১০ মিনিটের কিলিং মিশন, নিলয়ের শরীরে ১৪ কোপ

ব্লগার নিলয়ের বাসায় ঢুকে অপারেশন শেষ করতে খুনিরা সময় নেয় মাত্র ১০ মিনিট। এলোপাতাড়ি কোপ দেয় ১৪টি। এর মধ্যে ১০টি মাথায় ও ঘাড়ে।

ব্লগার নিলয়ের বাসায় ঢুকে অপারেশন শেষ করতে খুনিরা সময় নেয় মাত্র ১০ মিনিট। এলোপাতাড়ি কোপ দেয় ১৪টি। এর মধ্যে ১০টি মাথায় ও ঘাড়ে। ব্লগার নিলয়ের বাসায় ঢুকে অপারেশন শেষ করতে খুনিরা সময় নেয় মাত্র ১০ মিনিট। এলোপাতাড়ি কোপ দেয় ১৪টি। এর মধ্যে ১০টি মাথায় ও ঘাড়ে। বাকি ৪টি শরীরের অন্যান্য জায়গায়। গলার বাম পাশে একটি কোপ ১৫ ইঞ্চি লম্বালম্বিতে গভীরে ঢুকে গেছে। কোপের ধরনগুলো এলোপাতাড়ি। ধরন দেখে বোঝা যায়, একাধিক ব্যক্তি আক্রমণ করেছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

গতকাল ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় ওরফে নিলয় নীলের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে দেওয়া আনসার আল ইসলামের বক্তব্য, মামলার এজাহার, নিহতের স্ত্রী আশা মনির বরাত দিয়ে পুলিশের তৈরি সুরতহাল প্রতিবেদন ও গোয়েন্দাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

শুক্রবার রাতেই তার স্ত্রী আশামণি বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা ও চুরির মামলা করেছেন। মামলায়, ঘরে ঢুকে চার জন তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার পর একটি ল্যাপটপ ও মোবাইলও নিয়ে যায় বলে উল্লেখ করা হয়।

আল কায়েদা ইন্ডিয়া সাব কন্টিনেন্টের (আকিস) বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলামের মুখপাত্র পরিচয় দিয়ে মুফতি আবদুল্লাহ আশরাফ দুটি ইমেইল পাঠান গণমাধ্যমে। প্রথম ইমেইল বার্তাটিতে হত্যাকাণ্ডের মিশন শেষ হওয়ার সময় উল্লেখ করে দায় স্বীকার করলেও দ্বিতীয় ইমেইল বার্তাটিতে মিশন শুরুর সময়টি উল্লেখ করা হয় সকাল ৯টায়। আর মিশন শেষ করে নিরাপদে সরে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট। নিলয় হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত হলেও পারিপার্শিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জন্য জুমার নামাজের সময়টি বেছে নেওয়া হয়। কারণ এ সময়ে মানুষ মসজিদেই থাকে বেশি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর নিলয়ের চাচা বিমল চট্টোপাধ্যায় নিহত নিলয়ের লাশ গ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই তিনি পিরোজপুর থেকে ঢাকায় আসেন। পিরোজপুর সদর থানায় চলিশায় নিলয়ের শেষকৃত্য হবে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি। নিলয়ের বাবা তারাপদ চট্টোপাধ্যায় ও মা অর্পণা চট্টোপাধ্যায় পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতেই থাকেন।

গণজাগরণ মঞ্চের ৭ দিনের আল্টিমেটাম

ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে সরকারকে সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এ ঘোষণা দেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামীকাল রোববার বিকেল ৪টায় শাহবাগে নিলয়ের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় গণমিছিল, শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শোক সমাবেশ। আর এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি দোষীদের গ্রেফতার করতে না পারে তবে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ইমরান এইচ সরকার।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এসব কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।

রোববার গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যাবে এফবিআই

নিলয় হত্যার ঘটনা তদন্তে সহায়তার জন্য রোববার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপ-কমিশনার মাহবুবুল আলম বলেন, ‘নিলয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহায়তার জন্য এফবিআই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরাও তাতে সায় দিয়েছি। রোববার ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে তাদের আসার কথা রয়েছে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনারের নেতৃত্বে একটি টিমের সঙ্গে এফবিআইয়ের টিমের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তবে এফবিআইয়ের টিমে কতোজন সদস্য থাকবেন তা গোয়েন্দা পুলিশকে জানানো হয়নি।

এফবিআইয়ের কাছ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ কোন ধরনের সহায়তা নেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এফবিআই প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি কারিগরি বিষয়ে সহায়তা করবে।’

শনিবার এফবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে ফোন করে নিলয় হত্যাকাণ্ড তদন্তে সহযোগিতায় তাদের আগ্রহের কথা জানান। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অনুমতি দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ব্লগার নিলয় হত্যার পর শনিবার সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গোয়েন্দা পুলিশের একজন উপ-কমিশনারের সঙ্গে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ সময় এফবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা তদন্তে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।’

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এরআগে ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার ঘটনায় এফবিআই অনুমতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ব্লগার নিলয় হত্যার ঘটনায় এফবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে সহায়তার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের সাধুবাদ জানাবো।’

ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীকে হত্যার হুমকি

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভাস্কর বীরমাতা ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীকে হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সেই সঙ্গে তার ছেলে কারু তিতাসকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলে তার সেলফোনে একটি অপরিচিত একটি নম্বর থেকে এ হুমকি দেয়া হয়। প্রথমে প্রিয়ভাষিণীকে পরে তার ছেলেকে হুমকি দেয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।

এ প্রসঙ্গে ফেরদৌসি প্রিয়াভাষিণী বলেন, ‘গত রাতে একটি টকশোতে আমি নিলয়সহ ব্লগারদের হত্যা ও এগুলোর বিচার না হওয়া নিয়ে মন্তব্য করায় হুমকি দিয়েছে বলে আমি মনে করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফোর নম্বরটি থেকে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমি গালি শোনে ফোনটি কেটে দেই এবং নম্বরটিও মুছে ফেলি। পরে তারা আমার ছেলেকেও ফোন দিয়ে হত্যার হুমিকি দেয়।’

এ বিষয়ে তিনি ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *