আরো যে ১টি প্রশ্ন তারেককে করতে পারেন হাসিনা। আরো যে ১০টি প্রশ্ন হাসিনাকে করতে পারেন তারেক
মতামত

১টি প্রশ্ন তারেককে করতে পারেন হাসিনা

আরো যে ১টি প্রশ্ন তারেককে করতে পারেন হাসিনা। আরো যে ১০টি প্রশ্ন হাসিনাকে করতে পারেন তারেকশফিক রেহমান

মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা, অডিটরিয়ামে উপস্থিত রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকরা এবং লন্ডনে নির্বাসিত মি. তারেক রহমান। সবাইকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। বিশেষত মি. তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, তারেক। আপনার দিনটা ভালো কাটুক। আপনি দীর্ঘজীবী হোন। আজকের এই অনুষ্ঠানে আপনার প্রতি আমার বার্থডে গিফট স্বরূপ ১১টি প্রশ্নের একটি বিবৃতি এখন পড়ব। এটি আগামীকাল, অর্থাৎ আপনার ৫০তম জন্মদিনে দৈনিক নয়া দিগন্তে ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হবে। এই রচনার শিরোনাম, আরো যে ১টি প্রশ্ন তারেককে করতে পারেন হাসিনা। আরো যে ১০টি প্রশ্ন হাসিনাকে করতে পারেন তারেক

আরো যে ১টি প্রশ্ন তারেককে করতে পারেন হাসিনা
১৮ মার্চ ২০১৪ থেকে তুমি লন্ডনের বিভিন্ন সভায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা শুরু করেছ। সেই দিন পূর্ব লন্ডনে রিজেন্সি হলে এক আলোচনা সভায় তুমি বলেছ, “৭ মার্চের ভাষনে ছয় দফা বাস্তবায়নের জন্য হরতাল আহবানের কোনো ঘোষণা ছিল না। … ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল মার্চে নয় – এপৃলে। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। এই স্বাধীনতার ঘোষণাটি তিনি নিজের হাতে লিখেছিলেন। … শেখ মুজিবুর রহমান ছিলে বাংলাদেশের প্রথম অবৈধ প্রধানমন্ত্রী… শেখ মুজিবুর রহমান ১০ জানুয়ারি ১৯৭২-এ পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেন।”

তোমার এই ভাষনের পরে আমার পার্টি আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ হয়। আমাদের পার্টির নেতারা তোমাকে মুর্খ, আহাম্মক, অর্বাচীন বালক, বেয়াদব প্রভৃতি বলেন। আমি তখন কোনো মন্তব্য করিনি।

কিন্তু তুমি থেমে থাকোনি। এরপর লন্ডনের উপকণ্ঠে ইলফোর্ডে ২৮ মে ২০১৪ তে আরেকটি আলোচনা সভায় তুমি বলেছ, “শেখ মুজিব ৩০ বছর রাজনীতি করার পরেও রাজনীতিক হিসেবে ব্যর্থ। অন্য দিকে জিয়া সেনাবাহিনী থেকে রাজনীতিতে এসে মাত্র পাচ বছর রাজনীতি করে সফল রাজনীতিক ছিলেন। …শেখ মুজিব ১. গণতন্ত্রের কথা বলে আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এক দলীয় শাসন চালু করেছিলেন ২. জনগণের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলে গুম-খুনের বিস্তার ঘটিয়ে এবং বিরোধী দল দমনের জন্য রক্ষীবাহিনী গঠন করে আতঙ্কের জনপদ তৈরি করেছিলেন এবং ৩. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা বলে দুর্ভিক্ষ তৈরি করেছিলেন। … জিয়া দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং অর্থনীতিকে দৃঢ় বুনিয়াদের ওপর দাড় করান।”
তোমার এই ভাষণের পর আমার পার্টি ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পার্টির নেতারা তোমাকে মানসিক ভারসাম্যহীন, উন্মাদ, পাগল, বাচাল, প্রভৃতি বলতে থাকেন।
লন্ডনে আমার হাই কমিশনারের সূত্রে আমি জানতাম সেখানে পাগলামির জন্য তোমার চিকিৎসা হচ্ছে না। আমি জানতাম লন্ডনের ওয়েলিংটন হসপিটালে তোমার মেরুদণ্ডে ইনজুরির জন্য চিকিৎসা হচ্ছে, যে ইনজুরিটা তোমার হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের পর ৩১ ডিসেম্বর ২০০৭-এ জেনারেল মইনের প্রতি অনুগত সেনা অফিসারদের কাছে বন্দি থাকার সময়ে। তাদের নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের সময়ে। সেনাবাহিনীর এই অংশটি আমাকেও বিষ প্রয়োগে খুন করতে চেয়েছিল এবং এ বিষয়ে আমার অভিযোগ তখন পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থাৎ, আমি জানতাম তুমি পাগলামি করোনি – তুমি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বলছো। তিনি আমার পিতা। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা।

তাই এরপর আমি বাধ্য হই তোমার পিতার বিরুদ্ধে কিছু বলতে। ২ জুন ২০১৪-তে গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় আমি বলি, “জিয়াউর রহমান মরে গিয়ে বেচে গিয়েছে। নতুবা ওকেও (জিয়াকে) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি করতাম। … বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক। আর মোশতাকের পছন্দ ছিল জিয়া। … হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা ছিল জিয়া।”

আমার এই কথার পর আমার পার্টির নেতারা সানন্দে বলা শুরু করেন, “জিয়া ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর… সে একাত্তরে নয় মাস ছদ্মবেশে পাকিস্তানের পক্ষে বাংলাদেশে যুদ্ধ করেছিল।”

আমার এই কথার প্রতিক্রিয়ায় দশ দিন পরে ১২ জুন ২০১৪ তে তুমি কুয়ালালামপুরে একটি আলোচনা সভায় আমাকে আক্রমণ করে কটু কথা বলো। আমি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তুমি সেই ভাষনে আমার সম্পর্কে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে বলেছ, ১. তুমি দেশে ফেরার ১৭ দিন পরেই কেন জিয়া খুন হলেন? তুমি যদি কিছু না জানবে, তাহলে বোরকা পরে পালাচ্ছিলে কেন? ২. ২০০৯-এ ক্ষমতায় আসার পরপরই বিডিআরের ৫৭ জন অফিসার নিহত হলো কেন? ডিফেন্স মিনিস্টার তো তখন হাসিনাই ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তার ৫৭ বার ফাসি হতে পারে। ৩. হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সংরক্ষিত সাতছড়ির গহিন বনে সাতটি বাংকার ও বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। অতীতে চট্টগ্রামে অস্ত্র চোরাচালান ধরা পড়ার পর তদানীন্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীকে যদি ফাসির দণ্ড দেওয়া হতে পারে, তাহলে বর্তমানে সাতছড়িতে যে অস্ত্র চোরাচালান ধরা পড়ল তার জন্য শেখ হাসিনারও ফাসির দণ্ড হতে পারে।”

সর্বশেষ তুমি বুধবার ৫ নভেম্বর ২০১৪ তে লন্ডনে দি এটৃয়াম অডিটরিয়ামে বলেছ, “স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে শেখ মুজিব পাকিস্তানের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করেছিলেন… শেখ মুজিব ৭  মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নি। ২৫ মার্চেও দেননি। বরং তাজউদ্দীন আহমদ তাকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপন লড়াই দেখেন নি। দেখেননি তাদের দুঃখ, কষ্ট ও বীরত্বগাথা। এই কারণে লাল ঘোড়া দাবড়ানোর নামে নির্বিচারে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা তিনিই শুরু করেন। … শেখ মুজিবের বিচার হওয়া উচিত … তিনি ছিলেন পাকবন্ধু।”
আমার পিতা এবং আমাকে নিয়ে তুমি যেসব কথা বলছো সেসব আমি আর উপেক্ষা করতে পারছি না। তোমার বিরুদ্ধে আমার পার্টির নেতা-কর্মীরা বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে মামলা দায়ের করেছে। তোমার বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করে ইন্টারপোলের সাহায্যে তোমাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আমি আদালতের কাঠগড়ায় দাড় করব। আর কে না জানে আমার শাসন আমলে, আমার বিরোধীরা বিচারে কি রায় পায়? আমি তোমার মা-কে বাড়ি থেকে বের করেছি। ড. ইউনূসকে গ্রামীন ব্যাংক থেকে বের করেছি। তোমার ধৃষ্টতা অমার্জনীয়। এই বাংলার মাটিতে তোমার বিচার করবই । সেই বিচারে তোমার সর্বোচ্চ শাস্তি হবেই হবে।
তাই আমার একটিই প্রশ্ন, তুমি কবে দেশে আসবে?

আরো যে ১০টি প্রশ্ন হাসিনাকে করতে পারেন তারেক
আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি পরে দেব। অতীতে আমি আরো ১০টি প্রশ্ন রেখেছিলাম এবং এই ১০টি প্রশ্ন দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর আপনি দেন নি। কারণ, আমার প্রশ্নগুলো ছিল যৌক্তিক ও সত্যনির্ভর। আপনার পক্ষে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তরই দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও আমার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকায় যে জনসভা হচ্ছে সেখানে আমি আমার নতুন ১০টি প্রশ্ন রাখছি। ও হ্যা, আমি জানি, আপনি আমাকে বার্থডে উইশ করবেন না। বিরোধীদের প্রতি কোনো সম্মান, সৌজন্য ও শুভেচ্ছা দেখানোর কালচার আপনার মধ্যে নেই। তাই প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সমালোচনা করলেই তাকে রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, ইত্যাদি বলা হয়। তবুও এবং দেরিতে হলেও আমি আপনার জন্মদিন উপলক্ষে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং আপনার সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কামনা করছি। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ পাকবন্ধু কন্যা।

শেখ হাসিনাআজ আমার প্রশ্নগুলো করার আগে বাংলাদেশে আমার দলের নেতাদের মৃদু সমালোচনা করতে চাই। আমি প্রথম যে ১০টি প্রশ্ন করেছিলাম, সেসব একটি ছোট বই আকারে প্রকাশ করে দেশ জুড়ে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত ছিল। ওই বইটি হাতের কাছে থাকলে বিএনপি কর্মীদের খুব সুবিধা হতো আওয়ামী কর্মীদের সঙ্গে তর্কযুদ্ধে। ওই লেখাটির বহুল প্রচারের ব্যবস্থা আমি লন্ডনে করেছি আমার সীমিত সামর্থ সত্ত্বেও। আজ আমি আশা করছি, আগের সেই ১০টি প্রশ্ন এবং আজকের এই ১০টি প্রশ্নসহ ঢাকার বিএনপি নেতারা একটি ছোট বই বের করে সারা দেশে অনতিবিলম্বে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হবেন।
সে যাই হোক।
গত পাচ মাসে আপনি, শেখ হাসিনা, দেশে ও বিদেশে আরো মন্দ রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আপনাকে ১০টি নয় – ১০০টিরও বেশি প্রশ্ন করা যায়। সময় ও স্থানাভাবে আজ আরো শুধু ১০টি প্রশ্নের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবো।

তবে একটি কথা সূচনাতেই আবারও বলে নিতে চাই। আমার পিতা, আমার মা এবং আমি কখনোই অসৌজন্যমূলক কথা আপনার ও আপনার পরিবারের সম্পর্কে বলিনি গত বছর পর্যন্ত। বরং আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন সম্প্রতি ঢাকার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে আমি টুংগিপাড়াতে আপনার পিতার সমাধিস্থলে গিয়ে মোনাজাত করছি। আপনার ছেলে কি কোনোদিনও আমার পিতার সমাধিস্থলে গিয়েছিল? আপনার ছেলে যখন বহুকাল বিদেশে থাকার পরে স্বদেশে ফিরে এসেছিল তখন তাকে ফুলের তোড়া পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। তার পাল্টা শুভেচ্ছা আপনার ছেলে কোনোদিন কি আমাকে জানিয়েছে? আমার মা-র তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীত্বের শেষ দিকে, আমাকে, তদানীন্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে এবং তদানীন্তন একটি গোয়েন্দা বিভাগীয় প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে, আমেরিকার রিপাবলিকান সিনেটর ও পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রূপে নির্বাচনকামী মি.ম্যাককেইন ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ করেছিলেন। সেখানে সিনেটর ম্যাককেইন আমাকে বলেছিলেন, “বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আরেক সম্ভাব্য নেতা সজীব ওয়াজেদ জয় তো ওয়াশিংটনে আছে। তুমিও তরুণ। তোমরা এখানে দেখা করে দেশের ভবিষ্যত সম্পর্কে আলোচনা করো না কেন?” সিনেটর ম্যাককেইনের প্রস্তাব আমি সানন্দে গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু মি. জয় তার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাজি হন নি। দেখা যাচ্ছে আপনার অভদ্রতা, অসৌজন্যতা আপনার পুত্রের মধ্যেও সংক্রামিত হয়েছে। বাই দি ওয়ে, সিনেটর ম্যাককেইন বাংলাদেশের প্রতি সবসময়ই দরদি। তার একটি পালিত কন্যা বাংলাদেশেরই মেয়ে।

তারেক রহমান আপনাদের এই ধরনের আচরণের কোনো পাল্টা উত্তর না দিয়ে আমরা যে শালীনতা ও সভ্যতা দেখিয়েছি, সেসব আপনারা আমাদের দুর্বলতা ও হীনম্মন্যতা রূপে ভেবেছেন। তাই আর নয়। এখন পাকবন্ধু শেখ মুজিব, তার কন্যা এবং নাতির সম্পর্কে সত্য কথা সোচ্চার হয়ে বলার সময় হয়েছে। সত্য কথাটা হলো, আপনাদের এই তিন পুরুষের কেউই মুক্তিযুদ্ধে যান নি। আপনি হয়তো বলবেন, জয় কি করে মুক্তিযুদ্ধে যেত? একাত্তরই তো তার জন্ম। কিন্তু না। আপনি ইচ্ছা করলেই জয়ের বয়স বদলিয়ে তাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিতে পারতেন। যেমনটা এখন জানা যাচ্ছে, দেশের বহু সচিব থেকে শুরু করে অনেকেই ভূয়া সার্টিফিকেট পেয়েছেন। এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ যে আপনি অন্তত একটি ক্ষেত্রে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ইসুর ব্যবস্থা করেন নি।
এবার আমার প্রশ্নগুলো করছি।

আপনি এ মাসেই লন্ডন এবং রোমে যাওয়া স্থির করেছিলেন। হঠাৎ এই টৃপটি আপনি বাতিল করলেন কেন? আপনার পক্ষ থেকে কারণ স্বরূপ বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার জন্য আপনি সেই টৃপ বাতিল করেছেন। কিন্তু আমি লন্ডনে থেকে বাংলাদেশি টিভির বিভিন্ন নিউজে দেখছি আপনি সুস্থই আছেন। ১৫ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের জনসভায়  ভাষণও দিয়েছেন। মন্ত্রীসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। তাহলে আপনি কেন লন্ডনে গেলেন না? এখানে আমি খোজ নিয়ে জেনেছি বৃটেনের কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি এবং বেসরকারি ব্যক্তির সঙ্গে আপনার কোনো ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় নি। এই ধরনের কোনো ইন্টারভিউ সেট আপ করা হলে আপনি দেশে ফিরে দাবি করতে পারতেন আপনার টৃপ সফল হয়েছে। সেই দাবি আপনি করতে পারবেন না জেনেই এই টৃপ হঠাৎ বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

একই প্রসঙ্গের ধারাবাহিকতায় আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটি এসে যাচ্ছে। সেটা হলো এর আগে এই বছরেই আপনি লন্ডনে এসে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী মি. ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। এরপর টেন ডাউনিং স্টৃটের দোরগোড়ায় একটা ছবি তুলে আপনার পক্ষ থেকে আপনার সাফল্যের প্রচারণা চালানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী মি. ক্যামেরন ৫ জানুয়ারি ২০১৪-র নির্বাচনকে সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু না। সেটা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাই ডাউনিং স্টৃট কখনোই যা করেনি সেটা তারা করতে বাধ্য হয়েছিল পরদিন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে পরদিনই তীব্র প্রতিবাদে জানানো হয়েছিল, মি. ক্যামেরন বরং উলটো বলেছেন এবং বাংলাদেশে যেন শিগগিরই একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয় সে বিষয়ে তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাহলে আমার প্রশ্ন কেন আপনার পক্ষ থেকে মিথ্যা বলা হয়েছিল এবং কেনই বা আপনি নিজে এর প্রতিবাদ করেন নি? অনর্গল মিথ্যা বলা আপনার অভ্যাস এবং সেই অভ্যাস আপনার চারপাশের মানুষদের মধ্যে সংক্রামিত হয়েছে। সেই সময়ে লন্ডনে ছিলেন আপনার খুবই অনুগত এবং নব নিযুক্ত হাই কমিশনার মিজারুল কায়েস। আপনার মিথ্যাচার আন্তর্জাতিকভাবে ধরা পড়ে যাবার পরে দেশে ফিরে গিয়েই তাকে ব্রাজিলে বদলি করে দিয়েছেন। পারলে হয়তো ব্রাজিলে আমাজনে বনবাসেই তাকে পাঠাতেন। কিন্তু কেন মিজারুল কায়েসকে আপনি ইন্সটান্ট ট্রান্সফার করলেন? ডাউনিং স্টৃটের মুখ মিজারুল কায়েস বন্ধ করতে পারেন নি – সেই অপরাধেই কি?

আপনি আরেকজনের মুখ বন্ধ করতে পারেন নি এবং সেই প্রসঙ্গে আমার তৃতীয় প্রশ্ন। গত অক্টোবর মাসে আপনার সিনিয়র মন্ত্রী, টেলিফোন মন্ত্রী, লতিফ সিদ্দিকী নিউ ইয়র্কে এক সভায় আমেরিকা প্রবাসী আপনার টেলিফোনপ্রিয় পুত্র জয় সম্পর্কে অভিযোগ করেন তিনি (জয়) প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মারফৎ দুই লক্ষ ডলার কনসালটেন্সি ফি নিচ্ছেন। ট্যাঙ ফৃ এই পরিমান ফি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা-ও পান না বলে বিভিন্ন ইন্টারনেট সূত্র বলেছে। এ বিষয়টি আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঢাকায় প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন এবং সেই খবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে স্পিকটি নট বা মুখ বন্ধ করে বসে আছেন- চাষীপুত্র-কাম-বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মি. আতিউর রহমান এবং ঘুসকে বৈধতা দানকারী আপনার অর্থমন্ত্রী। এমনকি নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরে এসে ঢাকায় লতিফ সিদ্দিকী বিষয়ে আপনি যে সাজানো প্রেস কনফারেন্স করেন এবং যেখানে মূলত: আপনার অনুগৃহীত ও পৃষ্ঠপোষিত ব্যক্তিরাই আপনাকে প্রশ্ন করেন সেখানেও কেউ জয় বিষয়ে মুখ খোলেন নি। তারা শুধু লতিফ সিদ্দিকীর হজ ও ধর্ম বিষয়ক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এবং সেই সুযোগে আপনি আবারও চেষ্টা করেছিলেন নিজেকে মুসলিম ধার্মিক রূপে প্রতিষ্ঠা করতে, যেটা আপনার সম্পর্কে কোনো প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাস করেন না। সরি। আমার প্রশ্ন, এ বিষয়ে আপনি কিছুই বলছেন না কেন?

সেই একই প্রেস কনফারেন্সে লতিফ সিদ্দিকী দুটি কার্ড খেলেছিলেন। এক. জয়ের মাসিক দুই লক্ষ ডলার ফিসের কার্ড এবং দুই. হজ বা ধর্মীয় কার্ড। আপনি এবং আপনার তাবেদাররা জয় কার্ড সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গিয়ে হজ কার্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আপনি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য ছিল রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রশ্ন, বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আপনি এ নিয়ে কথা বলতে এত দেরি করলেন কেন? আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, ঢাকার সেই প্রেস কনফারেন্সে আপনি বলেছিলেন, লতিফ সিদ্দিকী যে এমন বক্তব্য দিয়েছেন সেটি আপনি নিউ ইয়র্ক থেকে ফেরার সময়ে প্লেনেই জেনেছিলেন। তারপর আপনি লন্ডনে গিয়ে ঘাপটি মেরে বসেছিলেন। কেন? এত দেরি করার কারণ কি এটা হতে পারে যে, আপনি গোপনে চেষ্টা করেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী যেন আরো ড্যামেজ না করেন সেটা তার সঙ্গে নিগোশিয়েট করতে? অথবা আপনার ইনডিয়ান পরামর্শদাতাদের উপদেশের জন্য অপেক্ষা করতে?

আপনি হয়তো জানেন মেক্সিকোর নাগরিক মি. কার্লোস স্লিম হেলু এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির স্থানটি অধিকার করেছেন। তার মূল ব্যবসা হলো টেলিকমিউনিকেশন্স। তার কম্পানি মেঙটেল চাইছে নরওয়ের নরটেলের গ্রামীন ফোনের মতো বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের অতি লাভজনক ব্যবসায় ইনভেস্ট করতে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিনি বাংলাদেশে এই ব্যবসায় ঢোকার সেলামি স্বরূপ ২৫ মিলিয়ন ডলার আমেরিকা প্রবাসী কোনো এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকাটা আমেরিকা সফররত কোনো আওয়ামী নেতা নিজের পকেটস্থ করেছেন। আর তার ফলেই সূচিত হয়েছে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

আপনি যতই সাফল্যের কথা বলুন না কেন, আপনি জানেন, আপনার ২০০৮-র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আপনি প্রতি পরিবারে একটি করে চাকরি সৃষ্টি করতে পারেন নি। বরং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই অচল হয়ে পড়ায় বেকারের সংখ্যা আরো বেড়েছে। বিশেষত আপনার ইসলাম বিরোধী অবস্থানের জন্য মিডল ইস্টের কেনো মুসলিম দেশে কারো নতুন চাকরিও হচ্ছে না। পুরনো যারা চাকরি করছিলেন তাদেরও দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনি দেশে ইসলামী নেতাদের ফাসি দিয়েই চলেছেন এবং ১৫ নভেম্বর ২০১৪ তে আপনি ভেড়ামারায় বলেছেন, “বিদেশিরা তাদের কথা বলতে থাকবে। আমরা বিচার করতে থাকব। এবং ফাসি কার্যকর করতে থাকব।” সেক্ষেত্রে আপনি কি করে আশা করেছিলেন ইসলামি দেশ ইউএই আপনার অনুরোধে বাংলাদেশীদের চাকরি দেবে? হ্যা, তারা আপনাকে সান্ত্বনা দিয়ে ২,০০০ নারী শ্রমিক নেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আপনার ওই মিডল ইস্ট সফর ফেল মেরেছে। আমার প্রশ্ন, কিছু ব্যক্তিকে ফাসি দেওয়ার খায়েশ (আপনারই ভাষা খায়েশ) মেটানোর জন্য সারা দেশের মানুষকে কেন মিডল ইস্টের চাকরি থেকে আপনি বঞ্চিত রাখছেন?

সব যুদ্ধ অপরাধীদের ফাসি দেওয়ার পর আপনি কি করবেন? কাদের ফাসি দেবেন? শুনেছি, গত বছর ২০১৩ তে নভেম্বর-ডিসেম্বরে যেসব বিএনপি নেতা-কর্মীরা আন্দোলন করেছিলেন এবং যাদের বিরুদ্ধে আপনার উকিল বাহিনী শত শত মামলা করেছে। এখানে উপস্থিত মি.মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৪৬টি, মি. এম কে আনোয়ারের বিরুদ্ধে ১০টি এবং মি.মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৬২টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এই তিনজনের বিরুদ্ধেই ১১৮টি মামলা হয়েছে। কারণে বাংলাদেশ এখন মামলাদেশ হয়েছে, তারা আপনার গোপালিশ বাহিনীর যোগসাজশে পুলিশ হত্যার মিথ্যা অভিযোগে বিএনপি-নেতা কর্মীদের একে একে ফাসি দেওয়ার প্ল্যান আপনি করেছেন। এই কথা কি সত্যি? এসবের পরিণতি কি হচ্ছে? দেশ ভর্তি আপনি বিধবা এবং এতিম সৃষ্টির প্ল্যান কার্যকর করছেন। কেন? কোনো নারী যে তার স্বামীকে ভালোবাসতে পারেন, সেটা হয়তো আপনি বোঝেন না। আপনার সব প্রয়াত আত্মীয় স্বজনের কথা দেশবাসী সর্বদাই শুনলেও, আপনার প্রয়াত স্বামীর মৃত্যুবার্ষিকী এবারও উপেক্ষিত হয়েছে। কেন? কে আপনাকে রাজনৈতিক বিধবা সৃষ্টির অধিকার দিয়েছে? শফিক রেহমান মৃত্যুদণ্ডের তথা ফাসির বিরুদ্ধে লিখেই চলেছেন। বিশ্বের ১৪০টি দেশে মৃত্যুদ- স্থগিত হয়েছে। ইইউ-য়ের নেতারা, জাতিসংঘ এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রমুখ ফাসির বিরুদ্ধে আপনাকে সরাসরি জানিয়েছেন। এর ফলে এখন ফাসির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে জনমত সৃষ্টি হচ্ছে এবং তার ফলে হয়তো ভবিষ্যতে আপনি ফাসি থেকে বেচে যাবেন। কিন্তু আপনার বিবেক বলে যদি কিছু থাকে, তাহলে একবারও কি ভেবে দেখেছেন ফাসি দেওয়াটা কতো অমানবিক?

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে কতো খারাপ সে বিষয়ে আপনি রিহ্যাবকে প্রশ্ন করুন। বাংলা মোটর থেকে শেরাটন হোটেল পর্যন্ত পথের দুই পাশে নির্মিত টাওয়ার বিলডিংগুলো দেখুন। সব প্রায় খালি পড়ে আছে। ঢাকাতে প্রায় দেড় লক্ষ ফ্ল্যাট অবিক্রীত পড়ে আছে। এখন কেউ বিদেশ থেকে আর ফ্ল্যাট কিনছেন না। নতুন পুজি বিনিয়োগ হচ্ছে না – তাই অফিসও কেউ ভাড়া নিচ্ছেন না। ফলে এসব টাওয়ার-ভবন-ফ্ল্যাট যারা বানিয়েছেন তারা ব্যাংক লোন শোধ করতে পারছেন না। তার ফলে ব্যাংক ঋণ খেলাপির পরিমান বেড়ে গেছে। ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না। ফলে হাউস বিলডিং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসা বাণিজ, যেমন- টাইলস-স্যানিটারি ফিটিংস, ইস্পাত, সিমেনট, ফার্নিচার, পর্দা প্রভৃতি ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে। আপনি এত উন্নতির কথা বলেন, কিন্তু কৃষি ও গার্মেন্টসের পরেই দেশে যে খাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়িত সেই খাতের এই চরম অবনতি ও দুর্দশা সম্পর্কে কিছুই বলেন না কেন?

আপনি নিজেকে সবজান্তা, বিজ্ঞ ও পণ্ডিত ভাবতে ভালোবাসেন। তাহলে আপনি  নিশ্চয়ই পড়েছেন বেসিক ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো কি মহা সংকটে পড়েছে। বেসিক ব্যাংক তো শূন্য হয়ে গিয়েছে। স্টুপিড, ননসেন্স, রাবিশ শব্দ তিনটিকে ভদ্রস্থ করার কৃতিত্ব যার, যার কাছে ৪,০০০ কোটি টাকা অতি সামান্য এবং যিনি ঘুসকে বৈধতা দিতে চান, সেই অর্থমন্ত্রীকে কি কখনো জিজ্ঞাসা করেছেন, ব্যাংকের এই অবস্থা কেন? আমি জানি সেই প্রশ্ন তাকে আপনি করতে পারবেন না। কারণ, তিনি উত্তর দেবেন, রাজনৈতিক কারণে অর্থাৎ আপনারই নির্দেশে আওয়ামী সরকার ব্যাংক খোলার বহু লাইসেন্স দিয়েছে। ঠিক তেমনি রাজনৈতিক কারণেই সরকারি ব্যাংক থেকে আপনার পৃষ্ঠপোষিত শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী, বিশেষত কুইক রেন্টাল ব্যবসায়ীদের এবং মিডিয়াকে বিনা দ্বিধায় টাকা দেওয়া হয়েছে। এভাবে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণী আপনি বাংলাদেশে তৈরি করেছেন এবং বিনিময়ে তারা আপনাকে সর্বতোভাবে সাহায্য করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের বঞ্চিত ব্যবসায়ী মহলের এই অভিযোগ কি সত্যি? একই প্রসঙ্গে আমি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম করতে চাই। তিনি অত্যন্ত সফলভাবে গ্রামীন ব্যাংকের বিশাল প্রকল্পটি দেশ জুড়ে চালাচ্ছিলেন। তার ব্যাংকের ইন্টর্নাল কনট্রোল এবং ইন্টার্নাল অডিট সিসটেম ছিল ভালো। আপনি তাকে গ্রামীন ব্যাংক থেকে বহিষ্কার করেছেন – বয়সের অজুহাতে। যদিও তার চাইতেও বয়স্ক এক ব্যক্তিকে অর্থমন্ত্রী পদে বহাল রেখেছেন। আপনি কেন আজকের ব্যংকিং সংকটে ড. ইউনূসের পরামর্শ নিচ্ছেন না? আপনার সমস্যাটা কি?

আপনার পিতা, আপনার স্বামী অথবা আপনি সুযোগ পেয়েও মুক্তিযুদ্ধে যান নি। আপনার পিতার ৭ মার্চের ভাষন অনুযায়ী আপনি আপনার নিজের ঘরে দুর্গ গড়ে তোলেন নি। আপনার পিতা সবাইকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে লড়াই করার কথা বললেও, তিনি নিজে সেটা করেন নি। তারপরেও আপনি নিজেকে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার রেকর্ড বাজিয়ে চলেছেন। তাহলে আপনি কেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের বিপক্ষে বলছেন, যেমন, এ.কে. খন্দকার, কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ। আমার পিতার কথা আমি নাই বা বললাম। আপনারা তাকে তো পাকিস্তানী গুপ্তচর বলছেন। ছিঃ। মিথ্যা ও অসত্যতার একটা সীমা থাকা উচিত। ছিঃ। আমার প্রশ্ন, এ.কে. খন্দকার, তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন, প্রমুখ কেন লিখছেন ও কেন বলছেন? সেটা কি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আপনার ননস্টপ মিথ্যাচারের প্রতিবাদ? এই প্রশ্নের উত্তর কি?

১০ আপনি দাবি করেন আপনি সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই যদি হবে তাহলে আপনার চারপাশ ঘিরে এত নিরাপত্তা বলয় কেন? আপনার বাসভবন, গণভবন, কারা পাহারা দেয়? ওই বিদেশি চেহারার ও পিকিউলিয়ার ইউনিফর্ম পরা গার্ডরা কারা? আপনি কি জানেন, রাত এগারোটার সময়ে যখন আপনার বাড়ির সামনের উত্তরমুখী লেইনটি বন্ধ করে শুধু দক্ষিণমুখী লেইনটি খোলা রাখার ফলে প্রতি রাতেই যে বিশাল যানজট হয় তখন হতভাগ্য বাস ও কোচ যাত্রীরা আপনাকে কি ভাষায় গালি দেয়? প্লিজ, জেনে নিন। আপনি কি জানেন, যখন গণভবন থেকে আপনি প্রধানমন্ত্রী দফতরে আসা-যাওয়া করেন, তখন ফার্মগেট ও সংলগ্ন এলাকায় হাজার হাজার আটক বাসযাত্রী আপনাকে কোন ভাষায় সম্বোধন করে? প্লিজ, জেনে নিন। তারা সবাই সবশেষে একটি প্রশ্ন করেন, বেটি কবে যাবে? আমারও শেষ প্রশ্ন সেটি। তবে আমি আপনাকে কখনোই বেটি সম্বোধন করবো না। আপনি মাতৃতুল্য। সেই সম্মান জানিয়ে আমি প্রশ্ন করব, আমার মা যেমন প্রাইভেট সিকিউরিটিতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আছেন, বুলেট প্রুফ গ্লাস ছাড়া ভাষণ দিচ্ছেন, – আপনি কি পারবেন একটি দিন, মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা, সরকারি সিকিউরিটি ছেড়ে দিয়ে প্রাইভেট সিকিউরিটিতে থাকতে? সুতরাং সাহসের বড়াই আপনি করবেন না। বরং সরাসরি শেষ প্রশ্নটির উত্তর দিন – আপনি কবে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সাধারণ নির্বাচন দেবেন? যে নির্বাচনে আপনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, যিনি এখন টৃকি ইমাম নামে কুখ্যাত হয়েছেন এবং অন্যান্য কুচক্রীদের কোনো হাত থাকবে না। যে নির্বাচন হবে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।
সবশেষে একটি বিনীত অনুরোধ করবো। চলতি বছরে বাংলাদেশি বংশউদ্ভূত নারী মিজ প্রিয়তি মিজ আয়ারল্যান্ড রূপে নির্বাচিত হয়েছেন। হয়তো সেই কারণে যুবলীগ ঈর্ষান্বিত হয়ে আপনাকে মিজ বাংলাদেশ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাই আপনার দফতর থেকে শুরু করে আপনার বাসভবন পর্যন্ত এবং আরো বহু স্থানে আপনার বহুরূপী শত শত বিলবোর্ড লাগিয়েছে। এ বিষয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি ও টক শোতে বহু কথা হয়েছে। কয়েকটি বিলবোর্ডে আপনার নিহত পিতার করুণ ছবির পাশে আপনার হাস্যোজ্জ্বল ছবি আকা হয়েছে। আপনি কি পারেন না, একদিন, দফতর থেকে বেরিয়ে নিজের হাতে অন্তত একটি বিলবোর্ড ছিড়ে ফেলতে? যুবলীগ আপনার দেহের সম্মুখ অংশের ছবি একেছে। দেশের মানুষ এখন আপনার দেহের পৃষ্ঠদেশ দেখতে চায় – অর্থাৎ দেশের মানুষ এখন দেখতে চায় আপনি চলে যাচ্ছেন। কিন্তু সেটা তারা চায় একটা অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও নির্বাচনের মধ্যে ঘটুক। তাই আমার শেষ প্রশ্নটি আবারও করছি। আপনি কবে সুষ্ঠু স্বচ্ছ নির্বাচন দেবেন এবং আপনি কবে যাবেন?

ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউশন।
১৯ নভেম্বর ২০১৪
বেলা তিনটা

[লেখকের নিজস্ব ভাষারীতি অনুসরণ করা হল]

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *