‘আগাছা উপড়ে ফেলতে হবে ছাত্রলীগকে’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা’ স্মরণে ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা’ স্মরণে ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “যারা আমাদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারা যেন জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলতে পারে। আমি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে বলব, কাজে-কর্মে যে আগাছা, তা উপড়ে ফেলে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।”

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা’ স্মরণে ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে অনেকেই এজন্য সংগঠনটিতে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ দায়ী করছেন।”

হাসিনা বলেন, “পরাজিত শক্তির দোসর ও চাটুকাররা এখনও কিছু আছে।”

বাবাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “জাতির পিতা বলতেন, ‘বাংলাদেশের মাটি উর্বর। এখানে চারা ফেলতেই যেমন গাছ হয়, তেমনি আগাছাও জন্মায়। অনেক সময় আগাছা প্রকৃত গাছকেই খেয়ে ফেলে’।”

হাসিনা বলেন, “রাজনীতিবিদরা যদি ঝুঁকি নিতে না পারে, আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নিতে না পারে, তাহলে দেশের জন্য কিছু দিতে পারে না। আদর্শ নিয়ে রাজনীতি না করলে, জনগণকে কিছু দেওয়া যায় না।”

শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতা এদেশের মানুষগুলোকে এত গভীর ভালোবাসতেন। আমরা তো ছিটেফোঁটা ভালোবাসা পেয়েছি। আমার একটাই লক্ষ্য, আমি যেন এই মানুষগুলোর ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে পারি।”

নিজের মায়ের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ একটা পরিবারের মতো ছিল। আর, সকলের আদরের ভাবী ছিলেন তিনি।”

তিনি বলেন, “এমনও নেতা ছিলেন, যখন তিনি মাসের পর মাস জেলে, তখন তার পরিবারের বাজারের খরচ দিতেন আমার মা। আর ওই নেতাই জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে হাত মেলায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, আমি খুনি মোশতাকের (মোশতাক আহমেদ) কথা বলছি। মোশতাকের স্ত্রী নিয়মিত আমার মাকে ফোন করতেন। আমার মা তাদের বাজারের টাকা পৌঁছে দিতেন।”

১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অনেকেই পরিচিত ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “দু’দিন আগেও তারা ওই বাড়িতে ভাত খেয়ে চলে গিয়েছিলেন। আমার বাবা কি ভেবেছিলেন যে, ওরাই ঘাতক হিসাবে ফিরে আসবে?”

১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সৈয়দ ফারুক রহমানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু সরকারের অর্থমন্ত্রী আজিজুর রহমান মল্লিকের আত্মীয়তার (শ্যালিকার ছেলে) কথাও তুলে ধরেন তিনি।

“রশীদ (পলাতক খন্দকার আবদুর রশীদ) মোশতাকের আত্মীয়। ডালিমের (পলাতক শরিফুল হক ডালিম) স্ত্রী ও শুড়ি তো আমাদের বাড়িতেই পড়ে থাকতেন। নূর ( কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত নূর চৌধুরী) তো কামালের সঙ্গে ওসমানী সাহেবের এডিসি ছিল,” বলেন তিনি।

হাসিনা বলেন, “আমার মা আমাদের শান-শওকতের মধ্যে বড় করেন নাই। তিনি যে ত্যাগ করে গেছেন- তার তুলনা হয় না।”

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ছাত্রলীগের এই আচরণ আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রের আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতিত্বে করেন। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুলতানা শফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ফখরুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ছাত্রলীগের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আদর্শভিত্তিক রাজনীতির উপর জোর দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *