হুমায়ূন আহমেদ শূন্যতার ৫ম বার্ষিকী আজ

হুমায়ূন আহমেদ শূন্যতার ৫ম বার্ষিকী আজ

750
0
SHARE

বাংলা গদ্য সাহিত্যের রাজপুত্র, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো
চলে এসো এক বরষায়
এসো ঝরঝর বৃষ্টিতে
জলভরা দৃষ্টিতে
এসো কোমল শ্যামল ছায়ায়

বাংলা গদ্য সাহিত্যের রাজপুত্র, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রকাশকরা নুহাশ পল্লীতে কথাশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়ে’ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদকে বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যেরও পথিকৃৎ বলা হয়।

নাট্যকার হিসেবে যেমন নন্দিত চলচ্চিত্রকার হিসেবেও তেমনই সমাদৃত। বাংলা কথাসাহিত্যের সংলাপ প্রবণে নতুন শৈলীর জনক হুমায়ুন আহমেদের দুই শতাধিক গ্রন্থের বেশকিছু পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার গ্রন্থ।
বাবার চাকরির সূত্রে তার শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। দেখেছেন বহু মানুষ এবং তাদের জীবনানুভূতি। এর ফলেই হুমায়ুন আহমেদের লেখায় উঠে এসেছে বাঙালি মধ্যবিত্তের নানা সংকট বিচিত্র জীবনযাপন আর হৃদয়ের টানাপড়েন।

লেখাপড়া বগুড়া জেলা স্কুল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও সবকিছু ছেড়ে লেখালেখি নাটক আর চলচ্চিত্র নির্মাণই হয়ে ওঠে তার নেশা ও পেশা।

লেখাপড়া বগুড়া জেলা স্কুল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও সবকিছু ছেড়ে লেখালেখি নাটক আর চলচ্চিত্র নির্মাণই হয়ে ওঠে তার নেশা ও পেশা।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
দেয়াল, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, জোছনা ও জননীর গল্প, বহুব্রীহি, গৌরীপুর জংশন, দ্বিতীয় মানব, মধ্যাহ্ন এবং হিমু-সংক্রান্ত প্রায় ২৪টি সিরিজ উপন্যাস। তার মিসির আলী-সংক্রান্ত উপন্যাসও রয়েছে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে।

আত্মজীবনী
বল পয়েন্ট, কাঠপেন্সিলসহ প্রায় আটটি গ্রন্থ। উল্লেখযোগ্য টিভি নাটক- এইসব দিন রাত্রি, কোথাও কেউ নেই, অয়োময়, নক্ষত্রের রাত, বহুব্রীহি, আজ রবিবার তারা তিনজন।
চলচ্চিত্র : আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া, ঘেটুপুত্র কমলা।

চলচ্চিত্র
আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া, ঘেটুপুত্র কমলা।

কোটি হৃদয়ের ভালোবাসায় সিক্ত হুমায়ুন আহমেদ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, শিশু একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদক, বাচসাস পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার।

হুমায়ুন আহমেদ নিজের পুরনো নাটক, সিনেমা দেখতে এবং নিজের লেখা বই পড়তে ভালোবাসতেন। নিউ ইয়র্কে থাকার সময় নিজের নাটক নিমফুল দেখে বলেছিলেন, এ নাটকটি নতুন করে বানালে আরও সুন্দর করতে পারতাম।

হুমায়ুন আহমেদ নানাভাবে মজা করতে ভালোবাসতেন। বেঁচে থাকতে নিজের কুলখানির আয়োজন করে বন্ধুদের খাওয়াতে চেয়েছিলেন। এটা করতে পারলে তিনি খুব মজা পেতেন।

বাংলা সাহিত্যের কথামালায় কিংবা রূপালি পর্দায় নিজস্ব এক ঢং ছিলো, হুমায়ূন আহমেদের। মনের ভেতরের সব কথা উগলে বেরুতো, বইয়ের পাতায়। যাতে পাঠক নিজেকেই দেখতে পেতেন। বলা হয়ে থাকে, অনেকেই বই পড়ায় আগ্রহী হয়েছে, তার সাহিত্যের মাধ্যমে।

এছাড়া, তার লেখা কাহিনীর বর্ণনা সহজ হওয়ায়; নাটক-সিনেমা নির্মাণে জটিলতা কমে যেতো অনেকখানি।

হুমায়ূন আহমেদ, কথার যাদুকর। লেখায় সহজ-সরলতাই ছিলো যার অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য। জন্ম, নেত্রকোনায়। তখন নাম দেয়া হয়, শামসুর রহমান কাজল। তবে, বাবা তা পাল্টে রাখেন, হুমায়ুন আহমেদ। রসায়ন শাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ কোরে বেছে নেন, শিক্ষকতা। প্রথমে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পরে যোগ দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে।

তবে, শিক্ষাজীবনেই ‘নন্দিত নরক’ উপন্যাস দিয়ে নজর কাড়েন পাঠক মহলের। গল্প উপন্যাসের এই সংখ্যাটা ছাড়িয়ে যায়, দু’শো’। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলা বই পড়া পাঠকের সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদ, নাটক তৈরি করেছেন, শতাধিক। এছাড়া, অনেক গুণী নির্মাতাও কাজ করেছেন, তার গল্প-উপন্যাস নিয়ে। ৮টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরের মতে, এতে মানব জীবনের সূক্ষ্মতম বিষয় উঠে এসেছে, অবলীলায়। গানের প্রতি ছিলো তার অসম্ভব টান। প্রায়ই নুহাশপল্লীতে বসতো গানের আসর। নিজেও লিখেছেন বেশ কিছু। তিন বছর হলো, প্রিয় হুমায়ূন চলে গেছেন, পরপারে। তারপরও, বাংলা বইয়ের পাঠকের কাছে এখনও তিনি একান্ত আপনজন।

শুনেছি একদা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে কলকাতার বাঙলা সাহিত্যের বোদ্ধা মহল নানাধরণের মশকরায় মেতে থাকতো। বাঙলা সাহিত্যের সম্মান ক্লাশে অধ্যাপকেরা রবীন্দ্র রচনা তুলে ধরে ছাত্রদেরকে নাকি বলতেন শুদ্ধ বাঙলায় লিখে দিতে। আহা এই অঞ্চলের সাহিত্য প্রচারককে নিয়ে কি ভয়াবহ মশকরা! এই সময়ে এসে ভাবা যায় এমনটা? শুধু তাই না, তাঁকে নাকি ‘বাকবাকুম কবি’ বলতেও কোলকাতাবাসীদের মুখে বাধতো না। কিন্তু এই দুরাবস্থা আর টিটকিরি হতে কলকাতার সাহিত্য সমালোচকদের হাত থেকে কবি রবীন্দ্রনাথের বেশকিছুটা নিষ্কৃতি ঘটেছিল তাঁর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর।

আফসোসের ব্যাপার হচ্ছে, কলকাতাসহ গোটা বাঙালি সাহিত্য সমাজ রবীন্দ্রনাথকে বুঝলো বৈদেশে মূল্যায়িত হওয়ার পরে, আগে না। গঠনগত সমালোচনা সাহিত্যেরই অংশ, অথচ সপ্রকাশ্যে নোবেল পাওয়ার পূর্বে যারা রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করতেন পরবর্তীতে কিন্তু এমনটি শুনা যায়নি যে সিরিয়াস সাহিত্যের অঙ্গন যাকে বলে, সেখানে তাঁর সৃষ্টিকে কেউ অশ্রদ্ধা কিংবা অস্বীকার করছেন; এর কারণ হতে পারে সমালোচকদের মেরুদণ্ডহীনতা।কবি’র নোবেল প্রাপ্তি আর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর সমলোচকদের অবস্থান হয়ে গেলো নড়বড়ে। কারণ তারাতো গঠনগত আঙ্গিক মেনে রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করেনি কখনো। কারো পুরষ্কার পাওয়া না পাওয়া এদের কাছে ছিলো বিচারের একমাত্র মানদণ্ড।

জনপ্রিয়তা, পাঠকপ্রিয়তা, কিংবা বাঙালি মধ্যবিত্তের প্রেম, অবৈধ প্রেমে উসকে দেয়ার অসংখ্য যুক্তিহীন যুক্তি ছিলো এদের ছুতা মাত্র! তাইতো দেখাগেলো যে, অজর অক্ষর অধ্যাপকশ্রেণির মধ্যে যারা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কুতর্কের দোকানদারী খুলেছিলো, এই তারাই আবার নোবেল প্রাপ্তির পর কবি’র মুরিদ হয়ে গেলেন। রবীন্দ্রনাথকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখতে লাগলেন। এই কথাগুলো এইজন্যই বলা, মানে চাইছিলাম সমালোচকদের চারিত্র্যটা অন্তত আমার সামনেই স্পষ্ট হউক। তাহলে হুমায়ূন সমালোচকদের নিয়ে কথা বলতে সুবিধে হয়।বাঙলা সাহিত্যের স্রষ্টাস্থানীয় ব্যক্তিত্ব স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকে যেখানে সমালোচনার নাগপাশ সহ্য করতে হয়েছে, সেখানে হুমায়ূন আহমেদ কোন ছাড়! তাছাড়া তিনিতো আরো নিজেকে সাহিত্যের বাহিরের একজন দাবী করতেন জনপ্রিয়তা এবং পাঠকপ্রিয়তা অর্জনকারী হুমায়ূন।

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে দেখা যায় অনেককে চিতবাক করতে। অজর, অক্ষর অধ্যাপকদাঁত খিচিয়ে বলতে থাকেন ‘হুমায়ূন কোন লেখক-ই না’, আবার কেউ লেখক হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও বলেন ‘বাজারী লেখক’, অথবা মোটা ফ্রেমের চশমা পড়া বুদ্ধিজীবী মানুষটিতারইন্টিলেকচুয়ালিটি বজায় রেখে কথার মধ্যে এক ধরণের ঘোর সৃষ্টি করে বলেন ‘জনপ্রিয়তা কখনই সাহিত্যের মাপকাঠি ছিল না’ কিংবা যে ম্যাডামটি ঘরে বসে একটুফুরসত পেলেই হুমায়ূন আহমেদ কিংবা সিনেমা বা নাটক নিয়ে বসেন তিনিও ক্লাশে এসে অধ্যাপক স্যারদের পা’খানা অনুসরণ করে হুমায়ূনের গুষ্টি উদ্ধার করেন।হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্যের কেউ না ( এটা অবশ্য তিনি নিজেও বহুবার বহু জায়গায় বলেছেন), সাহিত্যে তার অবদান আছে বা নেই সেটা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে বাংলাদেশের যুদ্ধোত্তর প্রজন্মের কাছে ১৯৭১ এর বাংলাদেশকে যেভাবে তিনি উপস্থাপন করে গেছেন তার সময়কালে এতো বাস্তব আর জীবন্ত করে আর কেউ তা করতে পারেনি, আর ভবিষ্যতে যদি এমনটি কারো মাধ্যমে ঘটে সেটা হবে হুমায়ূন আহমেদ সংক্রামিত।

৭১’এ বাবা ফয়জুর রহমান পাকবাহিনীর হাতে নিহত হওয়ারপরদুই ভাই, তিন বোন এবং মাকে নিয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয় সন্ধানে ঘুরেছেন, দুর্বিষহ যাপিত জীবনকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছেন, ৭১ এ বাংলাদেশের মানুষের নিদারুণ কষ্টভোগ , নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে গন্তব্যহীন যাত্রা হুমায়ূন আহমেদ যেমন স্বচক্ষে দেখেছেন তেমনি নিজেও এই করুণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পাড় করে এসেছেন।তার এই সরাসরি সঞ্চিত অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞানই যেন ‘জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প’ ‘১৯৭১’ ‘মধ্যাহ্ন ’ ‘শ্যামল ছায়া’ কিংবা ‘আগুনের পরশমণি’ ইত্যাদির মধ্যে প্রোথিত।

একবিংশ শতাব্দির প্রথম দশকে যে তরুণ তরুণীটির জন্ম সেও হুমায়ূন আহমেদের রচনার মধ্য দিয়ে যে ‘৭১ এর রণাঙ্গনের প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে উঠে। সেটা তার সিনেমার চিত্রায়ন দেখে হউক কিংবা হউক মুক্তিযুদ্ধের রচনা পাঠ করে ।যুদ্ধোত্তর প্রজন্মকে তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে বরাবরই অনুপ্রানিত করেছেন স্বদেশ ও স্বজাত্যবোধ সম্পর্কে সচেতন হতে।৭১’ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন এবং স্বৈরাচার সরকারের হাওলায় হাস্যকর ও অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ঐ দোসরদের হাতেই এ দেশের সর্বোচ্চরাষ্ট্রীয় পদক ’স্বাধীনতা পুরষ্কার’ তুলে দেয়ায় তিনি যেমন ব্যথিত হয়েছেন তেমনি এই বিষয়টিকেও তাঁর লেখায় করুণভাবে তুলে ধরেছেন। ‘জলিল সাহেবের পিটিশন’ লিখে এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে জলিল সাহেবের মত অসংখ্য ছেলে হারানো পিতাকে জাগিয়েছেন , উদ্ভুদ্ধ করেছেন।বহু সংঘ পরিষদ দেশ ব্যাপী যে চেতনার প্রতিবাদ, সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে ৭১এর শকুনদের বিরুদ্ধে তা যেন হুমায়ূন সৃষ্ট জলিল সাহেবের পিটিশনের বিস্তৃত রূপ।প্রকাশকের চাপে প্রচুর পরিমাণ বাজারী বই লিখেছেন সত্য, এবং একথা মাথায় রেখেই বলছি, তাইবলে তাই এক ঝটকায় হুমায়ূন আহমেদকে ফেলে দেয়া কোনো কাজের কথা না।

হুমায়ূন আহমেদে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই কথাশিল্পী মৃত্যুর তিন দিন পর ২৪ জুলাই নিজের গড়া নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় শায়িত হন তিনি। মৃত্যুদিনে তাকে স্মরণ করার পাশাপাশি তার সৃষ্টিকেও স্মরণ করে অনুরাগীরা।

Comments

comments