হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও ঝুঁকি কমানোর উপায়
সাময়িকী

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও ঝুঁকি কমানোর উপায়

অত্যধিক মানসিক চাপ যে কোনও বয়সের ক্ষেত্রে বাড়িয়ে দিচ্ছে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। তবে একটু আগে থেকে সচেতন হলে, সাবধানতা অবলম্বন করা সহজ হয়। জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও ঝুঁকি কমানোর উপায়।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

১. বুকে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো বুকের বামদিকে মাঝে মাঝেই ব্যথা হওয়া। বুকে ব্যথা হলে বিষয়টি কখনো এড়িয়ে যাবেন না। মাঝেমাঝেই বুকে ব্যথা হলে দেরি না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

২. হাতে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের আগে হাতে ব্যথা হয়। সাধারণত বাম হাতে ব্যথা হয়। তবে ডান হাতেও ব্যথা হতে পারে। এছাড়া বুকের ব্যথা হাতে প্রসারিত হতে পারে।

৩. হাত-পা ফুলে যাওয়া
হাত-পা মাঝেমধ্যেই ফুলে যায় আপনার? এমনটা খেয়াল করলে দেরি না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। এটি হৃদপিণ্ডের সমস্যার একটি লক্ষণ। হৃদপিণ্ডে সমস্যা হলে স্বাভাবিক রক্তচলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়, ফলে হাত-পা ফুলে যায়।

৪. ঘুম ঘুম ভাব
ভালো ঘুম হওয়া সত্ত্বেও কোনো কারণ ছাড়াই আপনার যদি সারাক্ষণ ঝিমুনি পায় তাহলে বুঝবেন হার্টে সমস্যা রয়েছে।

৫. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
যদি আপনার মনে হয় হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, তাহলে সতর্ক হোন। হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণগুলির একটি এটি।

৬. প্রচুর পরিমাণে ঘেমে যাওয়া
পাখার নিচে বসেও যদি দেখেন যে আপনি একেবারে ঘেমে যাচ্ছেন তাহলে বুঝবেন সমস্যা গরম থেকে নয়, হূদযন্ত্রে হয়েছে।

৭. নাক ডাকা
নাক ডাকার সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে ঘুমের মধ্যে অনেক নাক ডাকলে বুঝবেন আপনার নিদ্রাহীনতার সমস্যা হচ্ছে। এর ফলে হার্টে অত্যধিক চাপ পড়ে। ফলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে।

৮. ক্রমাগত কাশি
বহুদিন ধরে যদি কাশির সমস্যা থাকে তাহলে সাবধান হোন। দেরি না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। কারণ ক্রমাগত কাশি হার্টের সমস্যা বয়ে আনতে পারে।

যেসব কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

১. উচ্চ রক্তচাপ।

২. করোনারি হার্ট ডিজিজ।

৩. হার্ট অ্যাটাক।

৪. ডায়বেটিস।

৫. ভলভিউলার হার্ট ডিজিজ (Valvular heart disease‌)।

৬. ভাইরাল ইনফেকশন।

৭. মদ্যপান ও ধূমপান।

৮. স্থূলতা।

৯. অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন।

১০. ডায়াবেটিসের জন্য ব্যবহৃত ঔষধ যেমন রসিগ্লিট্যাজোন (rosiglitazone)- এ্যাভান্ডিয়া (Avandia) এবং পায়োগ্লিটাজোন (pioglitazone)- এক্টোস (Actos) গ্রহণ করা।

১১. রাতে ঘুমানোর সময় দেহের অভ্যন্তরে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট ও হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হওয়া (Sleep apnea)।

১২. জন্মগতভাবে হৃৎপিণ্ডে কোনো ত্রুটি থাকা (Congenital heart defects)।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর উপায়

১.খাবারে লবণ ও চিনির মাত্রা কমাতে হবে। প্রতিদিন ৬ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

২. স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার (যেমন-রুটি, ভাত, আলু ও শস্যদানা থেকে তৈরি পাস্তা), পরিমিত পরিমাণ দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার এবং মাংস, মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাতীয় খাবার বাদে অন্যান্য প্রোটিনের উৎস থাকতে হবে।

৩. দেহের ক্ষতি করে এমন চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৫. বার্ষিক হেলথ চেক-আপ করান।

৬. নিয়মিত ৩০ মিনিট করে যোগাসন করুন।

৭. রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৮. ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *