সাক্ষাৎ শেষে বের হয়েছেন কামারুজ্জামানের স্বজনরা

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কারাগার থেকে বের হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কারাগার থেকে বের হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কারাগার থেকে বের হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। শনিবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে তারা বের হন।

এর আগে বিকেল ৪টা ৬ মিনিটে তারা দুটি মাইক্রোবাসে করে কারা ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। গাড়ি দুটি নম্বর যথাক্রমে ঢাকা মেট্রো চ ১৩-৭৯১৭ ও চ ১৩-৮৩৭৪। মোট ২৪ জন কারাফটকের সামনে এলেও ভেতরে প্রবেশ করেছেন ২১ জন। অবশ্য পরে বাকি তিন জনকেও ঢুকতে দেয়া হয়। এদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী ও দুটি ৮-১০ বছরের শিশু রয়েছে। এসময় আরো পাঁচ জনকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও কারা পরিবারের সদস্য নিশ্চিত না হওয়ায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। ধরে নেয়া হচ্ছে এটিই পরিবারের সঙ্গে কামারুজ্জামানের শেষ সাক্ষাৎ।

শনিবার দুপুরে কামারুজ্জামানের ছেলেকে কারা কর্তৃপক্ষ টেলিফোন করে। তখন বলা হয়, বিকাল চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে পরিবার সদস্যদের কারাগারে পৌঁছার কথা বলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ফাঁসি কখন হচ্ছে- এ নিয়ে দিনব্যাপী তোলপাড় চলে। তিনি প্রাণভিক্ষা করবেন না, একথা জানিয়ে দেয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রাণভিক্ষার আবেদন বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে গতকাল সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন ঢাকা জেলার ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব জামিল ও তানভীর মোহাম্মদ আজিম। দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে কামারুজ্জামান বলেন, তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। কিন্তু দণ্ড কার্যকর করার জন্য তিনি আরো কিছু সময় চান। নিয়ম অনুসারে তিনি সাত দিন সময় পাবেন বলে দাবি করেন।

এর আগেই খবর বেরিয়েছিল কামারুজ্জামান কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দু’টি আবেদন জানিয়েছেন। এক. তাকে যেন শুক্রবার দিন ফাঁসি দেয়া হয়।দুই. ফাঁসির পর তাকে যেন গোসল এবং কাফন পরানো ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ আর্জি পেশ করার কারণ হলো- ইসলামের দৃষ্টিতে যারা শহীদ হন তাদের পরিহিত পোশাকেই দাফন করা হয়।

আজ শনিবার সকাল থেকেই মিরপুর ১১ নম্বরের কালশীর সাংবাদিক কলোনির ভেতর কামারুজ্জামানের বাসায় নিরবতা লক্ষ করা গেছে।

উল্লেখ্য, কামারুজ্জামানের বাসায় রাতের বেলায় কোনো পুরুষ সদস্য থাকেন না। তার স্ত্রী ও মেয়েরা থাকেন। দিনের বেলায় কামারুজ্জামানের ছেলেরা বাসায় আসেন।

এদিকে কয়েকদিন আগে থেকেই মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের দাফনের প্রস্তুতি শুরু করে শেরপুরের গ্রামে তার স্বজনরা।

শেরপুর সদরের কুমরি বাজিতখিলা এতিমখানা সংলগ্ন পৈতৃক জমিতে তাকে দাফন করা হবে। বুধবার বিকালে ট্রাকে করে মাটি ফেলে কামারুজ্জামান প্রতিষ্ঠিত এতিমখানা, মসজিদ ও কুমরি দাখিল মাদ্রাসার কাছে বাজিতখিলা গাজীরখামার রাস্তার পাশের জমিটি উঁচু করা হয়।  এতিমখানার ফাঁকা জায়গায় কবরের জন্য ইট ও বালু এনেও রাখা হয়েছে।

কামারুজ্জামানের বড় ভাই কফিল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, তার ভাইয়ের শেষ ইচ্ছা এবং পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্তেই এতিমখানার পাশের পৈতৃক জমিতে কবর দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে কামারুজ্জামানের লাশ হস্তান্তর, জানাজার নামাজ ও কবর দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।”

এর আগে শেরপুরের মাটিতে কামারুজ্জামানকে কবর দিতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

একাত্তরে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে ১৪৪ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিপক্ষ। গত বছরের ৩ নভেম্বর সোহাগপুর হত্যাকাণ্ডের দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে ৫ মার্চ তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। দুই দফা শুনানি পেছানোর পর গত রোববার আপিল বিভাগে ওই আবেদনের শুনানি হয়। ৬ এপ্রিল দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *