নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপিত

বরেণ্য কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমদের ৬৬তম জন্মদিন পালিত হলো গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে।

বরেণ্য কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমদের ৬৬তম জন্মদিন পালিত হলো গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে।বরেণ্য কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের ৬৬তম জন্মদিন পালিত হলো গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে। বৃহস্পতিবার লেখকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ,মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ভক্ত শোভার্থীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে লেখকের জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আহমেদের ৬৬তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ভোর চারটার সময় নুহাশ পল্লীতে আসেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

সকাল ৭টার দিকে তিনি জবা-গাঁদা ফুল দিয়ে স্বামীর কবর জিয়ারত করেছেন। এসময় তার বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী,দু’ছেলে নিষাদ ও নিনিদ ছাড়াও নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় নিষাদ-নিনিদও তার বাবার কবরে ফুল দেয় এবং অন্যদের সঙ্গে দু’হাত তুলে বাবার জন্য দোয়া করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে স্যারের কবরের চারপাশে ১২০০ মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কাটা হয়। হুমায়ুন স্যার জীবিত থাকাকালে যেভাবে বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে কেক কাটতেন ঠিক তেমনভাবে তার কেক কাটা হয়। সকাল আটটার দিকে শাওন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নূহাশ পল্লীর ভেতরে সকাল থেকেই গানের আসর বসে।  কী ঘুমে ঘুমাইয়া রইলারে মাটির ঘরে যাইয়া হুমায়ুন স্যার, লিচুতলায় যাইয়া, তোমার জন্য কান্দে সবাই আত্মহারা হইয়ারে……..। কথা সাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত মোশারফ হোসেন তার নিজের রচিত গানের এ কলিগুলো একের পর এক গেয়ে চলেছেন।

মোশারফের গান শুনতে নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় গানের আসরে যোগ দেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অসংখ্য হুমায়ূন ভক্ত। একের পর এক চলে হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের গান। ভক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারাও সুর মেলায় নুহাশ কান্দে, নিষাদ কান্দে, কান্দে তোমার ভক্ত-তোমার জীবদ্দশায় যারা ছিল তোমার কর্মের আসক্ত……..।

ঢাকা থেকে আসা শিশু অধিকার বাস্তবায়ন বিষয়ক বেসরকারী সংস্থা এ্যড্রা বাংলাদেশের শিক্ষক শিল্পী বাড়ৈ ও পাপড়ী বাড়ৈ জানান, হুমায়ূন আহমেদকে খুব কাছে রেখে তার জন্মদিন পালন করতেই এখানে আসা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী খাইরুল বাসার, সাদিয়া সুলতানা, সানজিদা আলম, অমিত হাসান বলেন, তাদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করতে নুহাশ পল্লীতে আসেন।

তারা দাবি করেন, দিবসটি উপলক্ষ্যে হুমায়ূনের শোবার জায়গাটিতে যেভাবে মৃত্যু দিবস পালন করা হয় তেমনিভাবে জন্মদিবসটিও পালন করা উচিত। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের যে প্রত্যাশা ছিল তা এখানে নেই। হুমায়ূন স্যারের বিভিন্ন বই নিয়ে মেলা, তার পছন্দের গান পরিবেশনা সর্বোপরি তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আমাদেরকেই ব্যাপক আয়োজন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *