এই ম্যাচে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাউন্ডারি থেকে সবচেয়ে বেশি রানের। ২৭২ রানই এসেছে শুধু চার-ছক্কা থেকে। ৩৮টি চার ও ২০টি ছক্কা থেকে।
খেলা

২১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে ভারতের পরাজয়

এই ম্যাচে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাউন্ডারি থেকে সবচেয়ে বেশি রানের। ২৭২ রানই এসেছে শুধু চার-ছক্কা থেকে। ৩৮টি চার ও ২০টি ছক্কা থেকে। প্রোটিয়াদের রানের পাহাড়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। ৪৩৯ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩৬ ওভারে ২২৪ রানে গুটিয়ে যায় ধোনি বাহিনী। শুধু গুটিয়ে গেল যায়নি, সামান্য লড়াইটুকুও করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ভারত ম্যাচ হারে ২১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।

পাঁচটি ম্যাচের সিরিজে ২-২ অবস্থানে এ দিন ফাইনাল খেলতে নামে দুই দল। ‘ফাইনালে’ এবি ডি ভিলিয়ার্স, কুইন্টন ডি কক ও ফ্যাফ ডু প্লেসিসের সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিকে সওয়ার হয়ে চার উইকেটে ৪৩৮ রানে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।

ওপেনার ডি’ককের ৮৭ বলে ১০৯ রানে ওয়াংখেড়েতে প্রথমেই এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১৫ বলে ১৩৩ রান করে চোটের কারণে প্যাভিলিয়ানে ফিরে যান ডু প্লেসিস। এর পর হাল ধরেন ডি’ভিলিয়ার্স। ১১টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৬১ বলে ১১৯ রানের রাজকীয় ইনিংস খেলেন তিনি। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার একই ম্যাচে এক সঙ্গে তিন জন ব্যাটসম্যান শতরান করলেন। চলতি বছরের গো়ড়ার দিকে জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই রেকর্ডও রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ঝুলিতেই।

এই ম্যাচে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাউন্ডারি থেকে সবচেয়ে বেশি রানের। ২৭২ রানই এসেছে শুধু চার-ছক্কা থেকে। ৩৮টি চার ও ২০টি ছক্কা থেকে। এর আগের রেকর্ডটি ছিল শ্রীলঙ্কার। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৫৬ রান তুলেছিল বাউন্ডারি থেকে।

ভারতের মাটিতে এক দিনের ম্যাচে এটাই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০১১ সালে ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেটে ৪১৮ রান করেছিল ভারত। এক দিনের ম্যাচের ইতিহাসে এই স্কোর তৃতীয় সর্বোচ্চ। এই নিয়ে ১৭ বার ৪০০ রানের গন্ডি পেরোল কোনো দল।

শুরু থেকেই এ দিন ভারতের বোলিং লাইন ছিল নড়বড়ে। ভুবনেশ্বর কুমারের ১০৬ রানে এক উইকেট, মোহিত শর্মার ৮৪ রানে এক উইকেট ও হরভজন সিংয়ের ১০ ওভারে ৭০ রানের জেরে শুরু থেকেই প্রথম ইনিংসে চালকের আসনে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ব্যাটিংয়ের সময় সেই নড়বড়ে দেখায় ভারতকে। আজিঙ্কা রাহানের ৬৭ ও শিখর ধাওয়ানের ৬০ রান বাদে অন্য কেউ বলার মতো রান করতে পারেননি। প্রোটিয়াদের হয়ে রাবাদা ৪টি, ডেল স্টেইন ৩টি ও ইমরান তাহির ২টি উইকেট নেন।

এটি ওয়ানডে ক্রিকেটের যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০০৬ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ওয়ানডের সর্বোচ্চ ৪৪৩ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। এর পরের ৪৩৯ রানের স্কোরটিও দক্ষিণ আফ্রিকার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জোহান্সবার্গে ওই স্কোর গড়েছিল ডি’ভিলিয়ার্সরা। ওই ম্যাচেই ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম বলে (৩১ বলে) সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন ডি’ভিলিয়ার্সরা।

২০০৬ সালেও ৪৩৮ রানের স্কোর গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহান্সবার্গে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৩৮ রান টপকে সেদিন ম্যাচ জিতেছিল তারা।

পাঁচ ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি করে সিরিজ সেরা হয়েছেন এবি ডি’ভিলিয়ার্স। আর অঘোষিত এই ফাইনাল ম্যাচের সেরা পুরস্কার পেয়েছেন কুইন টিন ডি কক। দু’দলের চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে ৫ নভেম্বর, মোহালিতে।

রেকর্ড বুকে ভুবনেশ্বর কুমার

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বোলিং আক্রমণ শুরু করা ভুবেনেশ্বর ১০ ওভারে ১০৬ রান দিয়ে পান এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট।

ভারতের হয়ে ওয়ানডেতে এক ইনিংসে প্রথমবারের মতো শত রান দেন বিনয়। ২০১৩ সালে ব্যাঙ্গালোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ ওভার বল করে ১০২ রান দেন তিনি। দেশের হয়ে এটাই এখন পর্যন্ত এই পেসারের শেষ ম্যাচ হয়ে আছে।

বিনয়ের চেয়েও বেশি রান দেওয়া ভুবনেশ্বর ওয়ানডেতে সবচেয়ে খরুচে বোলারদের তালিকার দুই নম্বরে আছেন এখন। সবার ওপরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিক লুইস।

২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে উইকেটশূন্য থাকা লুইস দেন ১১৩ রান। এই ম্যাচের পর আর কখনও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা হয়নি তার।

ওয়ানডেতে একশর বেশি রান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এ পর্যন্ত আটবার। ১৯৮৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের মার্টিন স্নেডেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি মেডেনসহ ১২ ওভার বল করে ১০৫ রান দেন। এরপর ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে ৪৩৪-৪৩৮ রানের সেই ম্যাচে একশ’ রান দেন লুইস।

২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি ক্রাইস্টচার্চে ভারতের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে ১০৫ রানে উইকেটশূন্য থাকেন। তিন বছর পর নিউ জিল্যান্ডের আরেক বোলার করেন রান দেওয়ার শতক।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নেপিয়ারে ৯ ওভার বল করে ১০৫ রান দেন ড্যানিয়েল ভেট্টরি। শত রান দেওয়া একমাত্র স্পিনার তিনি।

বোলারদের শতরান দেওয়ার বাকি দুটি ঘটনা ঘটেছে চলতি বছরই। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেসন হোল্ডার দুটি মেডেনসহ ১০ ওভার বল করে ১০৪ রান দেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আফগানিস্তানের দৌলত জাদরান একটি মেডেনসহ ১০ ওভার বল করে ১০১ রান দেন।

রোববার প্রথম ৬ ওভারে ৪৬ রান দেন ভুবনেশ্বর। এই পেসারের শেষ ৪ ওভার থেকে ৬০ রান সংগ্রহ করে অতিথিরা। এর মধ্যে শেষ ওভার থেকেই আসে ২০ রান।

কুইন্টন ডি কককে ১৭ বল করে ২০ রান দেন ভুবনেশ্বর। অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হাশিম আমলাকে ১ বল করে ১ রান দেন তিনি।

ফাফ দু প্লেসিকে ২২ বল করে ৩৩ রান দেন ভুবনেশ্বর। তার ওপরে চড়াও ছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ডেভিড মিলার। ডি ভিলিয়ার্স ১১ বলে চারটি ছক্কাসহ নেন ২৯ রান। মিলার ৫ বল খেলে নেন ১৪ রান। ফারহান বেহারদিনকে ৪ বল করে ৮ রান দেন ভুবনেশ্বর।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *