২য় প্রস্তুতি ম্যাচেও বাংলাদেশের হার

বিশ্বকাপের ২য় প্রস্তুতি ম্যাচ বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া একাদশ।

বিশ্বকাপের ২য় প্রস্তুতি ম্যাচ বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া একাদশ।বিশ্বকাপের ২য় প্রস্তুতি ম্যাচ বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া একাদশ।

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটা ছিল নিছকই প্রস্তুতি ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে অবশ্য ম্যাচটা ভিন্ন দ্যুতিতে ধরা দিয়েছিল। তাই তো সকালের মিঠে রোদে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার মাঠে হাজির হয়েছিলেন অনেক অস্ট্রেলিয়ান। কারণ ম্যাচটা যে ছিল অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের ফেরার ম্যাচ।

মাঠে আসা সমর্থকদের নিরাশ হতে হয়নি। ইনজুরি কাটিয়ে উঠা মাইকেল ক্লার্ক ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিনটিই স্বাবলীলভাবে করে দেখিয়েছেন। বিশ্বকাপে ক্লার্কের খেলা না খেলা-অজিদের এমন সব চিন্তা, উদ্বেগের অনেকটাই বলা চলে বৃহস্পতিবার অবসান হয়ে গেল। ক্লার্কের ফিট হওয়ার সবুজ সংকেতের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা জিতেছে অনায়সে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ২৩১ রান করে হারলেও বাংলাদেশ অস্বস্তিতে ছিল না। তবে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে প্রতিবেশি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো ধুঁকতে থাকা ব্যাটিংয়ের চিত্রনাট্যে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা সত্ত্বেও নাসির হোসেনের হাফ সেঞ্চুরিতে টাইগাররা ১৯৩ রান তুলেছিল সব উইকেট হারিয়ে। জবাবে আট ওভার আগেই ৪ উইকেটে ১৯৪ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া একাদশ।

হালকা ইনজুরির কারণে ম্যাচে খেলেননি মাশরাফি বিন মতুর্জা। বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। অ্যাঙ্কেলে চোট থাকায় একাদশে ছিলেন না তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদও।

টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। ৫৭ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় টাইগাররা। সাজঘরে ফিরেন বিজয়, সৌম্য, মমিনুল, মুশফিক ও সাকিব। বিজয় রানআউট হলেও বাকিরা ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান দলের হাল ধরেন। বিপর্যয় এড়িয়ে ইনিংস মেরামতের কাজটা শুরু করেছিলেন তারা ভালোভাবে। কিন্তু তাদের ৬৪ রানের জুটি বিছিন্ন হয় দলীয় ১২১ রানে সাব্বির আউট হলে। সাব্বির ৩৩ রান করেন। সঙ্গীর বিদায়ের পর ওই রানেই মাহমুদউল্লাহও প্যাভিলিয়নে ফিরেন। তিনি ৩৬ রান করেন। এরপর আরাফাত সানিকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়েন নাসির হোসেন। দলীয় ১৮১ রানে আরাফাত সানি অ্যাস্টন টার্নারের শিকার হন। পরপর দুই বলে চার মেরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাসির। হাফ সেঞ্চুরিয়ান নাসির আউট হওয়ার পরপরই ১৯৩ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। নাসির সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন। আরাফাত সানি ১২ রান করেন। স্বাগতিকদের পক্ষে ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন অ্যাস্টন টার্নার।

১৯৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে মাইকেল ক্লার্ক ও পিয়েরসন ভালো শুরু এনে দেন অস্ট্রেলিয়া একাদশকে। ৬৯ রানে পিয়েরসনের উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সাব্বির রহমানের শিকার হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৬টি চারে ৩৪ রান করেন ক্লার্ক। ১১৪ রানে বসিস্টো (২১) আল-আমিনের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন। পরে অধিনায়ক অ্যাস্টন টার্নারের ৭১, ম্যাকডারমটের ১৮ রানে আট ওভার আগেই জয় পায় অস্ট্রেলিয়া একাদশ। বাংলাদেশের পক্ষে আল-আমিন, সৌম্য, সাব্বির ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশ একাদশ: বিজয়, সৌম্য, মমিনুল, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব, মুশফিক, সাব্বির, নাসির, আরাফাত সানি, রুবেল হোসেন ও তাইজুল ইসলাম। দ্বাদশ খেলোয়াড়: আল-আমিন

অস্ট্রেলিয়ান একাদশ: মরগান, পিয়েরসন, মাইকেল ক্লার্ক, অ্যাস্টন টার্নার (অধিনায়ক), বসিস্টো, উইলস, ম্যাকডারমট, গ্রেগরি, মুইরহেড, ভ্যান ডার গুটেন ও ডেভিড মুডি। দ্বাদশ খেলোয়াড়: কনওয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *