অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন

অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমিতে রবিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে তিনি মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমিতে রবিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে তিনি মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন।অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমিতে রবিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে তিনি মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন। তিনি একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনেরও উদ্বোধন করেন।

বইমেলা ও সাহিত্য সম্মেলন আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি জাতি বিশ্বব্যাপী ভাষার জন্য মর্যাদা পেয়েছে। বাঙালিরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। আমি বাংলা একাডেমিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা বইমেলার আয়োজনের পাশাপাশি চার দিনব্যাপী সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন করেছিলেন। কিন্তু তার পর অনেক ব্যবধানে আবার সাহিত্য সম্মেলন বসছে। বিদেশি অতিথিরা তাদের বক্তব্যে এই বাংলা ভাষাকে আরো গভীরভাবে ভালোবেসে পূর্ণতা দিয়ে গেলেন। সেজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমির যে বইমেলা এই বইমেলা স্বল্প পরিসরে হওয়া সম্ভব নয় বলে আমরা সেটাকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করেছি। যেখানে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা ৭ই মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতিকে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবং যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিলাম সেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এই বইমেলা শুধু একটি মেলাই নয় এটি কবি, লেখকের তাদের আড্ডাখানা। যেখানে তাদের লেখাগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা হয়।বইমেলার মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জন করার সুযোগটাও মেলে।’

এসময় তিনি এমন একটি উৎসবের সময়ই রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বইমেলা ও সাহিত্য সম্মেলন এবং এসএসসি পরীক্ষার জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে সংহিসতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকসহ বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, কবি ও লেখকেরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লেখকেরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০১৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া ৬ জন কবি ও সাহিত্যিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। কবিতায় শিহাব সরকার, কথাসাহিত্যে জাকির তালুকদার, প্রবন্ধে শান্তনু কায়সার, গবেষণায় ভূঁইয়া ইকবাল, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, আত্মজীবনীতে মঈনুস সুলতান ও শিশুসাহিত্যে খালেক বিন জয়েনউদদীন এ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *