জামায়াতকে দূরে রাখতে তারেকের সম্মতি

জামায়াতকে দূরে রাখতে তারেকের সম্মতি

জামায়াতকে দূরে রাখতে তারেকের সম্মতি২০ দলীয় জোট থেকে আপাতত জামায়াতকে দূরে রাখার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত জাতীয় ঐক্য গড়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরকে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া দ্রুত পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

উচ্চ আদালতে দণ্ড রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লন্ডন থেকে ফেরত বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

যুক্তরাজ্যে গত ১৬ জুলাই একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে লন্ডনে যান মির্জা ফখরুল। সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবারের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয়।

প্রতিনিধি দলটি শনিবার ঢাকায় ফিরেই রাতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর ঐক্য সম্পর্কে তারা তারেক রহমানের মনোভাব তুলে ধরেন।

এর পাশাপাশি দ্রুত বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ার জন্যও নেতারা তাকে পরামর্শ দেন। লন্ডন ফেরত নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পর রোববার রাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও গণস্বাস্থের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ দুজন জোটের বাইরে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে ঐক্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের পরামর্শগুলো চেয়ারপারসনকে অবহিত করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পর খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে করণীয় চূড়ান্ত করবেন।

লন্ডন ও ঢাকা সূত্র জানায়, বৃহত্তর ঐক্য এবং জামায়াত প্রসঙ্গ, দলের কমিটিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তারেক রহমান।

জামায়াতকে এ মুহূর্তে জোট থেকে বের করে দেয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ দেননি তারেক রহমান। তবে জামায়াতকে দূরে রাখতে তিনি সম্মতি জানিয়েছেন।

বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে জামায়াতকে দূরে রাখার বিষয়টি এর মধ্যে অন্যতম। জামায়াত ইস্যুতে জোটের বাইরে থাকা দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ নিতে বলেন।

সেই পরামর্শ নিয়ে পরে দলীয় ফোরাম এবং প্রয়োজনে জোটের অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছেন তারেক রহমান। পাশাপাশি জামায়াত নিয়ে সরকারের মনোভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সুযোগ থাকার পরও কেন সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছে না বিষয়টি জনগণের কাছে দলের পক্ষ থেকে জোরালভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেন এ নেতা।

তারেক রহমান দ্রুত দলের পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। বিগত সময়ে কোন নেতার কত বড় পদ ছিল সেটা বিবেচনা না করে যারা রাজপথে ছিলেন এবং দলের প্রতি আনুগত্য রয়েছে তাদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে যুবদল ও ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তারেক রহমানের এমন মনোভাব জানার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেই সুরে কথা বলেন। লন্ডন থেকে শনিবার দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। এ রায়কে আমরাও আইনগত এবং রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করব।

যুক্তরাজ্যে হাউস অব লর্ডসে এক সেমিনারে অংশ নিতে ১৬ জুলাই একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে লন্ডনে যান মির্জা ফখরুল। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দীন আহমেদ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *