ছাত্রদল সভাপতি রাজীব গ্রেফতার, জেল হাজতে প্রেরণ

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানসহ ৫ নেতাকর্মীকে আটকের পর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানসহ ৫ নেতাকর্মীকে আটকের পর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানসহ ৫ নেতাকর্মীকে আটকের পর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় আসামি করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তারিক শামস এর আদালতে হাজির করলে আদালত সিডব্লিউ মূলে আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে, গ্রেফতারের পর সময় ক্ষেপন করে আসামিদের আদালতে হাজির করায় সোমবার তাদের জামিন আবেদন করা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাজীব আহসানের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরওয়ার কালাম। মঙ্গলবার আসামিদের জামিন আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানসহ ছয়জনকে কুয়াকাটা যাওয়ার পথে পটুয়াখালীতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক অপর নেতাকর্মীরা হলেন- মেহেন্দিগজ্ঞ ছাত্রদলের মো. সালাউদ্দিন, মো. রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ জসিম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রিমো ব্র্যান্ডের গাড়ি আটক করা হয় যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ঢাকা মেট্রো-গ ২২-৫৬৮৮)।

রোববার রাতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ফেরিঘাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের এএসপি মো. সাহেব আলী পাঠান জানান।

তিনি বলেন, দুমকি থানার একদল পুলিশ রাত পৌনে ১২টার দিকে ফেরিঘাট থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

পরে রাতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, একটি সাদা প্রাইভেটকারে রাজীবসহ পাঁচজন ছিলেন।

ফয়েজ আহমেদের দাবি “তাদের গাড়ি তল্লাশি করে ৪৫টি ইয়াবা পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজীবের বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে।”

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার বলেছেন, ঢাকায় ঈদ করে রোববার সকালে বরিশালের মেহেদীগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে যান রাজীব।

সাত্তার বলেন,“বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে ও বাবার কবর জিয়ারত করে পটুয়াখালীতে এক আত্মীয়ে বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।”

জানা গেছে, ঢাকায় ঈদ করে বাবার কবর জিয়ারত করতে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে যান রাজীব। এরপর পটুয়াখালীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন রাজীব। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে দুমকির লেবুখালী ফেরিয়াট থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে থাকা রাজিবসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, আটকদের লেবুখালী ফেরিঘাট থেকে সরাসরি পটুয়াখালী ডিবি অফিসে নিয়ে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে প্রেস ব্রিফিং শেষে রাতেই পুলিশ প্রহরায় পটুয়াখালী সদর থানা হেফাজতে নিয়ে রাখা হয়। সোমবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে মাদক আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের আদালতে চালান দেওয়া হবে। প্রাইভেট কারটি জব্দ দেখানো হয়েছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজীব আহসানের বিরুদ্ধে পল্টন, শাহাবাগ ও মতিঝিল থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ঈদের দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছায় উপস্থিত ছিলেন রাজীব আহসান। এছাড়া জিয়াউর রহমান ও ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করার সময়ও বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তিনি।

এদিকে, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান আকরামের বাসাতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে আকরাম ঢাকার বাইরে থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

রোববার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আকরামের বাসায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায় বলে নিশ্চিত করেছেন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *