জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মো. জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মো. জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মো. জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০১৩ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী সংগঠগুলোর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ ছাড়াও জিল্লুর রহমানের পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

এছাড়া ‘জিল্লুর রহমান স্মৃতি পরিষদ’ ও ‘জনতার প্রত্যাশা’ এর যৌথ উদ্যোগে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ ছাড়া জিল্লুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ভৈরবের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাতে বাবা-মা-ভাইসহ সবাইকে হারানোর পর বঙ্গবন্ধু পরিবারের অঘোষিত অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এই সহচর।

যে কয়েকজন কীর্তিমান পুরুষ স্বাধিকার, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে জিল্লুর রহমান অন্যতম।

দীর্ঘ ৬২ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় দেশের ১৯তম রাষ্টপতি হয়েছিলেন তিনি। তিনি ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এম.এ. ও এল.এল.বি.ডিগ্রি লাভ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই জিল্লুর রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৪৬ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সিলেটে গণভোটের কাজ করার সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে আসেন।

১৯৬২ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণআন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

জিল্লুর রহমান রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক। তিনি মুজিবনগর সরকার কর্তৃক পরিচালিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনা এবং জয় বাংলা পত্রিকার প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে ২০ বছর কারাদণ্ড দেয় এবং সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনসহ  ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি বাকশালের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালের ২০ মার্চ তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *