বাংলাদেশে গোয়েন্দা তৎপরতা নিউজিল্যান্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িত নিউজিল্যান্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে  বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িত নিউজিল্যান্ড।যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িত নিউজিল্যান্ড। এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সরবরাহ করেছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গোপন নথি নিয়ে প্রতিবেদনটি রচিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) সাবেক ঠিকাদার এডওয়ার্ড স্নোডেন মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যমের কাছে দেয়া তথ্যে নিউজিল্যান্ডের গুপ্তরচরবৃত্তির কথা ফাঁস করেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো প্রকাশ করে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। বুধবার গোপন নথিগুলো পত্রিকাটির হাতে যায় বলে জানানো হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের সরকারি তথ্য নিরাপত্তা ব্যুরো (জিসিএসবি) বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক গোয়েন্দাবৃত্তি চালাচ্ছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার পর শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী তৎপরতাকে সহায়তা করতে নিউজিল্যান্ড এ নজরদারি শুরু করে।

২০১৩ সালের এপ্রিলের একটি গোপন নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গোয়েন্দা তৎপরতায় নেতৃত্বে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা, সিআইএ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে জিসিএসবি।

খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে গোয়েন্দা তৎপরতার জন্য ঢাকায় একটি ‘তথ্যকেন্দ্র’ গড়ে তুলেছে জিসিএসবি। তারা স্থানীয় মোবাইল ফোন কলে আড়ি পাতছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, জিসিএসবি বাংলাদেশে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করার পাশাপাশি র‌্যাবের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গোয়েন্দাগিরি করেছে।

২০০৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জিসিএসবির গোয়েন্দা তৎপরতার অন্যতম লক্ষ্য ছিল র‌্যাব- যাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে ভবিষ্যতে অভিযান চালানো যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নিরাপত্তা সংস্থা ডিজিএফআই, র‌্যাব ও এনএসআই’র বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনসহ ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এ কারণে এসব বাহিনীর সাথে গোয়েন্দা তৎপরতার তথ্য ভাগাভাগিতে খোদ নিউজিল্যান্ডেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

স্নোডেনের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের গ্রীন পার্টি বৃহস্পতিবার বলেছে যে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জিসিএসবিকে জড়ানো হয়েছে।

গ্রীন পাটির সহ-প্রধান ড. রাসেল নরম্যান বলেছেন, জিসিএবসি বাংলাদেশের যেসব নিরাপত্তা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করেছে তারা আদিবাসী, সংখ্যালঘু , রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাংবাদিক, শ্রমিক নেতাদের হত্যা ও নির্যাতনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এতোটাই ‘ব্যাপকবিস্তৃত ও পদ্ধতিগত’ যে জিসিএসবির সরবরাহ করা তথ্য যে এসব সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনে কাজে লাগায়নি সেকথা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *