অভিনব সমুদ্র অভিযানে সৌভাগ্যবান মুরগি

অভিনব সমুদ্র অভিযানে সৌভাগ্যবান মুরগি

অভিনব সমুদ্র অভিযানে সৌভাগ্যবান মুরগি, এক অভিযাত্রীর সঙ্গী হয়ে ঘুরছে নানা সমুদ্রে।

মুরগি হয়েছে বলে কি ইচ্ছা বা সাধ নেই? প্রকৃতিকে উপভোগ করার মন নেই? সাগর-নদী ঘুরে দেখার আগ্রহ নেই?

সাধারণত দেশ-সাত সমুদ্র পাড়ি দেয় মানুষ। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি মুরগি। দুই বছর ধরে এই মুরগি এক অভিযাত্রীর সঙ্গী হয়ে ঘুরছে নানা সমুদ্রে।

ইতিমধ্যেই ক্যানারি আইল্যান্ড থেকে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল হয়ে তারা ঘুরে বেরিয়েছে ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে।

সেখানে উত্তর দিকে যাত্রা করে তারা গেছে আর্কটিক সাগরে। এখন তারা আছে গ্রিনল্যান্ডে।

মুরগিটির নাম মনিক (Monique)। আর তার সঙ্গীর নাম গাইরেক সুডি (Guirec Soudée)। ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে তার বাস।

বিশ্ব ভ্রমণের গোড়ার দিকে ২০১৪ সালে ক্যানারি আইল্যান্ডে থেকে সে মনিককে তার জাহাজে ওঠায়।

গ্রিনল্যান্ড থেকে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মজা করে গাইরেক বলছিলেন, জাহাজের অভিযাত্রী তারা দুজন হলেও বেশিরভাগ পরিশ্রম তাকেই করতে হয়।

মনিকের কাজ হলো জাহাজের ডেকে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা।

গাইরেক আরো বলেন, “শুরুতে আমি ভেবেছিলাম এই অভিযানে সঙ্গী হিসেবে একটি বিড়াল নেয়া যায় কি না। কিন্তু ভেবে দেখলাম বিড়াল নেয়ার ঝামেলা অনেক। কিন্তু তার অনেক দেখাশুনা দরকার হবে। কিন্তু মুরগির ক্ষেত্রে সেটা হবে না। আর বাড়তি পাওনা হবে ডিম।”

দিনের বেলা মনিক ৩৯ ফুট লম্বা জাহাজের পুরোটা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ায়। আর রাত হলে কিংবা আবহাওয়া খারাপ থাকলে তাকে তার ছোট্ট ঘরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

গাইরেক বলছেন, “মুরগি হলেও মনিক খুবই সাহসী। তার ভয় ছিলো সমুদ্রের ঢেউ দেখে সে হয়তো ঘাবড়ে যাবে। হয়তো হাজাজ থেকে পানিতে পড়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি।”

এই দুজনের অভিনব সমুদ্র অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ডে যাওয়ার পর সেখানকার লোকজন মনিককে নিয়ে খুবই উৎসাহী হয়ে পড়ে।

কারণ গ্রিনল্যান্ডে কোনো পোল্ট্রি শিল্প নেই। এর পরের দফায় এই দুই অভিযাত্রী সুমেরু সাগর পাড়ি দেবে এবং বেরিং প্রণালী অতিক্রম করে তারা অ্যালাস্কা গিয়ে পৌঁছবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *