২৮৮৭ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

২৮৮৭ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

232
0
SHARE

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার ৮টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত ৮টি প্রকল্পের ৭টিই নতুন।জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার ৮টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত ৮টি প্রকল্পের ৭টিই নতুন।

অনুমোদিত প্রকল্প ৮টির প্রাক্কলিত মোট অর্থের মধ্যে সরকারি খাত থেকে ১ হাজার ৩শ’ ৮৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, প্রকল্প সাহায্য ১ হাজার ৪শ’ ৯৭ কোটি ৯ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর’ ২০১৪) শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) সভায় এ ৮টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

একনেক সভায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব রোড সেফটি অ্যাট ব্ল্যাক স্পটস অন ন্যাশনাল হাইওয়ে’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১শ’ ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের জাতীয় মহাসড়কের ১৪৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান তথা ব্ল্যাক স্পট এর সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পটি নিয়ে বলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের ইন্টারসেকশন উন্নয়ন, পথচারি ক্রসিং এর উন্নয়ন, সড়ক বাক সরলীকরণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

চিহ্নিত ১৪৪টি ব্ল্যাক স্পট এর মধ্যে ঢাকা জেলায় ৩৪টি গোপালগঞ্জ জেলায় ৬টি, কুমিল্লা জেলায় ৮টি, সিলেট জেলায় ১৪টি, খুলনা জেলায় ১১টি, বরিশাল জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩৫টি এবং রাজশাহী জেলায় ৩৪টি ব্ল্যাক স্পট রয়েছে।

মেঘনা নদীর উজানে অবস্থিত হাওর এলাকায় অতি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মান করে আগাম বন্যা হতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং কৃষি কার্যক্রম সমম্প্রসারণের মধ্যদিয়ে এলাকার জনগণের জীবনমান ও অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

‘হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন (বাপাউবো অংশ)’ শীর্ষক ৯শ’ ৯ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প  অনুমোদিত হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জুলাই ২০১৪ হতে জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০২২ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রাক্কলিত মোট ব্যয়ের মধ্যে জিওবি ৩শ’ ৯৮কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৫শ’ ৯৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।এ প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী হলো জাইকা।

কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৩২টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পটির আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার খাল পুনঃখনন, সাবমার্জিবল বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসন, রেগুলেটর স্থাপন ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের ঢাকা শহরে আবাসন সমস্যা সমাধানে একনেকে ‘আজিমপুর সরকারি কলো‍নিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ এবং ‘মতিঝিল সরকারি কলোনিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক দুটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

‘আজিমপুর সরকারি কলোনিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ নামক প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২শ’ ২০ কোটি ৪৫লাখ টাকায় জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০১৮ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।

এ প্রকল্পটির আওতায় ২টি ২০তলা ভবনে প্রতিটি ১০০০ বর্গফুট আয়তনের ১৫২টি ফ্ল্যাট এবং ৪টি ২০ তলা ভবনে প্রতিটি ৮০০ বর্গফুট আয়তনের ৩০৪টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে।

অপরদিকে, ‘মতিঝিল সরকারি কলোনিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটিও সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১শ’ ৭৬ কোটি ৪২ লাখ টাকায় জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০১৮ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।

এ প্রকল্পটির আওতায় ৪টি ২০তলা ভবনে প্রতিটি ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ৫৩২টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে।

‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত ) সংগ্রহ’ শীর্ষক ১হাজার ১শ’৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার অপর একটি সংশোধিত প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে জুলাই ২০১২ হতে ডিসেম্বর ২০১৬ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এ প্রকল্পের আওতায় সিগন্যালিংসহ ঢাকা-টঙ্গীর মধ্যে বিদ্যমান রেল ট্র্যাকের সমান্তরাল ৪৮.৮ কি.মি. নতুন ডুয়েল ট্র্যাক এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে বিদ্যমান রেল ট্র্যাকের সমান্তরাল ১২.২৮ কি.মি. নতুন ডুয়েল ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী হলো ভারত সরকার।

সভায় ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের জন্য সুইচিং স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১শ’ ২১কোটি ৫৮ লাখ টাকার অপর একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০১৬ মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করবে।

এ প্রকল্পের আওতায় মাগুরা, ঠাকুরগাও, মেহেরপুর ও জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা হবে।

‘মতলবে ধনাগোদা নদীর উপর সেতু (মতলব সেতু) নির্মাণ’ এবং ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কর্মসূচি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক অপর দুটি প্রকল্পও একনেকে অনুমোদিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী  আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments