নিউজিল্যান্ডের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক উইকেটের জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। অথচ এক সময় মনে হয়েছিল অতি সহজেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাবে কিউইরা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক উইকেটের জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। অথচ এক সময় মনে হয়েছিল অতি সহজেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাবে কিউইরা।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক উইকেটের জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। অথচ এক সময় মনে হয়েছিল অতি সহজেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাবে কিউইরা।

কিন্তু মাইকেল স্টার্কের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জয় পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে কিউইদের। অথচ জয়ের জন্য ১৫২ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৭ ওভারেই দলটি তুলেছিল ৬৯ রান। ম্যাককালাম আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড দলে ব্যাটিং ধস নামে।

অস্ট্রেলিয়ার বেধে দেয়া ১৫১ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ম্যাককালাম। দলীয় ৪০ রানে গাপটিল আউট হলেও ম্যাককালাম চালাতে থাকেন ব্যাট। উইকেটের চতুর্দিকে ব্যাট চালিয়ে মাত্র ২১ বলে অর্ধশতক তুলে আউট হন তিনি।

সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ম্যাককালাম আউট হওয়ার পরই মূলত নিউজিল্যান্ড দলের ব্যাটিং ধস শুরু হয়।

এক সময় যে দলটির স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৩১, মুহূর্তের মধ্যে এক ঝড়ে হয়ে যায় ৯ উইকেটে ১৪৬। পরে লুক রঞ্চি ছক্কা হাঁকিয়ে রোমাঞ্চের অবসান ঘটান। নিউজিল্যান্ডের ধসের নায়ক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার মাইকেল স্টার্ক।

২৮ রানের খরচায় তিনি নিউজিল্যান্ডের ছয় উইকেট তুলে নেন। এছাড়া প্যাট কামিন্স দুটি উইকেট নেন।

এর আগে ট্রেন্ট বোল্টের বিধ্বস্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৫১ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। যদিও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধসের সূচনা করেছিলেন টিম সাউদি ও ড্যানিয়েল ভেট্টরি।

শনিবার সকালে নিউজিল্যান্ডের অ্যকল্যান্ডের ইডেন পার্কে কিউইদের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে অজিরা।

ব্যাটিং করতে নেমেই ঝড় তোলেন অসি দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। মাত্র দুই ওভারেই তারা ৩০ রান তোলেন। কিন্তু তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যক্তিগত ১৪ রানে টিম সাউদির বলে ফিঞ্চ বোল্ড হয়ে যান।

পরে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে জুটি বাধেন শেন ওয়াটসন। ম্যাচের ১৩ তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৮০ রানে টিম সাউদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শেন ওয়াটসন।

পরের ওভারের প্রথম বলে টিম সাউদি এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ওয়ার্নারকে। মূলত এখান থেকেই শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বস্তের গল্প।

১০৬ রানেও মধ্যে আরো পাঁচটি উইকেট হারিয়ে বসলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১০৬ রান। শেষ দিকে প্যাট কামিন্সকে নিয়ে দলীয় স্কোরটাকে সম্মানজনক স্থানে নেয়ার চেষ্টা করেন দিয়ে ব্র্যাড হাডিন।

দলীয় ১৫১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৩ রানে হাডিনের আউট হওয়ার মধ্যে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেরও পরিসমাপ্তি ঘটে।

৪১ বলে চারটি ৪ ও দুটি ছক্কায় সাজানো হাডিনের ৪৩ রানই অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ রান। এছাড়া ডেভিড ওয়ার্নার ৩৪ এবং শেন ওয়াটসন ২৩ রান করেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ট্রেন্ট বোল্ট পাঁচ উইকেট নেন। এজন্য তাকে খরচ করতে হয় ২৭ রান। এটি ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এছাড়া টিম সাউদি ও ডেনিয়েল ভেট্টরি দুটি করে উইকেট নেন।

পুল ‘এ’তে বিশ্বকাপের ২০ তম এ ম্যাচে প্রথম খেলতে নামছেন অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। ক্লার্ক দলে ফেরায় জর্জ বেইলিকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দলে কোনো পরিবর্তন নেই। আগের তিন ম্যাচ জেতায় অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই অজিদের মোকাবেলা করতে চায় ব্ল্যাকক্যাপসরা।

গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল নিউজিল্যান্ড। আজকের ম্যাচ জিতে সে অবস্থান আরো মজবুত হলো।

অন্যদিকে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে জয় ও বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ফলাফল না হওয়ায় পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় ছিল অজিরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া : ১৫১/১০, ওভার ৩২.২ (হাডিন ৪৩, ওয়ার্নার ৩৪, ওয়াটসন ২৩; বোল্ট ৫/২৭, ভেট্টরি ২/৪১, সাউদি ২/৬৫)

নিউজিল্যান্ড : ১৫২/৯, ওভার ২৩. ১ (ম্যাককালাম ৫০, উইলিয়ামসন ৪৫*, অ্যান্ডারসন ২৬; স্টার্ক ৬/২৮, কামিন্স ২/৩৮)

ফল : নিউজিল্যান্ড ১ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *