দীর্ঘ ৭ বছর বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হল সৌদি আরবের শ্রমবাজার। ২০০৮ সালে বাংলাদেশী শ্রমিক নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি।
জাতীয়

সৌদি আরবের শ্রমবাজার উন্মুক্ত

দীর্ঘ ৭ বছর বন্ধ থাকার পর রবিবার থেকে বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হল সৌদি আরবের শ্রমবাজার। ২০০৮ সালে বাংলাদেশী শ্রমিক নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি।দীর্ঘ ৭ বছর বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হল সৌদি আরবের শ্রমবাজার। ২০০৮ সালে বাংলাদেশী শ্রমিক নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক ফ্যাক্স বার্তায় জানান, সৌদি আরবের রাজকীয় সভা রবিবার বাংলাদেশের ওপর থেকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।

ফলে এখন থেকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এ দেশটিতে শ্রমিক পাঠাতে আর কোনো বাধা রইল না।

দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উপমন্ত্রী আহমেদ এফ আলফাহিদ বিষয়টি টেলিফোনে নিশ্চিত করেছেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর নতুনভাবে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির সরকারি একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছেন বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরবে বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশী বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। ২০০৮ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক যেত দেশটিতে।

সৌদি আরবে এক সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফিরে গত ২৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশটিতে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি জানান।

সৌদি আরবে যেতে কর্মীদের কত টাকা খরচ হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব যেতে শ্রমিকদের প্র্যাকটিক্যালি তেমন কোনো খরচ নেই। চাকরিদাতা লেভি, ভিসা, যাতায়াত এবং মেডিকেলসহ অন্যান্য খরচ বহন করবে।

তিনি বলেন, আগামীতে সৌদি আরব যেতে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশী খরচ হওয়ার কথা নয়। আর এই খরচ হবে যাতায়াত, পাসপোর্ট তৈরি ও অন্যান্য বিষয়ে। রিক্রুটিং এজেন্সির ফিও দিতে হতে পারে।

তিনি তখন বলেন, কর্মী পাঠানো শুরু করার বিষয়ে সৌদি আরবের টেকনিক্যাল এক্সপার্টসহ একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তারা আসার পর সবকিছু চূড়ান্ত হবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, দক্ষ শ্রমিকরাই সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সব সেক্টরেই তারা লোক নেবে। ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে শ্রমিক নেওয়া হবে। যদি তারা ৫০০ শ্রমিক চায়, তাহলে আমরা ১৫০০ শ্রমিকের তালিকা দেব। তিনজন থেকে তারা একজন বাছাই করে নেবে। এ জন্য আগ্রহীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য যারা নিবন্ধিত হয়েছেন তারাসহ অন্য নিবন্ধনকৃতরাও সৌদি আরব যেতে পারবেন বলে মোশাররফ হোসেন জানান।

এ ব্যাপারে জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার বিকেলে  বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরব থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তারা আসার পরই উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনাসাপেক্ষে কীভাবে, কত টাকায় এবং কী পরিমাণ লোক যাবে এ বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *