‘হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না’

‘হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না’

12
0
SHARE

‘হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না, হবেও না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের অধিকারও ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশে বিশাল সমাবেশে দাঁড়িয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের কথায় কান না দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনে লক্ষ্যে ভূমিকা রাখুন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো ইভিএম ব্যবহার করা চলবে না।

তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের অধিকারও ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার।

মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম হত্যা করছে। তাদের ওপর নানা রকম জুলুম করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে গুম, খুন ও নির্যাতন বেড়ে গেছে। তারা দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জনগণ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। আর সেই মুক্তির লক্ষ্যেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আওয়ামী লীগের জুলুম ক্ষমা করে দেয়া হবে। কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না বিএনপি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বিচারবিভাগকে পুরোপরি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই অন্যায়ভাবে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং তা করা হয়েছে বিদেশে সরকারের এজেন্সির লোক পাঠানোর মাধ্যমে। এ কারণে তিনি দেশে আসতে পারেননি। ফলে দেশ আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

সমাবেশে তরুণরা তখন বক্তৃতা শুনছিলেন, স্লোগানও দিচ্ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তারা (সরকার) বলেছিল ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। তোমরা কি ঘরে চাকরি পেয়েছ? চাকরি পাও নাই? ঘরে ঘরে চাকরি দিবে বলেছিল, পারে নাই। ঘরে ঘরে বেকার সৃষ্টি করেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ভয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারি চাকরিজীবীদের ভয় দেখাচ্ছে। তারা বলছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি চলে যাবে। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কারো চাকরি কেড়ে নেবে না। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা দেখা হবে। কারো চাকরি খাওয়া হবে না। এবিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে- বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানুষ হত্যা করবে। আমরা মানুষ হত্যা করি না, মানুষ হত্যা করে আওয়ামী লীগ। এটা আওয়ামী লীগের কাজ, বিএনপির নয়।

এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাবেশ সফল যেন না হয় এজন্য অনেক বাধা দেয়া হয়েছে। এমনকি আমিও যাতে আপনাদের সামনে পৌঁছাতে না পারি এজন্য গুলশানে বাস দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়।

তিনি বলেন, এই হলো সরকারের অবস্থা। এরা যে কত ছোট মনের তা প্রমাণ করে দিয়েছে। এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। এ জন্য বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ছেলেদের প্রতিনিয়ত সরকার জেলে পুড়ছে।

এর আগে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌছালে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সমাবেশস্থল।

এর আগে দুপুর ২টার পর গুলশানের ‘ফিরোজা’ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওনা দেয় বলে জানান বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান।

প্রায় দুই বছর পর প্রকাশ্য সমাবেশে খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে।

বাস চলাচল সকাল থেকে হঠাৎ বন্ধ
ঢাকামুখী বাস চলাচল আজ সকাল থেকে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল পথে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এতে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন যাত্রীরা। বাইরে থেকে আসা গাড়ি যাত্রীশূন্য করে সড়কে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও পাওয়া গেছে। অন্য সময় বাস না চললেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পো বা লেগুনা চলাচল করে থাকে। সকাল থেকে এগুলো পাওয়াও কঠিন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এদিকে রাজধানী ও আশপাশের জেলাশহরে থমকে গেছে জনজীবন। সর্বত্রই যেন অঘোষিতভাবে পরিবহন ধর্মঘট চলছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে তালা
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষে জনসভা থেকে বের হতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশস্থল থেকে টিএসসি, কালীমন্দির ও শাহবাগ এলাকার গেট দিয়ে বের হতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

কারণ জানতে চাইলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বলছেন যে উপরের নির্দেশ আছে, সবাইকে মৎস্যভবন এলাকার গেট দিয়ে বের হতে হবে। তাই উপায় না দেখে অনেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তালা ঝুলানো গেটের ওপর দিয়ে, অনেকে পাশের দেয়াল টপকে বের হচ্ছেন। অনেকে প্রতিবাদ করলেও কোনো ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মৎস্যভবন এলাকার গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই তারা গেটে তালা লাগিয়েছেন। আর এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

সমাবেশে খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই টিএসসিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। ধারণা করা হচ্ছে কোনো প্রকার ঝামেলা এড়াতেই পুলিশ এই তিনটি গেট দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বের হতে দেয়নি।

Comments

comments