ট ইলিয়ট। তারা সবাই এমন পারফর্ম করেছেন যে, ম্যাচ জেতাতে দ্বিতীয় জনের সাহায্যও খুব একটা নিতে হয়নি।

একই অবস্থা অস্ট্রেয়িলার ক্ষেত্রেও। ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফ্রিঞ্চ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং বিশেষ করে স্টিভ স্মিথ। বোলিংয়ে কম যানটি স্টার্ক, জনসন ও ফকনাররা। ২১ উইকেট নিয়ে শীর্ষে থাকা কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছেন মিচেল স্টার্ক(২০)।

এই ম্যাচে স্পটলাইটে থাকবেন নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, গাপটিল, বোল্ট ও গ্রান্ট ইলিয়ট। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্মিথ, ম্যাক্সওয়েল, জনসন ও স্টার্ক।

ফাইনালে নামার আগে অবশ্য কোনো দলেই ইনজুরি সংক্রান্ত সমস্যা নেই। সেমিতে খেলা দলই অপরিবর্তিত রাখতে পারে উভয় পক্ষ।

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দুদলই। নিউজিল্যান্ড পেসার টিম সাউদি বলেন, ‘গ্যালারি থেকে আমরা হয়তো খুব একটা সমর্থন পাবো না কিন্তু মাঠে যে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো এটা নিশ্চিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক বছর অস্ট্রেলিয়া আমাদের বিপক্ষে ভালো খেললেও আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি।’

আর গ্রুপ পর্বে হারলেও অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লাক বলেছেন, ‘এরআগে তারা আমাদের হারিয়েছে। এজন্য তারা আত্মবিশ্বাসী থাকবে।তবে আমি মনে করি সেই হারই এই ম্যাচে আমাদের জন্য টার্নি পয়েন্ট হবে।’

ফাইনালের আগে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অসি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন, ’ ‘আমরা দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতি ম্যাচের আগেই দারুণভাবে প্রস্তুত হয়েছে দল। প্রতিদিন ঘুম থেকে আরো বেশি তরতাজা হয়ে উঠছে ছেলেরা। ফলাফল দেখেও ব্যাপারটা টের পাচ্ছেন হয়তো। আমরা ছন্দ খুঁজে পেয়েছি। এ ছন্দটা ধরে রেখে প্রতি ম্যাচে উন্নতি করতে হবে।’

সম্ভব্য একাদশ

অস্ট্রেলিয়া: অ্যারন ফ্রিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, মাইকেল ক্লার্ক, শেন ওয়াটসন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, জেমস ফকনার, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক, জেমস হ্যাজেলউড, ও ব্রাড হাডিন।

নিউজিল্যান্ড: মার্টিন গাপটিল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, কেন উইলয়ামসন, রস টেলর, গ্রান্ট ইলিয়ট, লুক রনচি, টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, ড্যানিয়েল ভেট্রোরি ও ম্যাট হেনরি/ক্রেগ ম্যাকলেগান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *