২০ বছরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১ হাজার ৯৭০ জন

২০ বছরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১ হাজার ৯৭০ জন

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত দুই দশকে বিভিন্ন সময়ে ২৬টি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ২০০১ সাল থেকে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টার ঘটনা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে গত ২০ বছরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১ হাজার ৯৭০ জন

২০০১ সালের আগস্ট মাসে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে মিরপুর এবং কাফরুলে। কাফরুলের ঘটনায় ২৬ জন এবং মিরপুরের ঘটনায় ২৪ শ্রমিক নিহত হন।

২০০৪ সালের মে ও ডিসেম্বর মাসে নরসিংদীতে দুটি গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫৭ শ্রমিক নিহত হন।

২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্ট কারখানায় ২০ শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০০৬ সালে চট্টগ্রামের একটি পোশাক শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ শ্রমিক নিহত হন।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বছর ২০১০ সাল। বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্ট কারখানায় আগুনে নিহত হন ২১ শ্রমিক। একই বছরের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে একটি আবাসিক ভবনে বিয়েবাড়ির রান্নার জন্য ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপিত অস্থায়ী গ্যাসের চুলা থেকে ভবনের নিচতলায় রাখা অবৈধ রাসয়নিকের গুদামে আগুন লাগলে ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে এবং পুড়ে নিহত হন সরকারি হিসাবে ১১৭ জন (বেসরকারি হিসেবে ১২৪ জন)। একই বছরে ডিসেম্বর মাসে আশুলিয়ায় আরেকটি গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ৩০ শ্রমিক।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ কারখানার দরজা জোর করে বন্ধ রাখলে ভেতরে আটকা পড়ে পুড়ে নিহত হন ১১৯ শ্রমিক। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

তাজরীনের ঘটনার পর ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ইতিহাসের ভয়াবহতম ট্র্যাজেডি ঘটে সাভারে। রানা প্লাজা বিধ্বস্ত হওয়ার পর পোশাক শিল্পকারখানাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কারখানাগুলোতে আগুন লাগার ঘটনা কমে যায়।

কিন্ত ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েলস নামে একটি প্যাকেজিং কারখানায় আগুন লেগে নিহত হন ৩৫ জন।

২০০৪, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৮ এবং ২০১১ সালে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ছোট ছোট ১১টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

২০০৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন ভবনে দু’বার অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

২০০৯ সালের ১৩ মার্চ এবং ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট দু’দফা বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে অভিজাত বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে।

তাজরীন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে আগুনের ঘটনায় মামলার খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এ ঘটনায় প্রথমে তিনটি মামলা হয় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শেষে ওই কারখানার মালিকসহ ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে দায়িত্বে অবহেলা এবং অবহেলাজনিত জানমালের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে। এ মামলায় চার্জশিট হয় ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর। এরপর ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার কাজ স্থানান্তরিত হয়। এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে ১০৪ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। ফলে এ মামলার শেষ কবে হবে তা কেউ জানে না।

নিমতলী ট্র্যাজেডির পর গত নয় বছরে কোনো নিয়মিত মামলা হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বংশাল থানায় শুধু একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এ ডায়েরি ঘিরেও কোনো তদন্ত গত নয় বছরে হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্নিষ্ট সূত্র। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। দীর্ঘ আট বছর পর সেই টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর কেরানীগঞ্জে একটি রাসায়নিক শিল্পকারখানা গঠনের জন্য একনেকে প্রকল্প গৃহীত হয়। এর মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিকের গুদাম সরানোর জন্য কার্যত কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি।

এর বাইরে টঙ্গী, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার কারওয়ান বাজারে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিটি ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। এরপর এসব ঘটনার তদন্ত সেখানেই শেষ হয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *