বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৫০ রানে হেরেছে পাকিস্তান। এর ফলে দুই ম্যাচ হেরেই অস্বস্তিতে পড়েছে মিসবাহবাহিনী।
খেলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৫০ রানে হেরেছে পাকিস্তান

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৫০ রানে হেরেছে পাকিস্তান। এর ফলে দুই ম্যাচ হেরেই অস্বস্তিতে পড়েছে মিসবাহবাহিনী। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৫০ রানে হেরেছে পাকিস্তান। এর ফলে দুই ম্যাচ হেরেই অস্বস্তিতে পড়েছে মিসবাহবাহিনী।

শনিবার সকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেয়া ৩১১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। ১০.৩ ওভারে ২৫ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাটফুটে চলে যায় তারা।

পাকিস্তানের হয়ে উদ্বোধন করতে নামেন আহমেদ শেহজাদ এবং নাসির জামসেদ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই জামসেদকে ফেরান জেরম টেইলর। আর শেষ বলে ফেরান ইউনুস খানকে।

এক রানে দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে হারিস সোহেল আউট। এবারো পাকিস্তানের জন্য ঘাতক টেইলর।

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে আহমেদ শেহজাদকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন জ্যাসন হোল্ডার। ফলে, এক রানেই চার উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যায় পাকবাহিনী।

বিপদের এই মুহূর্তে পাকিস্তান দলের ত্রাণকর্তা হিসাবে হাল ধরেন সোয়েব মাকসুদ ও উমর আকমল। দুজন ধীরে ধীরে দলকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন।

কিন্তু ইনিংসের ২৫.৩ তম ওভারে ড্যারেন স্যামির বলে সুলেমান বেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাকসুদ। আউট হওয়ার আগে তিনি অর্ধমত (৫০) রান পূর্ণ করেন। ৬৬ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছয়ের মার।

পরে শহীদ আফ্রিদি এসে উমর আকমলের সঙ্গে যোগ দেন। কিন্তু দলীয় ১৩৯ রানে উমর আকমল আউট হয়ে গেলে পাকিস্তানের একেবারে খাদে পড়ে যায়। ৫৯ রান করা উমর আকমল বল মোকাবেলা করেন ৭১টি।

এরপর শহীদ আফ্রিদি ব্যক্তিগত ২৮ রানে আউট হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। এর ফলে ১৫০ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্যারিবিয়রা।

এর আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক।

ক্যারিবিয়দের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে আসেন ক্রিস গেইল এবং ডোয়াইন স্মিথ।

পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ক্যারিবিয় ওপেনার ক্রিস গেইলকে ফেরান মোহাম্মদ ইরফান। পাক এ পেস বোলারকে তুলে মারতে গিয়ে দলীয় ১৭ আর ব্যক্তিগত ৪ রান করে ওয়াহাব রিয়াজের তালুবন্দি হন তিনি।

ইরফানের পর ক্যারিবিয় শিবিরে আঘাত হানেন সোহেল খান। ডোয়াইন স্মিথকে হারিস সোহেলের তালুবন্দি করেন সোহেল খান। স্মিথ আউট হওয়ার আগে করেন ২৭ বলে ২৩ রান।

ক্রিস গেইল, ডোয়াইন স্মিথের পর সাজঘরে ফেরেন মারলন স্যামুয়েলস। হারিস সোহেলের বলে ৫২ বলে ৩৮ রান করে ইয়াসির শাহর তালুবন্দি হন স্যামুয়েলস।

আর পায়ের মাংসপেশীতে টান পড়ায় ৪৯ রান করে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ডোয়াইন ব্রাভো।

ব্রাভো না থাকলেও রানের চাকা সচল রাখেন দিনেশ রামদিন। তবে, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম (৫১ রান) অর্ধশতক হাঁকিয়ে হারিস সোহেলের বলে ইয়াসির শাহর দ্বিতীয় ক্যাচে ফেরেন রামদিন।

৪৪ বলে ৬৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন স্যামি এবং সিমন্স। স্যামি ৩০ রান করে ফিরলেও সিমন্স ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে করেন ৫০ রান।

শেষ দিকে ব্যাটে ঝড় তুলে মাত্র ১৩ বলে ৩টি চার আর ৪টি ছয়ে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন আন্দ্রে রাসেল।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১০ রান সংগ্রহ করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৩১০/৬, ওভার ৫০ (রামদিন ৫১, সিমন্স ৫০, ব্রাভো ৪৯ রিটায়ার্ড হার্ট*, রাসেল ৪২*, স্যামুয়েলস ৩৮; হারিস ২/৬২)

পাকিস্তান : ১৬০/১০, ওভার ৩৯ (উমর আকমল ৫৯, মাকুসদ ৫০, আফ্রিদি ২৮; টেলর ৩/১৫, রাসেল ৩/৩৩)

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫০ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : অ্যান্ড্রে রাসেল

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *