স্মার্টফোন বাজার: শীর্ষ দশের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্মার্টফোন বাজারের একটি হতে যাচ্ছে

বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্মার্টফোন বাজারের একটি হতে যাচ্ছেআগামী বছর নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্মার্টফোন বাজারের একটি হতে যাচ্ছে বলে মনে করছে খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিএফকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ ধরনের তথ্যই পাওয়া গেছে।

বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও প্রযুক্তিপণ্যের বাজার বড় হচ্ছে। এতে ভূমিকা রাখছে সেলফোন হ্যান্ডসেটের ব্যাপক চাহিদা।

গত বছর বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি সেবা চালু হওয়ার পর দেশে স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে।

স্মার্টফোনের পাশাপাশি কম্পিউটার, ট্যাবলেট পিসি, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ডিজিটাল ক্যামেরা, এলসিডি ও এলইডি টেলিভিশন, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বাড়ছে দেশে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি ও বিক্রিও বাড়ছে।

জিএফকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর শেষে দেশে প্রযুক্তিপণ্যের বাজার দাঁড়াবে ৩৩০ কোটি ডলার। আগামী বছর নাগাদ এটি ৩৮০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বছরটিতে ১৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধি হবে ১৮ শতাংশ। আর এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান বেশ কয়েকটি দেশ।

এ সময়ে শীর্ষ ১০ স্মার্টফোন বাজারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে সাতটি নতুন দেশ, যার অন্যতম বাংলাদেশ।

ভারতভিত্তিক শীর্ষ বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাইবার মিডিয়া রিসার্চের (সিএমআর)এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতের সামগ্রিক আয়ও বাড়বে। ফিচার ফোনের তুলনায় স্মার্টফোনের দাম বেশি হওয়ায় এ আয় বাড়বে।

পাশাপাশি মুনাফা তুলনামূলক বেড়ে যাবে। আর বাজার প্রসারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে, ফলে পছন্দের হ্যান্ডসেট কেনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পাবেন ক্রেতারা। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর শেষে স্মার্টফোনের বাজারে সিম্ফনির অংশ দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এর পর রয়েছে যথাক্রমে ওয়ালটন ও স্যামসাং।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, দেশে স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়ছে। থ্রিজি সেবা চালুর পাশাপাশি বিভিন্ন সুবিধাসংবলিত স্মার্টফোনের দাম আগের তুলনায় কমে আসায় এ ধরনের হ্যান্ডসেটের বিক্রি বাড়ছে।

তিনি বলেন, দেশের ক্রেতারা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন হ্যান্ডসেট কিনতে আগ্রহী। বাজারে এ ধরনের হ্যান্ডসেটের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি গ্রাহক সেবার বিষয়কেও গুরুত্ব দেন ক্রেতারা। এ কারণে বিক্রয়োত্তর সেবা রয়েছে এমন ব্র্যান্ডের তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের হ্যান্ডসেটের বিক্রি বেড়েছে।

বিএমপিআইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে দেশে হ্যান্ডসেট বিক্রি হয় দুই কোটির বেশি। আর আগামী বছর নাগাদ হ্যান্ডসেটের বিক্রি পাঁচ কোটি ছাড়াবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

দেশে স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষস্থানটি আগেই দখলে নিয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনি। বর্তমানে স্মার্টফোন বাজারের অর্ধেকই সিম্ফনির দখলে। আর জিএসএমএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিচার ফোনের ক্ষেত্রে সিম্ফনির দখলে রয়েছে বাজারের ৩৪ শতাংশ, ম্যাক্সিমাসের ৭, নকিয়ার ৬, মাইক্রোম্যাক্সের ৫ ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের দখলে রয়েছে ৪৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছর ৪২ লাখ, ২০০৬-০৭ অর্থবছর ৫০ লাখ, ২০০৭-০৮ অর্থবছর ৬৮ লাখ, ২০০৮-০৯ অর্থবছর ৭৮ লাখ, ২০০৯-১০ অর্থবছর ১ কোটি ২ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছর ১ কোটি ২৮ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছর ১ কোটি ৫০ লাখ ও ২০১২-১৩ অর্থবছর শেষে ১ কোটি ৯৮ লাখ হ্যান্ডসেট আমদানি হয়।

অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে হ্যান্ডসেটের আমদানি। সেলফোন গ্রাহক সংখ্যার প্রবৃদ্ধি হ্যান্ডসেটের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

মূলত ২০০৫ সালের পর থেকে দেশে সেলফোনের গ্রাহক সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটে। এর আগে সেলফোন অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যা এক কোটিরও নিচে ছিল।

২০০৭ সালে তিন কোটি, ২০০৮ সালে চার কোটি, ২০০৯ সালে পাঁচ কোটি, ২০১০ সালে ৬ কোটি, ২০১১ সালে ৮ কোটি, ২০১২ সালে ৯ কোটি ও ২০১৩ সালে ১১ কোটির অঙ্ক ছুঁয়েছে সেলফোনের গ্রাহক সংখ্যা। আর আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ এ সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক নিলামের মাধ্যমে থ্রিজির তরঙ্গ বরাদ্দ নেয় গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল। পরবর্তীতে একই বছরের ৭ অক্টোবর গ্রামীণফোন, ২১ অক্টোবর বাংলালিংক, ৩০ অক্টোবর রবি ও ৭ নভেম্বর এয়ারটেল বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালু করে।

দেশের ছয় সেলফোন অপারেটরের টুজি নেটওয়ার্কে এরই মধ্যে ১১ কোটিরও বেশি সংযোগ যুক্ত হয়েছে। ভয়েস কলের ট্যারিফ ব্যাপক হারে কমানোর পাশাপাশি হ্যান্ডসেটের দাম কমে আসায় টুজি প্রযুক্তির সেবা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে অপারেটররা।

থ্রিজি প্রযুক্তি মূলত ডাটাভিত্তিক সেবাদানের ক্ষেত্রে সহায়ক। থ্রিজি নেটওয়ার্ক উপযোগী সব হ্যান্ডসেটেই ডাটাভিত্তিক সেবা গ্রহণ করা সম্ভব।

আর গ্রাহকদরে এসব চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিম্ফনি ও স্যামসাংয়ের আউটলেটের সংখ্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *