‘খুনিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়‘

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা আবারো নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা আবারো নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা আবারো নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘কার সঙ্গে আলোচনা করব, খুনির সঙ্গে?’

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবরোধের আগুনে দগ্ধদের অর্থসহায়তা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

তিনি সেখানে ২০-দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের মধ্যে সহিংসতায় দগ্ধ ব্যক্তিদের অবস্থা পরিদর্শনে যান। সহিংসতায় দগ্ধ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজও আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে নিজের চোখ মুছতে দেখা গেছে। পরে দগ্ধ প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে আন্দোলনে রয়েছে বিরোধী জোট। গত ৫ জানুয়ারি থেকে তারা লাগাতার অবরোধ ডেকেছে। এর মধ্যে আগে ফাঁকে ফাঁকে হরতাল দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ হতে চললো টানা হরতাল চলছে।

এমন প্রেক্ষাপটে চলমান সংকট নিরসনে গত সোমবার নাগরিক সমাজ আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রীক চিঠি দিয়েছে, যাতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা।

নাগরিক সমাজের এই প্রস্তাবের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এগুলো বলছেন, তারা—যারা সন্ত্রাস করছে, জঙ্গিবাদ করছে, তাদের দেখছেন না? কার সঙ্গে আলোচনা করব? হত্যাকারীর সঙ্গে? আগুনে যে পুড়িয়ে মারে, তার সঙ্গে?’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার কথা বলে কিছু লোক খেলা শুরু করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে মারা গেল। আমাকে ঢুকতে দেওয়া হলো না। আমাকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, যারা আলোচনার কথা বলছেন, তাদের যদি সেভাবে অপমান করা হতো, তারা কি আর যেতেন?’

আলোচনার উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার অপরাধ কী? আমি ছয় বছর দেশ চালাচ্ছি। কোথাও কোনো গাফিলতি নেই। এটা তারা চোখে দেখে না?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১ জানুয়ারি বই দিয়েছি। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না। এটা কি ফাজলামি?’

আলোচনার উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা আগে খালেদা জিয়াকে মানুষ খুন করা থেকে বিরত থাকতে বলুন।’

হরতাল-অবরোধের নামে এভাবে পুড়িয়ে মানুষ মারার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে বাঁচার সুযোগ না দিয়ে হত্যা করা- এটা কোনো রাজনীতি না, এটা একেবারে জঙ্গিবাদী কাজ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। চোরাগোপ্তা হামলা রাজনীতি না, এটা সন্ত্রাস।’

তিনি আন্দোলনের নামে এভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা বন্ধ করতে বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এভাবে মানুষ হত্যা সহ্য করা হবে না। খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে।’

এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গিবাদের যেভাবে বিচার হয়, সেভাবে বিচার করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অর্থ যোগান দেয়, বোমা বানায়, বোমা মারে তারা সবাই দোষী। সবাইকে ধরতে হবে।’

বোমাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকলে মিলে প্রতিরোধ গড়তে হবে। যারা বোমা বানায়, বোমা মারে তাদের ধরিয়ে দিতে হবে।’

নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য এরইমধ্যে বেশ কয়েকজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এই মহিলার মানসিক বিকৃতি ঘটেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রীর কর্মকাণ্ড ও কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জল্লাদের খবর প্রচার না করাই ভালো। এদের খবর প্রচার না হলে টেলিভিশন কি চলবে না?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *