সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ধাপে ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করে পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে।
অর্থনীতি

১৬ ধাপের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ

সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ধাপে ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করে পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে।সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ধাপে ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করে  পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে।

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রবিবার সকাল ৯টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে প্রতিবেদন তুলে দেন জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ভাল রিপোর্ট। সরকার খুশি মনে এই নতুন বেতন কাঠামো ২০১৫-১৬ অর্থবছর (আগামী ১ জুলাই) থেকে কার্যকর করবে।

প্রতিবেদন তুলে দেওয়ার আগে প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধির সুপারিশকালে পরিবারের সংজ্ঞা, বিগত ৬ বছরের পুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতি, চার সদস্যের পরিবর্তে ৬ সদস্যের পরিবারের ভিত্তি, অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের বেতনাদির অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সর্বনিম্ন মূল বেতন সুপারিশ করা হয়েছে মাসে ৮ হাজার ২০০ টাকা, যা সপ্তম বেতন কাঠামোর ৪ হাজার ১০০ টাকা বা শতভাগ বেশী। সর্বোচ্চ ধাপে (সচিবদের) বেতন সুপারিশ করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা, যা বর্তমানে ৪০ হাজার টাকার তুলনায় শতভাগ বেশী। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের বেতন ৪৫ হাজারের পরিবর্তে সুপারিশ করা হচ্ছে নির্ধারিত এক লাখ টাকা। সিনিয়র সচিবদের জন্য বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে ৮৮ হাজার টাকা।

কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে বর্তমানের ২০টির জায়গায় ১৬টি গ্রেড রাখা হয়েছে।

ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের চাকরিতে প্রবেশের সময় বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে জানিয়ে ফরাসউদ্দিন বলেন, বর্তমানের অষ্টম ও নবম গ্রেড একীভূত করে অষ্টম গ্রেড করা হয়েছে। এই গ্রেডের বেতন ২৫ হাজার টাকা। এটি করা হয়েছে কারণ, মেধারীরা যাতে আকৃষ্ট হয়, তারা যেন চাকরিতে থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ স্কেলে যারা সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়ের কাজে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫ ভাগ হারে অর্থাৎ চার হাজার টাকা অতিরিক্ত বেতন দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত রাখা হয়েছে ১ দশমিক ৯০৭৬ শতাংশ, যা গত কয়েকটি কমিশন একই ভাবে রেখেছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত পুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৬৩ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী শুরুতেই বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন আরও আগে দেওয়ার কথা ছিল। আমাদের কারণেই তারা দিতে পারেননি। আমি মূলত বিদেশে ছিলাম।’

গত বছরের ২৪ নভেম্বর দেশের ১৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর জন্য ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন-২০১৩’ গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ১৭ ডিসেম্বর থেকে এই কমিশন কার্যকর হয়। কমিশনকে ৬ মাসের (১৭ জুন) মধ্যে সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন তৈরীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে কমিশনের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়।

‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯’ এ আগের চেয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়।

সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *