‘দল পুনর্গঠনের পর আবার সরকারবিরোধী আন্দোলন’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দল পুনর্গঠন করে বিএনপি আবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দল পুনর্গঠন করে বিএনপি আবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামবে।বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দল পুনর্গঠন করে বিএনপি আবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামবে।

তিনি শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে একথা বলেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলীয় নেতাকর্মী, রাজনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মামলা রয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী জেলে আছেন, গুম হয়েছেন। সুতরাং এখন আমাদের রি-অর্গানাইজ হতে হবে। দল পুনর্গঠনের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাব।’

প্রতিবারের মতো এবারও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাশকতা প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জ্বালাও পোড়াও-ভাঙচুরের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। যারা করেছে তাদের ধরা উচিত, শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন করব।’

হবিগঞ্জ পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা জিকে গউসের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় তিনি জেলে আছেন। সেখানেও ছুরি মারা হয়েছে। জেলাখানাও মানুষ নিরাপদ নয়।’

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বর্তমানে কী অবস্থা? দেশে সরকার আছে বলে মনে হয় না। আজকে যারা নিজেদের সরকার বলে দাবি করে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা বৈধ সরকার নয়। সে জন্যই জনগণের দুঃখ-দুর্দশার দিকে তাদের কোনো নজর নেই।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘রমজান মাসেও প্রতিনিয়ত গুম, খুন, ছিনতাই, রাহাজানির ঘটনা ঘটেছে। দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা আছে বলে মনে হয় না। প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি চলছে। যাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, তারা জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে। নিরাপত্তার নামে তারা জনগণকে ধরে নিয়ে যায়, মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে পারলে ভালো নইলে কাউকে জেলে যেতে হয়, না হয় গুম হতে হয়। এই হলো দেশের সত্যিকারের অবস্থা।’

সব কিছু দলীয়করণ করা হয়েছে দাবি করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন দলীয়করণ, পুলিশ দলীয়করণ, বিচার বিভাগ দলীয়করণ করা হয়েছে। সেখানে মানুষ সুবিচার পায় না। আজকে বিচার দু’ভাবে হয়। সরকারি দল হলে এক ভাবে বিচার পায় আর বিরোধী দল বা সাধারণ মানুষ হলে আরেকভাবে। তারা কোনো জামিন পায় না। দিনের পর দিন মিথ্যা মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আজকে বাংলাদেশকে একটা কারাগারে পরিণত করে রেখেছে এ অবৈধ সরকার।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘যুদ্ধ করে মানুষ দেশটাকে স্বাধীন করেছে। সবাই মিলে এ দেশটাকে গড়তে চেয়েছে। রাজনীতিতে দল থাকবে তাই বলে যে সম্পর্ক থাকবে না, একজন আরেকজনের কেউ চেহারা দেখবে না-এটা রাজনীতির লক্ষ্য হতে পারে না। আমাদের সঙ্গে সামাজিক-পারিবারিক সম্পর্ক থাকবে। যে যার মতো করে রাজনীতি করবে, কিন্তু কোনো হানাহানি থাকবে না-এমন রাজনীতির চর্চা করতে হবে।’ এ সময় তিনি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনের পদন্নোতি দাবি করেন।

দুদকের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এটা করাপশন কমিশনে পরিণত হয়েছে। এটা করাপশনের আড্ডা। টাকা নিয়ে মামলা দেবে। আবার মামলা তুলে নেবে এটা তো হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা কীভাবে লুটেপুটে খাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ ভাত পায় না, কাপড় পায় না, বিদেশে যাওয়ার জন্য তারা কীভাবে পাগল হয়ে জীবন বিপন্ন করে জাহাজে জাহাজে ঘুরছে। দেশে কাজ নেই তাই জীবন বিপন্ন করে বিদেশে যাচ্ছে। বিদেশেও আমাদের কোনো লোক নেওয়া হচ্ছে না। টোটালি বন্ধ। এমনকী মানুষ হজে বা ওমরাহ করতে যাবে সেখানেও ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা, যেতে পারছে না। কেন এ অবস্থা? বাংলাদেশীদের সুনাম কারা নষ্ট করেছে-সব এদের (সরকার) জন্য।’

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যে গম খাওয়া যায় না, সেটাকে যোগ্য প্রমাণ করে মানুষকে খাওয়াবে। টিআর, কাবিখা বন্যার্ত গরীব মানুষকে খাওয়াবে। দুর্নীতি করেও তারা অবাধে আছে। তাদের লুটপাটের কারণে বিদেশ থেকে কোনো সাহায্য আসছে না। আজ পর্যন্ত যত খুন, দুর্নীতি হয়েছে এর কোনো বিচার হয়নি। কিন্তু বিএনপি নেতাদের নামে মামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট ও জেল দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যে যাই বলুক, আমি এখনও বলব বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি। সে জন্য এ বিএনপিকে শেষ করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে। বিভিন্ন এজেন্সি, গ্রুপের খবরের কাগজে লেখানো হয়-বিএনপির মধ্যে বিভেদ, বিএনপির মধ্যে ঐক্য নেই। বিএনপির মধ্যে এই হচ্ছে, সেই হচ্ছে-এসব কিছুই নয়। বিএনপি মানুষের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। বিএনপি এ দেশের মানুষের জন্য আগেও কাজ করেছে, উন্নয়ন করেছে-কল্যাণ করেছে, আগামীতেও করবে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মানুষ অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে তারা প্রমাণ করুক (আওয়ামী লীগ) যে, তারা জনপ্রিয় নাকি বিএনপি জনপ্রিয়। কিন্তু সেখানেই তাদের ভয়। আপনার ঢাকা সিটি নির্বাচন দেখেছেন, এটা কী নির্বাচন হয়েছে? এটা ডাকাতীয় নির্বাচন।’

বিএনপি প্রধান বলেন, ‘এ সরকার দুর্বল। পুলিশ বলে, এ সরকারকে আমরাই টিকিয়ে রেখেছি। মেয়েদের ওপর কীভাবে নির্যাতন হচ্ছে। এমনকী মহিলা পুলিশের ওপরও নির্যাতন হচ্ছে। কোথাও কেউ নিরাপদ নয়। মানুষ এর হাত থেকে মুক্তি চায়। যে অবস্থাতেই থাকি জনগণের পাশে আছি, থাকব।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ না দেখলেও আল্লাহ তায়ালা দেখছেন, দেশে আজ কী জুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারীকে বাড়তে দেয়। কিন্তু সময় মতো এমন আঘাত করে তখন আর দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকে না। মানুষ এখন আল্লাহকে ডাকছে এবং আল্লাহ তায়ালা কারো না কারো ফরিয়াদ শুনবেন। অত্যাচারীদের পতন হবেই হবে।’

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সারোয়ারি রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, রিয়াজ রহমান, এনাম আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট, ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন, জাপনসহ ৩৯ দেশের রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র কূটনীতিক।

জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী, আমিনুল ইসলাম মোবারক হোসেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মর্তুজা, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।

পেশাজীবী ও বিশিষ্টজনদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার ‍মুস্তাহিদুর রহমান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাযহারুল আনোয়ার, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *