‘অচলাবস্থা থেকে বাঁচাতে প্রয়োজন অর্থবহ নির্বাচন’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, অচলাবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে অর্থবহ নির্বাচন দিতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, অচলাবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে অর্থবহ নির্বাচন দিতে হবে।বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, অচলাবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে অর্থবহ নির্বাচন দিতে হবে।

রোববার বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির ‘নবরাত্রি’তে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এ্যাব আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় এ অভিযোগ করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, পঁচা গম এনেও দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী এখনো আরামেই মন্ত্রীত্ব করে যাচ্ছেন। রাস্তা-ঘাটের কী অবস্থা। গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। বন্যার্তরা দুই বেলা খাবার পাচ্ছে না। ওইসব দিকে সরকারের কোনো নজর নেই। তাই বলছি দেশ চলছে না। দেশ আজ অচল।

ইফতার অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীরা অংশ নেন। ইফতার অনুষ্ঠানে আসন্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিউটশন নিবার্চনে মহসিন আলীকে সভাপতি ও শরীফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এ্যাব এর প্যানেল ঘোষণা করা হয়।

গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে উত্তরণে নিরপেক্ষ নিবার্চনের দাবির কথা পূনরুল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিদেশীরাও বলছে, ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে কোনো নিবার্চন হয়নি। সিটি করপোরেশনের যে নিবার্চন হয়ে গেলো, তাও তাদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়নি। সেজন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে একটা নিবার্চন। তাহলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, সুশাসন, মানবাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠা হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

বন্যায় দুর্গতদের অবর্ননীয় দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, বন্যার্তরা সাহায্য পাচ্ছেন না। তারা ক্ষুধার্ত। রোজার দিনেও তারা দু’বেলা ঠিকমতো খাবার পাচ্ছেন না। অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে আছেন তারা।

গ্রামাঞ্চলের কর্মহীন অবস্থার কারণে মানুষ দলালদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে সাগরে ভাসছে বলে অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকার ফলে গ্রামে কোনো কাজ নেই। কর্মহীন মানুষজন বিদেশে যেতে গিয়ে দালালের খপ্পড়ে পড়ে সমুদ্রে ভাসছেন। এই সরকার জনগনের ভোটে নিবার্চিত নয় বলেই জনগনের প্রতি তাদের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। তারা (সরকার) আছে কেবলমাত্র লুটপাটে।

বিরোধী দলের ওপর সরকারের দমনপীড়ন ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীনরা গ্রামাঞ্চলে এতো অত্যাচার-নিপীড়ন করছে যে, কেউ গ্রামে থাকতে পারছেন না। তাদের না পেয়ে পরিবার-পরিজনের ওপর অত্যাচার চালায়, তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয় দেয়। তাদের সব কিছু লুটপাট করে নিচ্ছে। এর নাম কী রাজনীতি, এর নাম কী গণতন্ত্র?

এর অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। এ্যাব এর কারাবন্দি সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে প্রতিবাদী নেতা অভিহিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রতিবাদী কন্ঠস্বর মাহমুদুর রহমান সত্যের পক্ষে কথা বলার জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য তাকে দিনের পর দিন জেল খাটতে হচ্ছে।

মাহমুদুর রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বলব তিনি যেন জামিন নেন। তিনি জামিন রিফিউজ করেছেন। আমি বলব, তাকে জামিন নিয়ে প্রকৌশলীদের মাঝে ফিরে আসতে হবে। তার লেখনি মানুষ আবার দেখতে চায়।

আসন্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের নিবার্চনে জাতীয়তাবাদী ফোরামের ঘোষিত প্যানেলকে বিজয়ী করার জন্য প্রকৌশলীদের প্রতি আহবান জানান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার সাথে এক টেবিলে ছিলেন এ্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেন ছাড়াও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সম্মিলিতি পেশাজীবী পরিষদের রুহুল আমিন গাজী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, সিনিয়র প্রকৌশলী সৈয়দ মুনসিফ আলী, মিয়া মো. কাইউম, শাহ আলম, মহসিন আলী, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, হাছিন আহমেদ প্রমুখ।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে আ স ম হান্নান শাহ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আহমেদ আজম খান, ফজলুল হক মিলন, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবীর খোকন, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, শামা ওবায়েদ, ২০ দলীয় জোটের সাহাদাত হোসেন সেলিম, এমএম আমিনুর রহমানও ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কলামিস্ট সাদেক খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদও ইফতারে অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *