তারেককে ফেরত পাঠাবে না ব্রিটিশ সরকার

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। এই কারণেই ইংল্যান্ড সরকার তাকে ফেরত দিবে না।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। এই কারণেই ইংল্যান্ড সরকার তাকে ফেরত দিবে না।বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই জন্য সরকার সেখানকার পররাষ্ট্র দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি এখন লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। এই কারণেই ইংল্যান্ড সরকার তাকে ফেরত দিবে না। তারেক রহমানকে বাংলাদেশ সরকার জোর করে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে পারে এই আশঙ্কা থেকে তিনি আগে ভাগেই এই উদ্যোগ নেন। কারণ তার কাছে খবর ছিল সরকার তাকে যে কোন মূল্যে ফেরত আনার চেষ্টা করবেন। ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় তার বিচার করবেন। যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় এই জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এছাড়াও তার কাছে আরো খবর ছিল তিনি যাতে আগামি দিনে বিএনপির হাল ধরতে না পারেন সেই জন্য সরকার তাকে যে কোন ধরনের সমস্যায় ফেলতে পারে। সেই সব তথ্যের ভিত্তিতে ও সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে আপাতত যাতে তার দেশে ফিরতে না হয় সেই জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারকে ও ওই সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সেখানের কয়েকজন আইনজীবীরও পরামর্শ নেন। সেই হিসাবে তিনি আপদকালীন সময়ের জন্য বিশেষ করে তার সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যস্ত সেখানে অরাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার সিদ্ধাস্ত নেন। সেই হিসাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি সব সময় দাবি করেন চিকিৎসার জন্য সেখানে আছেন। কিন্তু তিনিতো সেটা না করে দলীয় ভাবে বক্তৃতা করে বেড়াচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য থাকলে সেটাই করতেন । তা না করে সরকার পতনের আন্দোলন করছেন। আবার বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কিত করছেন। এই সরকারের পতন চাইছেন। এটা কোন ভাবেই সহ্য করা হবে না। তার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক ইতোমধ্যে দুই দফা লন্ডন সফর করেছেন। তাকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া জানার পর তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও আদালতেরও নির্দেশ রয়েছে তার অবস্থান জানানোর জন্য। সেই অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ফেরত আনার জন্য চিঠি দিয়েছে।

তবে এই চিঠি দেওয়ার বিষয়ে চিস্তিত নন তারেক রহমান। তার ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, তারেক রহমান এটা নিয়ে চিস্তিত কিংবা বিচলিত নয়। সরকার তার ব্যাপারে অমানবিক আচরণ করছে। তাকে দেশে নিয়ে কারারুদ্ধ করবে। তার উপর নির্যাতন করবে এমনকি তাকে হত্যাও করতে পারে বলে যত ধরনের আশঙ্কার কথা রয়েছে সব ব্রিটিশ সরকার, সরকারের মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে সেখানকার সকল মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা, ইন্টারপোল সহ বিভিন্ন সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। এই কারণে সরকার দুর্নীতির মামলায় তাকে ফেরত নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিলেও সফল হতে পারেনি। বরং তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। কিন্তু সেটা করলেও কোন লাভ হবে না।

এদিকে তারেক রহমান লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন কিনা এই ব্যাপারে তারেক রহমানের আইনজীবী এডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, সরকার এখন তার সঙ্গে যে আচরণ করছে তা অমানবিক। এটা এখানে মানুষ মেনে নিলেও বিশ্বের অন্য কোন দেশ মেনে নিবে না। সরকার তাকে এখানে আনার পর কি করবে এটা সবাই আন্দাজ করতে পারছে। এই কারণে তাকে তারা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিবে না। সরকার যত চেষ্টা করুক না কেন লাভ হবে না। তাছাড়াও বিশ্বের বহু বড় বড় নেতা তার দেশের রাজনেতিক সংকট কালে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন থেকেছেন। এটা নতুন কোন ঘটনা নয়। তিনি সেখানে যদি আশ্রয়ে থেকে থাকেন তাহলে সমস্যাতো নেই। তাছাড়াও এটাও ঠিক সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তাকে নাকি লন্ডনে একটি বাড়ি দিয়েছে সরকার, এটা সত্য কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা দিলে তো ক্ষতি নেই। তবে আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।

এদিকে সূত্র জানায়, সরকার তারেক রহমানকে ফেরানোর ব্যাপারে যে কৌশল নিয়েছে সেই কৌশলে কাজ নাও হতে পারে। কারণ সরকার আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করেই চিঠি দিয়েছে। ওই ধরনের একটি চিঠি বাংলাদেশে থেকে যেতে পারে এটা আগেই জানিয়ে রেখেছেন তারেক রহমান। এই কারণে ইংল্যান্ড সরকার চাইলেই গুরুত্ব দিবে কিনা এনিয়ে সংশয় রয়েছে। যেখানে তারেক রহমানের বিষয় ওই দেশের সরকার, বিরোধী দল থেকে শুরু করে সবাই জানেন। তাছাড়া তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন। এখন কি অবস্থা চলছে সেটাও জানেন।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন তাকে ফেরত আনার জন্য চিঠি দেওয়ার কথা। তারেক রহমানকে ফেরত পাঠাতে গত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, তারেক রহমানের সর্বশেষ অবস্থান জানাতে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু, সরকার, আওয়ামী লীগকে বিদ্রুপ করে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা হয়। কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের বর্তমান অবস্থা জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার পাসপোর্টের মেয়াদ আছে কি নেই সেটা জানানোর জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শককে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী স্বাক্ষরিত চিঠি বুধবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

উল্লেখ, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড মামলাসহ আরো ১৫টি মামলা রয়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। এদিকে তার অবস্থান সম্পর্কে বার বার ঢাকার বৃটিশ হাইকমিশন থেকে জানার চেষ্টা করা হলেও কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। কোন ব্যক্তির অভিবাসন নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে তথ্য প্রকাশ যুক্তরাজ্যের নীতির মধ্যে নেই।

এই বিষয়টি লন্ডনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। সূত্রটি বলছে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেতো কোন সমস্যা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *