না ফেরার দেশে কিংবদন্তি ক্রিকেটার হানিফ মোহাম্মদ
খেলা

না ফেরার দেশে কিংবদন্তি ক্রিকেটার হানিফ মোহাম্মদ

না ফেরার দেশে কিংবদন্তি ক্রিকেটার হানিফ মোহাম্মদটেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা ইনিংস খেলা পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার হানিফ মোহাম্মদ (Hanif Mohammad) আর নেই।

বৃহস্পতিবার ৮১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তার ছেলে শোয়েব মোহাম্মদ এই খবর নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের দুনিয়া নিউজকে।

৩ বছর ধরে ফুসফুস ক্যান্সারে ভুগছিলেন ৮১ বছর বয়সি হানিফ। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে তাকে করাচির আগা খান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে রাখা হয়েছিল কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে। কিন্তু এদিন বিকেলে হঠাৎ করে ৬ মিনিট পর্যন্ত কোনো হৃৎস্পন্দনও ছিল না তার। কিন্তু সে সময় ওই অবস্থা থেকে অলৌকিকভাবেই বেঁচে ফেরেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রথম টেস্টসহ মোট ৫৫ ম্যাচ খেলে ৪৩.৯৮ গড়ে মোট ৩৯১৫ রান করেন হানিফ। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৩৭ রানের ইনিংস রয়েছে। ১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বার্বাডোজ টেস্টে পাকিস্তান ফলোঅনে পড়ার পরও তার এ মহাকাব্যিক ইনিংসের সুবাদে দল রক্ষা পায়। হানিফের ৯৭০ মিনিটের এ ইনিংসটি এখনো টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংস। ভারতের গুজরাট প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন হানিফ। দেশ বিভাগের সময় চার ভাইসহ তিনি পাকিস্তান চলে যান। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই-ই পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেন। এমনকি পঞ্চম ভাই রইসও একটি টেস্টে ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন।

হানিফ মোহাম্মদের নাম উঠলে প্রথমে মনে আসে তিনটি শব্দ। তা হলো- ‘প্রকৃত লিটল মাস্টার’ (The original Little Master)। বর্তমানে ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারকে বলা হয় ‘লিটল মাস্টার’। কিন্তু তার আগে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল একজনকেই। তিনি হলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি হানিফ মোহাম্মদ।

তার নামের সঙ্গে যুক্ত আছে তিনটি অসাধারণ ও স্মরণীয় অঙ্ক। সেগুলো হলো ৩৩৭ ও ৪৯৯ রান এবং ৯৭০ মিনিট। প্রতিটিতে জড়িয়ে আছে সম্মান, রোমাঞ্চ ও ইতিহাস।

১৯৫৮ সালে ব্রিজটাউন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ইনিংসে ৯৭০ মিনিট টানা ব্যাটিং করে নিশ্চিত পরাজয় থেকে পাকিস্তানকে বাঁচিয়েছিলেন হানিফ মোহাম্মদ। ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৩৩৭ রান করেছিলেন ওই ইনিংসেই। তার অসাধারণ ও দায়িত্বশীল ইনিংসে পাকিস্তান ছয় দিন লড়াই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। টেস্টটি ড্র হয়েছিল। এ রান করতে হানিফ ১৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের ইনিংসও এটি। বর্তমান টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডের যুগের ক্রিকেটারদের কাছে এ অর্জন ‘রূপকথার’ গল্পের মতোই। কিন্তু হানিফ মোহাম্মদ ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছিলেন ব্রিজটাউনে। ওই ইনিংসের পরই তিনি ‘লিটল মাস্টার’ উপাধি পান।

একই মৌসুমে ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড ভেঙে ৪৯৯ রান করেন হানিফ মোহাম্মদ, যা ৩৫ বছর কেউ ভাঙতে পারেননি। ক্রিকেটের বরপুত্র লারা ১৯৯৪ সালে ৫০১ রান করে হানিফ মোহাম্মদের রেকর্ড ভাঙেন।

১৯৬৮ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন হানিফ মোহাম্মদ। আইসিসির হল অফ ফেমের উদ্বোধনী ৫৫ জন ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলেন এই কিংবদন্তি।

ক্যারিয়ারে বহু বোলারকে জয় করা হানিফ মোহাম্মদ ক্যানসার নামক ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। তবে হাল ছাড়েননি। টানা তিন বছর লড়াই করে বৃহস্পতিবার ‘গুডবাই’ বললেন পৃথিবীকে। ব্যাটিংয়ে তার নিজস্ব রক্ষণাত্মক কৌশলের জন্য সুনাম ছিল তার।

ক্রিকেট ছাড়ার পর দ্যা ক্রিকেটার পাকিস্তান নামের একটি ম্যাগাজিন বের করেন হানিফ মোহাম্মদ। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার পদেও কিছুদিন কাজ করেন তিনি।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন। এক শোক বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘হানিফ মোহাম্মদের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সাথে শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি। এটা অত্যান্ত দুঃখজনক যে, তার মতো এমন একজন ক্রিকেটারকে আমরা হারিয়েছি। তার অভাব অপূরনীয়। তার ব্যাটিং অসাধারণ ছিল, যা এ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *