৪ বছরের শিশু দেখতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের মতো
সারাদেশ

৪ বছরের শিশু দেখতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের মতো

৪ বছরের শিশু দেখতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের মতো বায়েজিদ, জন্ম ২০১২ সালের ১৪ মে। সেই হিসেবে বয়স এখন চার বছরের কিছু বেশি। অত্যন্ত বিরল এবং জটিল কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত বায়জিদ।

এ ধরণের বিরল ‘জেনেটিক ডিজঅর্ডারে’ (Genetic Disorder) আক্রান্ত আরও একশোর বেশি শিশু আছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ডাক্তারি ভাষায় এর নাম ‘প্রোজেরিয়া’ (Progeria) বা ‘হাচিনসন-গিলফোর্ড প্রোজেরিয়া সিনড্রোম’ (Hutchinson–Gilford progeria syndrome, HGPS, progeria syndrome)।

শিশুটির বয়স মাত্র ৪ বছর। কিন্তু দেখে মনে হবে যেন আশি বছরের এক বৃদ্ধ মানুষ নির্বাক তাকিয়ে আছে। সমপ্রতি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেছে বায়েজিদ নামে শিশুটি । তার চেহারায় দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধের মত ছাপ। জন্মের পর থেকেই এমন অদ্ভুত রোগ ও চেহারা নিয়ে বড় হচ্ছে বায়েজিদ।

পরিবারের একমাত্র শিশুর এমন অদ্ভত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বড় দুঃখ, কস্ট আর চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ওই শিশুটির পরিবার। বায়েজিদের বাবা খালিয়া গ্রামের মো. লাভলু শিকদার ও মা তৃপ্তি খাতুন। আর বায়জিদ তাদের একমাত্র সন্তান। নিজের সামান্য জমি জায়গায় চাষাবাদ করেই জীবিকা নির্বাহী করেন বায়জিদের বাবা। একমাত্র আদরের ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছে এই দরিদ্র পরিবারটি।এখন চিকিৎসা খরচ চালাতে চরম হিমশিম খাচ্ছে বায়জিদের দরিদ্র ওই পরিবার। নিস্পাপ শিশুটিকে বাঁচাতে সমাজের সকলের সহায়তা চেয়েছেন তারা।

অন্য দশটি শিশুর চেয়ে বায়েজিদ সম্পূর্ণ আলাদা। বায়েজিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তার মা তৃপ্তি খাতুন বলেন, স্বাভাবিক ভাবে শিশুরা ১০ মাসে হাটা শিখলেও বায়েজিদ হাটতে শিখেছে তিন বছর বয়সে। সাত- আট মাস বয়সের সময় সে হামাগুড়িও দিতে পারতো না। কিন্তুু তিনমাস বয়সে তার সবগুলো দাঁত উঠে গেছে। এছাড়া সে স্বাভাবিক নিয়মেই খাওয়া দাওয়া ও হাটাচলা করতে পারে। শৈশবকালে সন্তানের এমন বিকৃত চেহারা দেখে ভয়ে কেউ কাছে আসত না। আমি তাকে পরম যত্নে স্নেহ মমতা দিয়ে বড় করছি। বায়েজিদের বাবা লাভলু শিকদার বলেন, ছেলের এই অসুখের জন্য অনেক ডাক্তার দেখিয়েছ। কোন ডাক্তারই অসুখ ধরতে পারেননি। অনেক কষ্টে টাকা-পয়সা জোগাড় করে কয়েক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও কোন ফল পাইনি। বেশির ভাগ চিকিৎসকেরা তাকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

কিন্তু এই খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে তার পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোকসেদুল মমিন জানান, একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি অনেকটাই যেমন জিনগত ও পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে তেমনি নির্ভর করে তার সার্বিক সুস্থতা ও হরমোনের ওঠানামার ওপর। তাই নানা ধরনের জেনেটিক সমস্যায় এমন হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে টার্নার বা ডাউনস সিনড্রোম বলা হয়।

প্রোজেরিয়ায় আক্রান্তদের বয়স বাড়ে খুবই দ্রুত, স্বাভাবিকের তুলনায় বহুগুণ বেশি হারে। ফলে এরা সাধারণত ১৪ বছরের মধ্যেই মারা যায়। তবে এই জেনেটিক কন্ডিশনে আক্রান্ত শিশুদের বুদ্ধিমত্তা কিন্তু আর দশটা শিশুর মতই।

এ রোগের চিকিৎসা থাকলেও তা অনেক জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ বলে জানান তিনি । এদিকে শিশু বায়েজিদের সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া ও সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *