‘কুমিল্লাবাসীকে কুকর্ম নয়, সব সুকর্ম করতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে। নাম কুমিল্লা নাকি অন্য কোনো নামে হবে? আশা করি কুমিল্লাবাসী কোনো কুকর্ম করবে না। সুকর্ম করবে। ”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে।  নাম কুমিল্লা নাকি অন্য কোনো নামে হবে? আশা করি কুমিল্লাবাসী কোনো কুকর্ম করবে না। সুকর্ম করবে। ”কুমিল্লাবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে। এই বিভাগের নাম কুমিল্লা নাকি অন্য কোনো নামে হবে? কুমিল্লা নামে হতে হলে কুমিল্লাবাসীকে কুকর্ম নয়, সব সুকর্ম করতে হবে। আশা করি কুমিল্লাবাসী কোনো কুকর্ম করবে না। সুকর্ম করবে। ইনশাআল্লাহ আমরা বিভাগ করে দেব।”

কুমিল্লা শহরের টাউন হলে জাতীয় কবির ১১৬তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে সোমবার বিকেলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতাম সেটি কবি নজরুলের একটি কবিতা থেকে বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন। কবি নজরুল বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার লেখা অসাধারণ সব লেখা। তার লেখা গান কবিতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা দিয়েছে। জাতির পিতা তার সঙ্গে নজরুলের ঘনিষ্ঠতার কথা আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্যের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে হবে। নজরুলের অগ্নিঝরা কবিতা ও গান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিল অনন্ত প্রেরণার উৎস। জাতির পিতা বজ্রকণ্ঠ দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা এনেছেন। কবি নজরুলের লেখনী তাকে প্রেরণা দিয়েছে। জাতির পিতার আত্মজীবনীতে নজরুলের কথা রয়েছে।”

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৪ মে নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে নাগরিকত্ব দেন। তিনিই তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছেন। তার পরিবারকে সপরিবারে এ দেশে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বিপ্লবী নেতা ছিলেন। নজরুল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা ছিলেন। তারা একে অন্যের মনকে বুঝতে পেরেছেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “কুমিল্লার সঙ্গে কবির অনেক স্মৃতি বিজড়িত। তাই আমরা এবার জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের জন্য কুমিল্লাকে নির্বাচিত করেছি। আমাদের বাংলা সাহিত্যে কবি নজরুল এক নক্ষত্র। বিশ্বের অনেক ভাষার সঙ্গে তার লেখনীর চমৎকার সম্মিলন তিনি ঘটিয়েছেন। কুমিল্লায় কবি দীর্ঘদিন অবস্থান করেছেন। এখন অতি সহজে কুমিল্লায় আসা-যাওয়া করা যায়। তখন কলকাতা থেকে কবি রেলগাড়ি, নৌকা ও কাদা মাটি মাড়িয়ে কুমিল্লায় এসেছেন। এই কুমিল্লাকে তিনি ভালোবেসেছেন। কবি নজরুল স্বাধীনচেতা ছিলেন। তিনি আমাদের সংস্কৃতি ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কুমিল্লায় কবি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছেন। এখান থেকে হারিয়েছেন, পেয়েছেন এবং দিয়েও গেছেন। যে কারণে এখানে আমরা অনুষ্ঠান করছি। তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা লিখেছেন। ধনী দরিদ্র, নারী-পুরুষের কথা তার লেখনীতে ফুটে উঠেছে। নারী অধিকারের কথা তিনিই উচ্চারণ করেছেন। তার লেখায় কুলি, হরিজন, সাধারণ শ্রমিক, কৃষক, কামার, কুমার কেউ বাদ যায়নি। তাঁর কবিতা পড়লে মনে হয় সবকিছুই তিনি লিখে গেছেন। তাঁর লেখনীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল। তার ক্ষুরধার লেখনী প্রেরণা জুগিয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা সব সময় নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণ করি। ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি নজরুলকে ডি-লিট উপাধি দেয়া হয়েছে। বিশ্ব ভারতীর অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি কবি নজরুলের চুরুলিয়া গ্রামে গিয়েছিলাম। সরকার প্রধান হিসেবে সম্ভবত আমিই একমাত্র সেখানে গিয়েছিলাম। নজরুল আমাদের চেতনা ও প্রেরণার নাম। ১৯৯৬ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করি তখন টানা দুই বছর ব্যাপী কবির জন্ম শতবার্ষিকী পালন করি। কবির প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে।”

দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিকেল চারটায় কুমিল্লায় পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর এবার কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে কবির জন্মবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *