অ্যাশেজ লজ্জায় কান্নাভেজা বিদায় ক্লার্কের

ক্লার্ক হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে পঞ্চমবার অসিদের বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন।

ক্লার্ক হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে পঞ্চমবার অসিদের বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন।এমন বিদায় হয়তো মাইকেল ক্লার্কের ললাটে লেখা ছিল। ক্লার্ক হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে পঞ্চমবার অসিদের বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। সেই স্মৃতি তো এখনও তার মনে জ্বলজ্বল করার কথা।

ট্র্রেন্টব্রিজ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬০ রানের লজ্জা পোহাতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে ইনিংস এবং ৭৮ রানে। এক ম্যাচ হাতে রেখে ইংল্যান্ড অ্যাশেজ সিরিজ জিতেছে ৩-১ ব্যবধানে। অথচ গত বছরের জানুয়ারীতে এই ক্লার্কের নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়া ৫-০তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ইংল্যান্ডকে। দুটি সেঞ্চুরিসহ ক্লার্কের গড় ছিল ৪০ এর উপরে। সেখানে চলমান সিরিজে তার ব্যাটিং গড় ১৬।

এজবাস্টন টেস্ট হারের পর থেকেই ক্লার্ককে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া মিডিয়ায় কাঁটাছেড়া হচ্ছে। অনেকে ভেবেছিলেন তিনি চ্যাম্পিয়নের মতো ফিরবেন। কিন্তু সেটা আর হলো কোথায়? ট্রেন্টব্রিজে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হলেন ১৩ রানে। অ্যাশেজে লজ্জার হারে বোধহয় ধৈর্য্যর বাধও ভেঙে গেল ক্লার্কের। তাই তিনি ঘোষণা দিয়েই দিলেন, ২০ আগষ্ট, ওভাল টেস্টই হবে তার ক্যারিয়ারে শেষ টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার সফলতম অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ক্লার্ক, ২০১১ সালে। তার প্রথম সফরই ছিল বাংলাদেশে। এবারও যখন আরেকটি বাংলাদেশ সফর দুয়ারে, তার আগেই ক্রিকেটকেই বিদায় বলে দিলেন ক্লার্ক, ‘আমি আর একটি মাত্র টেস্ট খেলবো। এরপরই আমার ক্যারিয়ার শেষ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। ঝড়ের মুখে আমি এখন জাহাজ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যেতে চাই না। তাই আমি ওভালের শেষ টেস্টটা খেলবো।’

অ্যাশেজের পর নির্বাচকরা যে দলের উপর ছুরি চালাতেন সেটা নিশ্চিত। তোপটা ক্লার্কের উপরও পড়তো। তিনি সেই সুযোগ নির্বাচকদের না দিয়ে নিজেই সসম্মানে প্রস্থান করলেন। মাত্র চারমাস আগেই অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জেতানো ক্লার্ক নিজের পারফরম্যান্সে নিজেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এভাবে চলে যেতে চাইনি। এই সিরিজ এবং গত ১২ মাসে যেভাবে খেলেছি সেটা আমার কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। এটা খুবই হতাশাজনক।’

ক্লার্ক এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে ৪৬টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে ২৩টিতে দল জয় পেয়েছে। হেরেছে ১৬টি। ক্লার্কের অধীনে অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে খেলেছে ৭৪টি। এরমধ্যে জয় ৫০টি, হার ২১টিতে। ১৩ টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়েছেন আটটি সিরিজে।

বিশ্বকাপ জিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে ক্লার্কের বিদায় ছিল রোমাঞ্চকর। সেই ক্লার্ককে মুদ্রার অপর পিঠও দেখতে হলো টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলার সময়। হয়তো মনোকষ্ট থেকে তিনি বলে দিলেন, ক্রিকেট থেকে অনেক পেয়েছেন, বিনিময়ে কিছুই দিতে পারেননি, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একশ’র বেশি টেস্ট খেলেছি। এটা আমার পরম সৌভাগ্য। সবসময়ই বলে এসেছি ক্রিকেট আমার কাছে ঋণী নয়, আমি ক্রিকেটের কাছে ঋনী। এতদিন খেলতে পেরেছি বলে আমি কৃতজ্ঞ।’

ক্লার্কের রেকর্ডও কম সমৃদ্ধ নয়। ১১৪ টেস্টে ৪৯.৩০ গড়ে ৮ হাজার ৬২৮ রান করেছেন। সেঞ্চুরি ২৮টি, হাফ সেঞ্চুরি ২৭টি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩২৯। ২৪৫ ওয়ানডেতে ক্লার্কের রান ৭ হাজার ৯৮১ রান। গড় ৪৪.৫৯। সেঞ্চুরি রয়েছে ৮টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *