‘গণমাধ্যমকে নীতিমালার ভিত্তিতে চলতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কিন্তু এটি একটি নীতিমালার ভিত্তিতে চলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কিন্তু এটি একটি নীতিমালার ভিত্তিতে চলতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কিন্তু এটি একটি নীতিমালার ভিত্তিতে চলতে হবে। সরকার ৭৪ সালের সংবাদপত্র আইনকে আরো আধুনিক ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।

সাংবাদিকদের রমজানের মোবারকবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে কল্যাণ ট্রাস্ট আইন করছে। আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় সাংবাদিকদের সাথে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।’

সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগের সব কাজের সমালোচনা করে- এমন তীর্যক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছেন- যে গাছ ফল দেয়, সে গাছে ঢিল পড়ে। আমরা কাজ করি বলেই সমালোচনা হয়।’ তিনি সাংবাদিকদের সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান, যাতে সেখান থেকে সরকার শিক্ষা নিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। এটা কেউ কেউ না চাইলেও আমি চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দুই দফা ক্ষমতায় আসার ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। দারিদ্যের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সরকার অর্থনীতির চাকাকে সচল করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছে। এসব হঠাৎ করে আসেনি। নীতিমালা এবং পরিকল্পনা করে কাজ করার জন্য এটা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম টেলিভিশন খাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে আজ অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।’

সম্প্রচার নীতিমালা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ জন্য একটি কমিশন করা হয়েছে। শিগরিরই একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। সরকার অনলাইন নীতিমালা করারও উদ্যোগ নিয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কল্যাণ ট্রাস্ট্রে সরকার সাধ্যমতো অর্থ যোগানের ব্যবস্থা করবে।’ সরকারের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে বেসরকারি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মালিকদের এক টাকা করে হলেও জমা দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের জমির সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমি সাংবাদিকদের প্লট দিয়েছিলাম। সেসব প্লটের মালিকরা কি করেছে তা জানি না। প্লট না দিয়ে ফ্ল্যাট করে দিলে ভালো হতো। সে ক্ষেত্রে অনেক সাংবাদিক উপকৃত হতেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারই সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড গঠন ও বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু কেউ কেউ তা বাস্তবায়ন করেছে, কেউ কেউ করেনি। সরকার তা পর্যবেক্ষণ করছে।’ বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে আরো ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তিনি।
তিনি প্রেস ক্লাবকে আরো আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন করার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতি আহ্বান জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী তার বক্তব্যে বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে সাংবাদিকরা কাজ করবে।’

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *