প্রতিদিন ৪০ প্রবীণকে খাবার খাওয়ান তিনি

প্রতিদিন ৪০ প্রবীণকে খাবার খাওয়ান তিনি

26
0
SHARE

প্রতিদিন ৪০ প্রবীণকে খাবার খাওয়ান তিনিদেলমা, ৮৫ বছর বয়সের একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। মুম্বাইয়ের বরিভালির সি কলোনিতে আজ অনেকদিন ধরে বাস করে আসছেন। কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সে এমন কোন সহৃদয়বান খুঁজে পাননি যিনি নিজের হাতে তাকে রান্না করে খাওয়াবে এমনকি তার দেখাশোনা করবে। কিন্তু প্রতিদিন দুপুর গড়ালেই তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তার ছেলের বয়সী একজন তার জন্য প্রতিদিন দুপুরে খাবার নিয়ে আসে। এই খাবারটি মুম্বাইয়ের বরিভালি এলাকার সি কলোনির প্রবীণদের কথা মাথায় রেখে স্বাস্থসম্মত উপায়ে রান্না করা হয়। দেলমার মতো সি কলোনির এমন আরো ৪০ জন প্রবীণ আছেন যাদের জন্য প্রতিদিনের দুপুরের খাবার নিয়ে আসে ওই কলোনিরই একজন মার্ক ডিসুজা। বয়স ৫৯ বছর।

তিন বছর ধরেই তিনি সি কলোনির ৪০ জন প্রবীণদের মাঝে খাবার বিতরণ করে আসছে। এই খাবারের বিনিময়ে তিনি তাদের কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা নেন না। খাবারের বিনিময়ে এসব প্রবীণদের আশীর্বাদ ও তাদের মুখের হাসি ছাড়া কিছুই চান না তিনি। তার ভাষ্যমতে, ‘আমার মা-বাবা বেঁচে নেই তবে আমার শ্বাশুড়ি আমাদের সঙ্গে থাকেন। আমরা তার দেখাশোনা করি। একদিন অফিসে বসে আমি ভাবতে থাকি আমার শ্বাশুড়ির মতো এমন অনেক প্রবীণ আছেন যাদের দেখার কেউ নেই এবং একা থাকেন এই শহরে। তাদের জন্য কি আমরা কিছুই করতে পারি না। এরপর স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে এই উদ্যোগ নেই।’

এই উদ্যোগে তার স্ত্রী তাকে মনেপ্রাণে উৎসাহ দিয়েছিল। নিজের জমানো টাকা থেকে পাঁচ হাজার রুপি মার্ককে দিয়েছিল তার এই মহৎ উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোর জন্য। ২০১২ সালে ১৪ নভেম্বর দিপাবলীর দিন মার্ক তার এই শুভ কাজের সূচনা করেন। এই কাজের জন্য মার্ক প্রথম সি কলোনিতে কতজন প্রবীণ লোক আছেন তাদের একটি তালিকা তৈরি করেন এরপর এদের মধ্যে যারা একা থাকেন ও শারিরীকভাবে অক্ষম তাদেরকে খাবার দেয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। বর্তমানে ৪০ জন প্রবীণকে প্রতিদিন দুপুরের খাবার দেয়া হয়।

তবে এর মধ্যে অনেকে আছেন যাদের প্রতিদিনের খাবার প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে দিনে ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো খাবার তৈরি করতে হয়। প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে আড়াইটার মধ্যে সকলের ঘরে খাবার পৌছে দেয়া হয়।

এই কাজের জন্য তিনি একটি বাবুর্চি নিয়োগ করেছেন যার বেতন মাসে সাতহাজার টাকা। আর রান্নার জন্য তিনি প্রতি ১৫ দিন পর পর বাজার করেন। এর মধ্যে অনেকে আছেন যারা দিনের পাশাপাশি রাতের খাবারও চেয়ে থাকেন আবার অনেকে সপ্তাহে একবার পাঠাতে বলেন। সেক্ষেত্রে দিনের পাশাপাশি রাতেও রান্না করে খাবার পাঠাতে হয় তাকে। আবার এর মধ্যে অনেকে আছে সাকাহারি তাদের জন্য আবার আলাদা খাবার তৈরি করতে হয়। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, রুটি, ডাল এবং সব্জী। আর সপ্তাহে একদিন ফল, আইসক্রিম, মুরগী, বিরিয়ানী এবং অনেক কিছু।

মার্ক বলেন, ‘এই কাজের জন্য আমি কারো কাছ থেকে কোন প্রকার আর্থিক সহায়তা নেই না। নিজের খরচে আমি এই কাজ করে থাকি। সকাল আটটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত অফিস করে আমি বাসায় যেয়ে বাড়ি বাড়ি খাবার দিয়ে আসি। এরপর আবার অফিস যাই এবং সন্ধ্যে সাতটার দিকে বসায় ফিরে আবার রাতের খাবার দিতে যাই। আমি সারাক্ষণ কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যাস্ত রাখতে চাই। আর আমার পরিবারের সহায়তা না পেলে এটা করা আমার পক্ষে কোনদিন সম্ভব হতো না।’ তার এই খাবার দেয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অনেকেই তাকে সাহায্য করার ইচ্ছে জানিয়েছে। একটি বিদেশী সংস্থা তাকে পুরষ্কৃত করে এবং তাকে একটি বৃদ্ধাশ্রম খুলে দেয়ারও ইচ্ছে জানায়। তবে এই ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি মার্ক।

Comments

comments