প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিহ্বা সামলে কথা বলতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
জাতীয়

শেখ হাসিনাকে জিহ্বা সামলাতে বললেন খালেদা জিয়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিহ্বা সামলে কথা বলতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিহ্বা সামলে কথা বলতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর আগে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘ কুপুত্রকে জিহ্বা সামলে কথা বলতে বলেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আগে আপনার মুখ সংযত করুন। ছাত্রলীগ, গুন্ডালীগকে থামান। আমরা সত্যকথা বলি, তথ্যভিত্তিক কথা বলি।বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের জাতীয় কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষে এ কনভেনশনের আয়োজন করে ৯০’র ছাত্রঐক্য।

খালেদা জিয়া বলেন, তারা আমাদেরকে নিয়ে বলতে বলতে এখন মুখ আর সামলাতে পারছে না। বিদেশিদেরকে নিয়েও আজেবাজে মন্তব্য করে বসছে। তাই আগে আপনাদের মুখ সামলান।

তিনি বলেন, হাসিনা বাংলাদেশকে গিলে খেয়েছে। হাসিনা যে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ৫ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি। আর যদি ২০০৮ সালের কথা ধরি- সেটাও ছিল ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের দয়ার ফসল।

তিনি বলেন, জনগণ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই আমরা অর্থাৎ ২০ দলীয় জোট ও অন্যান্য দলগুলো নির্বাচনে না যাবার সিদ্ধান্ত নেই।

তিনি বলেন, জনগণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছে। ভোট কেন্দ্রে কুকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রধানের ভাষায় এটা ‘কুত্তা মার্কা’ নির্বাচন হয়েছে।

এ সরকার সম্পূর্ণভাবে অবৈধ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এটা একটা অবৈধ পার্লামেন্ট। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরা সেখানে বসেছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশটাকে খেয়ে ফেলছে। এরা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। তাই আপনারা অতীতের মতো আবার রাজপথে নেমে আসুন। আন্দোলন গড়ে তুলুন। ’৯০এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তোমরাই ছিলে আমার শক্তি ও সাহস। এখন আমার বয়স হয়েছে, তোমাদেরও বয়স হয়েছে। তবে বয়স হলে কি হবে সাহস এখনও আছে। আর সাহস থাকলে বিজয় আমাদের হবেই।

যে কোন সময় আন্দোলনে ডাক আসতে পারে জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শুধু ঢাকা সিটিকে দায়িত্ব নিলে হবে না। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আন্দোলনে ডাক আসলে রাজপথে নেমে আসতে হবে। শুধু স্লোগান দিলে হবে না। গুলি ও টিয়ারশেল উপেক্ষা করে মাঠে থাকতে হবে। যে কোন সময় আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে।

সুন্দরবনের ঘটনা পরিকল্পিত দাবি করে তিনি বলেন, সরকার একে একে দেশের সবকিছু খেয়ে ফেলছে। সবশেষ তাদের শিকার হয়েছে সুন্দরবন। তেলবাহী যে জাহাজটি ডুবেছে সেটাকে ধাক্কা দিয়েছেল যে জাহাজ- সেটি খালি ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সরকার সুন্দরবন ধ্বংসে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে চায়। শুরু থেকেই পরিবেশবিদরা এর বিরোধিতা করে আসছে। আমিও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতা করেছি।

খালেদা জিয়া বলেন, মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার আমার বিরুদ্ধে ৫টি এবং হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা দায়ের করে। অথচ তিনি ক্ষমতায় এসে নিজের সব মামলা প্রত্যাহার করলেও আমার বিরুদ্ধের মামলাগুলো চালু রেখেছে। এভাবে চলতে পারে না। আমার বিরুদ্ধে মামলা চলাতে হলে হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নিজেদের বিবেক দিয়ে বিচার কার্য পরিচালনা করুন। আওয়ামী লীগের কথা শুনে বিচার যদি বিচার করেন- তাহলে জনগণের প্রতি অবিচার করবেন। মনে রাখবেন- এর জন্য আপনাদের আখেরাতে দশগুণ শাস্তি ভোগ করতে হবে।

সাবেক সচিবদের সাথে বৈঠকের প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের বৈধ নাগরিক হিসেবে যে কেউ যে কারো সাথে দেখা করতেই পারে। আর কর্মকর্তাদের সাথে যে বৈঠকের কথা বলা হচ্ছে- তা সম্পূর্ণ ভুয়া। তবে হ্যা, বৈঠক তো হয়ই। আমার সাথে সাবেক অনেক কর্মকর্তারাই আসেন দেখা করতে। অনেকে আমার উপদেষ্টা কমিটিতেও রয়েছেন।

সেদিনের ঘটনা নিয়ে গোয়েন্দারা ভুল তথ্য দিয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনার গোয়েন্দারাও এখন বুঝেছে আপনার সময় শেষ। তাই তারাও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সময় হলে তারাও বেঁকে বসবে।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনি বিডিআরের বিদ্রোহী-খুনিদের নিয়ে বৈঠক করেন, চায়ের দাওয়াত দেন, সন্ত্রাসী জঙ্গিদের সাথে বৈঠক করেন- তাতে কোন অসুবিধা হয় না। আর আমার সাথে কেউ দেখা করতে আসলেই যতো সমস্যা। তাদের চাকরি খেয়ে ফেলতে হবে।

আওয়ামী লীগ দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরা দেশের অর্থনীতি,প্রশাসনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ। একে একে বিদেশে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে রেমিটেন্স কমে যাচ্ছে। দুর্নীতি করে ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এ কনভেনশনের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কনভেনশন পরিচালনা করেন ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, আসাদুজ্জমান রিপন, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আজিজুল বারী হেলাল, সাইফুদ্দিন মনি, আসাদুর রহমান আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।

সম্মেলনে সারাদেশ থেকে তৎকালীন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি, জিএস ও জেলার সভাপতিরাসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *